Wednesday, November 12, 2008

শেরপুরে কৃষি পুনর্বাসনে অনিয়মের অভিযোগে

১২.১১.০৮
সমকাল ।। শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউপি ভবনে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে মঙ্গলবার দুপুরে স্ট’ানীয় কৃষকরা প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরু™ব্দ করে রাখেন। কৃষি পুনর্বাসনের অর্থ বিতরণে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা এ ঘটনা ঘটান। পরে কৃষি স¤ক্স্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম মিয়া উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলি করার আশ^াস দিয়ে জনতার কবল থেকে উ™ব্দার করে আনেন।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, সরকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্টø কৃষকদের পুনর্বাসনে অর্থ বরাদ্দ দেয়। এ বরাদ্দপ্রাপ্টøদের তালিকা তৈরিতে অনিয়ম এবং দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে স্টিèপ বিতরণ করা হয়। এতে ওই এলাকার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্টø প্রাšিøক চাষীরা বঞ্চিত হন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে প্রাšিøক কৃষকরা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে ইউপি ভবনের সামনে পেয়ে ইউপি ভবনে নিয়ে অবরু™ব্দ করে রাখেন।
এ ব্যাপারে কৃষি স¤ক্স্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, নজরুল ইসলাম অন্য একটি তদšেø সেখানে গিয়েছিলেন। তাকে অবরু™ব্দ করা হয়নি।

ভেজাল সারসহ আটক ২

১২.১১.০৮
যায়যায়দিন ।। পীরগঞ্জ (রংপুর) সংবাদাতা
রংপুরে পীরগঞ্জের মাদারগঞ্জ বাজারের নজরুল ইসলামের দোকান থেকে ভেজাল সার আটক করা হয়েছে। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ছেলে মুজাহিদকে (১৪) আটক করা হয়েছে।
এদিকে আরেক অভিযানে সোমবার বিকালে খালাশপীর বন্দরের মিলন সার বিতানে ভেজাল সারের সন্ধান পাওয়া যায়। এ সময় মালিক ইমদাদুল হক মিলনকে (৩০) আটকের পর থানায় সোপর্দ করা হয়।
শেরপুরে দুর্নীতির অভিযোগে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা লাঞ্ছিত শেরপুর প্রতিনিধি শেরপুর সদর উপজেলার ১ নাম্বার কামারেরচর ইউনিয়নের ডুবারচর গ্রামে কৃষি পুনর্বাসনের টাকা বিতরণে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় গ্রামবাসী উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ সময় প্রায় তিনঘণ্টা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালকের হস্তক্ষেপে তাকে উদ্ধার করা হয়। সম্প্রতি সরকার চরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কৃষি পুনর্বাসনের জন্য নগদ টাকা বরাদ্দ করে। এ বরাদ্দ জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৭০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত দেয়া হয়। বরাদ্দপ্রাপ্তদের তালিকাও তৈরি করা হয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে। এতে ওই ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে নগদ দুই থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণ করে একেকজনকে ২০ থেকে ২৫টি স্লিপ বিতরণ করেন। প্রকৃত দুস্থরা কৃষি পুনর্বাসনের টাকা না পাওয়ার আশঙ্কায় তার ওপর চড়াও হয়। এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ওই কর্মকর্তাকে লাঞ্ছনা বা আটক করার ঘটনা সত্য নয়।

চাল উৎপাদন খরচ কেজি প্রতি পাঁচ টাকা বেড়েছে

১১.১১.০৮
সমকাল ।। আশরাফ খান

গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে কৃষকের এক কেজি ধান উৎপাদনে ব্যয় ৩ টাকা ২৪ পয়সা ও এক কেজি চাল উৎপাদনে ব্যয় ৫ টাকা ১১ পয়সা বেড়েছে। সার, সেচ খরচ, কৃষি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। এক কেজি ধান উৎপাদনে কৃষকের উৎপাদন খরচ পড়ছে ১৪ টাকা ১৩ পয়সা, আর চালের ২১ টাকা ৮৪ পয়সা। সরকার ধান, চালের সংগ্রহমহৃল্য বাড়ালেও কৃষকের উৎপাদন খরচ যে হারে বেড়েছে সে তুলনায় যথে®দ্ব নয়। ১৩ লাখ টন মজুদ এবং আšøর্জাতিক বাজারে চাল-গমের দাম উল্কেèখযোগ্যভাবে কমলেও খোলাবাজারে এর কোনো প্রভাব পড়ছে না। চালের খুচরা মহৃল্য গত বছরের চেয়ে ৩৮ ভাগ ও পাইকারি মহৃল্য ৪০ দশমিক ২৫ ভাগ বেড়েছে। খাদ্য অধিদফতর ও কৃষি মšúণালয়ের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা যায়।
কৃষি এবং খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্ট’াপনা মšúণালয় সহৃত্রে জানা গেছে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরের আমন উৎপাদন খরচের প্রাক্কলন অনুযায়ী সার বাবদ একরপ্রতি ৪ হাজার ৬৩৬ টাকা, সেচ ৯০০ টাকা এবং দৈনিক কৃষি শ্রমিক মজুরি ১৩৫ টাকা করে খরচ হয়। চলতি অর্থবছরে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৮ লাখ ২০ হাজার হেক্টর। কৃষি স¤ক্স্রসারণ বিভাগের হিসাব মতে, প্রকৃতপক্ষে আবাদ হয়েছে ৬২ লাখ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর বেশি। ১ কোটি ৩০ লাখ ৪৫ হাজার টন আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হবে বলে তারা গভীর আশাবাদী।
প্রাক্কলন অনুযায়ী কেজিপ্রতি আমন ধানের উৎপাদন খরচ ১৪ টাকা ১৩ পয়সা এবং চালের ২১ টাকা ৮৪ পয়সা। কৃষি মšúণালয়ের হিসাব অনুযায়ী গত বছর আমন ধান ও চাল উৎপাদনের এই খরচের পরিমাণ ছিল যথাত্রক্রমে ১০ টাকা ৮৯ পয়সা ও ১৬ টাকা ৭৩ পয়সা। ২০০৩-০৪ সালে এক কেজি ধান উৎপাদনে কৃষকের উৎপাদন খরচ পড়ে ১২ টাকা ৫৮ পয়সা। সংগ্রহ মহৃল্য ছিল ১২ টাকা ৮০ পয়সা। সংগ্রহ করা হয় ১ লাখ ৪৩ হাজার টন। ২০০৫-০৬ সালে উৎপাদন খরচ পড়ে ১৪ টাকা ৪৪ পয়সা, সংগ্রহমহৃল্য রাখা হয় ১৪ টাকা। মোট সংগ্রহ হয় ৮৩ হাজার টন। ২০০৬-০৭ সালে সংগ্রহমহৃল্য বাড়িয়ে ১৬ টাকা করা হয়। সে বছর কৃষকের উৎপাদন খরচ হয় ১৪ টাকা ৫৮ পয়সা। সংগ্রহমহৃল্য বাড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে সংগ্রহ বেড়ে যায় ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সংগ্রহমহৃল্য আরো ৪ টাকা বাড়িয়ে কেজিপ্রতি ২০ টাকা করা হয়। এবার আরো বাড়িয়ে ২৬ টাকা করা হলেও কৃষকের বর্ধিত উৎপাদন খরচের তুলনায় তা যথে®দ্ব নয়। সারের দাম ™ি^গুণেরও বেশি পড়ায় কৃষক সার কম পরিমাণে ব্যবহার করতে পারে। যার ফলে উৎপাদন কিছুটা হলেও ব্যাহত হওয়ার আশগ্ধকা করছেন সংশিè®দ্বরা।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে অভ্যšøরীণভাবে ১৫ লাখ টন চাল সংগ্রহের সংস্ট’ান রাখা হয়েছে। বোরো চাল আকারে মোট সংগৃহীত হয়েছে ১০ লাখ ৬০ হাজার টন। গত বছরের চেয়ে যা প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টন বেশি। গুদামে রাখার জায়গা না থাকায় নতুন করে আর কোনো চুক্তি না করতে বলা হয়েছে। এ বছর মোট ১২ হাজার ৩৬ মিলের সঙ্গে চুক্তি হয়। এর মধ্যে ৯১ শতাংশই চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ করেছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৫ লাখ টন চাল ও ৮ লাখ টন গম নিয়ে মোট ১৩ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানির সংস্ট’ান রাখা হয়েছে। এছাড়া খাদ্য সাহায্য রয়েছে ৩ লাখ ৭৪ হাজার টন। ভারত থেকে বেসরকারি খাতে প্রায় ১ লাখ টন গমের পুরোটা এ মাসেই আসবে।
সরকার ১ ডিসেল্ফ^র থেকে আমন সংগ্রহ শুরু করবে, চলবে ২৮ ফেব্র“য়ারি পর্যšø। সংগ্রহমহৃল্য স্টি’র করা হয়েছে চাল কেজি প্রতি ২৬ টাকা। এদিকে আšøর্জাতিক বাজারে চাল ও গমের দাম কমতে শুরু করেছে। আগ¯েদ্ব যে গমের দাম ছিল টনপ্রতি ৩৩৮ ডলার গত সপ্টøাহে তা ২৬৪ ডলারে নেমেছে। থাই ভাঙা চালের দাম ৪১২ ডলার। সি™ব্দ চালের দাম এখনো ৬২৫ ডলার। ভারতীয় চালের টন ৬৫০ ডলারই রয়েছে। আšøর্জাতিক বাজারে সি™ব্দ চাল আগ¯েদ্ব ছিল টনপ্রতি ৮২৬ ডলার। অক্টোবরের শেষ সপ্টøাহে ছিল ৬৯১ ডলার।
কৃষি মšúণালয় ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৩২ হাজার টন খাদ্যশস্যের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে। এর মধ্যে আউশ ২৩ লাখ ১২ হাজার টন। আমন ১ কোটি ৩০ লাখ ৯ হাজার টন, বোরো ১ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার টন এবং গম ১০ লাখ টন। গত অর্থবছরে তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট উৎপাদন হয়েছিল ২ কোটি ৯৭ লাখ ৭৪ হাজার টন; বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এখন পর্যšø আমন উৎপাদনের চূড়াšø রিপোর্ট দিতে পারছে না। যে কারণে সরকার এখনো খাদ্য বাজেট চূড়াšø করতে পারছে না।
চালের খুচরা মহৃল্য এখন কেজিপ্রতি ৩০ টাকা ৩৬ পয়সা। গত বছরের তুলনায় ৩৮ ভাগ বেশি। গমের খুচরা মহৃল্য প্রতিকেজি এখন ২৯ টাকা ৩৮ পয়সা, গত বছর এ
সময়ে যা ছিল ২৪ টাকা ৭৩ পয়সা। গমের দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশ হারে।

ভান্ডারিয়ায় আমন ক্ষেতে পাতা মোড়া রোগ দিশেহারা কৃষক

১১.১১.০৮
ইত্তেফাক ।। ভাণ্ডারিয়া সংবাদদাতা ।।

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় উপজেলা ও ঝালকাঠীর রাজাপুর-কাঠালিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় আমন ক্ষেতে লেদা পোকার আক্রমণে পাতা-মোড়া রোগ দেখা দিয়েছে। এতে আমন ফসলের উৎপাদন মারাত“কভাবে ব্যাহত হবে। ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় প্রায় চার হাজার একর জমির আমন ফসল এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সরকারিভাবে আড়াই হাজার একর জমিতে এ রোগ আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও অতিবৃষ্টির কারণে লেদা পোকার কারণে পাতা-মোড়া রোগের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় কৃষি বিভাগসূত্রে জানা গেছে। এ বছর ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ৮ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে আমন ফসলের চাষ করা হয়। পোকার আক্রমণে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় কৃষি অফিস জানিয়েছে, কৃষকরা ক্ষেতে ডাল পুতে ও কীটনাশক ওষুধ ব্যবহার করে প্রায় ১ হাজার একর জমির পোকা দমন করেছে।

কৃষি-শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি আইন ও কিছু সুপারিশ

১.১১.০৮
যায়যায়দিন ।। জাহিদ রহমান
একথা সত্য যে, জাতীয় উন্নয়ন অগ্রগতির যে লক্ষ্যই নির্ধারণ করা হোক না কেন, দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ লোক তথা গ্রামীণমজুরের জীবন ও জীবিকার দাবিকে উপেক্ষা করে তা অর্জন করা সম্ভব নয়। কৃষি-শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের মাধ্যমে তার শ্রমের যথার্থ মূল্যায়ন করা জরুরি। কৃষিশ্রম (ন্যূনতম মজুরি) অধ্যাদেশ ১৯৮৪ প্রবর্তিত হলেও সেটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। আইন থাকা সত্ত্বেও কৃষি-শ্রমিকের শ্রমের মূল্যায়ন হচ্ছে না।

বাংলাদেশে জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রেণী কৃষি শ্রমিক বা ক্ষেতমজুর। কৃষিকর্মে শ্রম বিক্রি করাই মূলত যাদের আমৃত্যু পেশা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা বিভিন্ন ধরনের কৃষিকর্মে শ্রম বিক্রি করে থাকেন। শ্রম বিক্রির মাধ্যমে প্রাপ্ত মজুরি তাদের জীবন ও জীবিকার প্রধান অর্থনৈতিক উৎস। শ্রম বিক্রির সুযোগ না থাকলে তাদের বেকার থাকা ছাড়া বিকল্প কোনো কর্ম নেই। অথচ শ্রমিক হিসেবে তাদের ন্যায্য মজুরি বা পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ শ্রমিকের জন্য কোনো কার্যকর সুনির্দিষ্ট মজুরিনীতি নির্ধারণ হয়নি। দুই দশকেরও বেশি আগে এরশাদ জমানায় কৃষি শ্রমিক তথা ক্ষেতমজুরদের ন্যায্য শ্রমমজুরি নিশ্চিত করার জন্য সরকার ‘কৃষিশ্রম (ন্যূনতম মজুরি) অধ্যাদেশ ১৯৮৪’ নামে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হলেও তার প্রয়োগ কোথাও হয়েছে বলে প্রমাণ নেই। স্বভাবতই দেশের বিপুল সংখ্যক কৃষি শ্রমিক তাদের ন্যায্য অধিকার ও পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
১৯৯৬ সালের সবশেষ কৃষিশুমারি অনুযায়ী গ্রামের প্রায় ৬৫ ভাগ পরিবার গ্রামীণ-মজুরের সংজ্ঞার আওতাভুক্ত। বাংলাদেশে তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রেণী। সরকারিভাবে তাদের বলা হয় গ্রামীণ দরিদ্র। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০০৬-এর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী প্রত্যক্ষ ক্যালোরি গ্রহণ পদ্ধতিতে বাংলাদেশে গ্রামীণ দরিদ্রের হার ৪০.১ ভাগ। এর মধ্যে ১৮.২ ভাগ রয়েছে চরম দরিদ্রাবস্থায়। ১৯৯৯-২০০০ সালের হিসাব অনুযায়ী কৃষি-অকৃষি উভয় খাত মিলিয়ে বাংলাদেশে গ্রামীণ মজুরের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি।
দেশ বিভাগের আগে বা পরে প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশে কৃষিমজুর বা একজন ক্ষেতমজুরের শ্রম ও তার ন্যূনতম মজুরি সম্পর্কে কোনো বিধিবদ্ধ আইন ছিল না। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৯৮৪ সালে এ সম্পর্কে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ‘কৃষিশ্রম (ন্যূনতম মজুরি) অধ্যাদেশ ১৯৮৪’ হলো, কৃষি-শ্রমিকদের জন্য অর্থাৎ কৃষিজ শস্য উৎপাদনে নিয়োজিত যে কোনো ব্যক্তির মজুরির নিম্নতম হার স্থিরকরণের জন্য বিধান প্রণয়নকল্পে অধ্যাদেশ। একজন কৃষি-শ্রমিকের একদিনের মজুরি হিসাবে ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম চাল অথবা স্থানীয় বাজারে ওই পরিমাণ চালের যে বাজার মূল্য, তার সমপরিমাণ টাকা প্রদান করতে হবে; সরকার ৪ ধারার ১ নম্বর উপধারার অধীনে গঠিত কৃষিশ্রমের ন্যূনতম মজুরি ও মূল্য পরিষদের সুপারিশক্রমে স্থিরকৃত মজুরির ন্যূনতম হার সময়ে সময়ে অফিসিয়াল গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুনর্নির্ধারণ করতে পারে; সরকার ২ নম্বর উপধারার অধীনে পুনর্নির্ধারণক্রমে বিভিন্ন এলাকার জন্য, কৃষি শ্রমিকদের বিভিন্ন শ্রেণীর জন্য, কৃষি শ্রমিকদের বিভিন্ন প্রকারের জন্য ন্যূনতম মজুরির বিভিন্ন হার স্থির করতে পারে; ন্যূনতম মজুরির হার স্থির করার নির্দিষ্ট তারিখের পর থেকে পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে পুনর্নির্ধারণ করা যাবে না, যদি না বিশেষ পরিস্থিতি সে রকম বাধ্য করে।
কৃষি-শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে বলা হয়েছে কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে কৃষি-শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করলে ওই শ্রমিককে তার প্রাপ্য মজুরি/পারিশ্রমিক দিতে বাধ্য থাকবেন। কৃষিশ্রমে নিয়োজিত শ্রমিক তার প্রাপ্য মজুরি না পেলে ‘গ্রাম আদালতে’ মামলা করে তার অর্থ আদায় করতে পারেন। এক্ষেত্রে যে পরিমাণ পারিশ্রমিক ওই শ্রমিকের প্রাপ্য ছিল, তার দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি পেতে পারেন। কিন্তু এসব নথিপত্রে থাকলেও বাস্তবে কোনো প্রয়োগ নেই।
এদিকে দেশে চাষ বা আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় ক্ষেতমজুর বা কৃষিমজুরের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বংশ পরম্পরায় কৃষির সঙ্গে যুক্ত থাকায় অন্য কোনো পেশায় চট করে যুক্ত হতে পারছে না এসব খেটে খাওয়া মানুষ। সারাজীবন লাঙল আর মাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত এসব মানুষ মাটি ছেড়ে অন্য কোনো পেশায় যুক্ত হওয়ার কথা চিন্তাও করে না। কিন্তু আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির সঙ্গে লড়াইয়ে ক্রমে কোণঠাসা হয়ে আসা এসব মানুষ কৃষি থেকে ক্রমে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। কৃষকের হালের স্থলে জায়গা করে নিয়েছে কলের লাঙল। ডিজেলচালিত এসব যন্ত্রদানব চষে বেড়াচ্ছে কৃষকের ক্ষেত। প্রকৃতিকে হার মানিয়ে মানুষ মাটির নিচ থেকে তুলে আনছে সেচের প্রয়োজনীয় পানি। ক্ষেতে বীজ রোপণের কাজটিও করছে ড্রামসিডারের মতো যন্ত্র। যন্ত্রের যান্ত্রিকতায় কৃষকের উপকার কতোটুকু হয়েছে, সেটা হয়তো পরিসংখ্যানের মাধ্যমে বের করা যাবে; কিন্তু এতে করে গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ তথা ক্ষেতমজুরদের উপার্জন যে কমে গেছে, তা কোনো উচ্চমানের পরিসংখ্যান ছাড়াই বলে দেয়া সম্ভব। যন্ত্র আমাদের কৃষিতে আশীর্বাদ, না অভিশাপ সে হিসাব না করেও বলা সম্ভব, এটা ক্ষেতমজুরদের জন্য কোনো আশীর্বাদ বয়ে আনেনি। এতে করে তাদের চাহিদা কমেছে; কমেছে আয়। উদয়াস্ত পরিশ্রম করেও দুমুঠো ভাতের সংস্থান করতে তাদের এখন ত্রাহি অবস্থা। এদিকে দারিদ্র্যের কারণে অনেকে আবার আগাম শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হন। অর্থাৎ জমির মালিকের কাছ থেকে কিছু টাকা নেন, যেটি পরে ফসল তোলার মৌসুমে শ্রম দিয়ে শোধ করতে হয়। অনেকেই বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছেন দারিদ্র্যের কারণে। সেসব টাকা দিয়ে উপার্জনমূলক কোনো কাজ করতে পারেননি। দেশের উত্তরাঞ্চল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে এ অবস্থা সবসময়ই বিদ্যমান।
বাংলাদেশে ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ এ মুহূর্তে ‘দারিদ্র্যসীমার’ নিচে বসবাস করছে। যাদের এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ দুই কোটির বেশি আবার ‘অতি দরিদ্র’। এ অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই দেশের ক্ষেতমজুর। তারা এখন গ্রামীণ সর্বহারা বা গ্রামীণ শ্রমিক। অথচ শ্রমিক হিসেবে তাদের নেই কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। তাদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় মনোযোগ কম হলেও এ কৃষি-শ্রমিকদের অবদান জাতীয় অর্থনীতিতে কম নয়। জিডিপির প্রায় ৩২ ভাগ আসে কৃষি থেকে। বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৬৩ ভাগ ক্ষেতমজুর বা গ্রামীণ শ্রমজীবী। গ্রামাঞ্চলে এ মানুষের ১৪ ভাগের বাস্তুভিটা পর্যন্ত নেই। তবে জমি নয়, কাজ এবং ন্যায্য মজুরিই এ মানুষদের আকাক্সক্ষার প্রধান ক্ষেত্র।
ক্ষেতমজুরদের বর্তমান মজুরি ও বাজারদরের মধ্যে ব্যবধান ক্রমে বাড়ছে। এলাকা ও সময় ভেদে তাদের মজুরি ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। তাদের গড় মজুরি ৭৫ টাকা। কিন্তু ৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিবারের জন্য এ মজুরি নিতান্তই অপ্রতুল, কারণ তিন-চতুর্থাংশ ক্ষেতমজুর পরিবারে আয় করার মতো সদস্য আছে মাত্র ১ জন। উপরন্তু উল্লিখিত মজুরিতে সারাবছর কাজ পাওয়া সম্ভব নয়। সর্বোচ্চ ৯ মাস তারা কাজ পেয়ে থাকেন। গবেষক ও নীতিনির্ধারকরা দৈনিক ১,৬০০ ক্যালোরি পরিমাণ খাদ্য উপাদান গ্রহণকে দারিদ্র্য পরিস্থিতি পরিমাপের যে মানদ- নির্ধারণ করেছেনÑ ক্ষেতমজুর পরিবারগুলো সেই মানদ-ের নিচের দিকে পড়ে গেছে। গত পাঁচ বছরে চালের দাম গড়ে ৫০ ভাগ বেড়েছে। ২০০০ সালেও দৈনিক মজুরি দিয়ে ৯ কেজি চাল কেনা যেতো; কিন্তু বর্তমানে ৫ কেজির বেশি নয়। ফলে অতি দরিদ্র ক্ষেতমজুর শ্রেণীর মানুষ সারাবছর এক ধরনের কম খেয়ে দিন কাটায়।
সাম্প্রতিক এক জরিপে (ঋড়ড়ফ ঝবপঁৎরঃু ধহফ ঐঁহমবৎ রহ ইধহমষধফবংয, জউজঝ ধহফ ড়ঃযবৎং) দেশে ১৯টি জেলা শনাক্ত করা গেছে, যেখানে উচ্চমাত্রার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা বিদ্যমান। একই জরিপে দেখা যায় ক্ষেতমজুর পরিবারগুলোর মধ্যে তারা ক্যালোরি গ্রহণে পিছিয়ে, যারা ভূমিহীন এবং যাদের কোনো ধরনের আবাদি জমি নেই। এসব পরিবারের নিচের দিকের ২০ ভাগ (৭০ লাখ) পরিবারের মাসিক আয় এক হাজার টাকার কম। মজুরি সংক্রান্ত অন্যায্য বাস্তবতার আরেকটি দিক হলো, নারী ও পুরুষ ক্ষেতমজুরদের মধ্যে রয়েছে মজুরি বৈষম্য। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানের মধ্যকার মজুরি ফারাকও অন্যতম একটি সমস্যা। কিন্তু কোথায় যে মজুরি বেশি, সেটি জানার মতো, পাওয়ার মতো বা দেয়ার মতো সরকারি কোনো দাপ্তরিক সুবিধা দেশের কোথাও নেই।
এদিকে বর্তমানে যে কৃষিনীতিটি কার্যকর রয়েছে, তা ১৯৯৯ সালের এপ্রিলে তৈরি। এ কৃষিনীতি এবং তার আলোকে অনুসৃত কৃষি অনুশীলনের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য রয়েছেÑ কৃষির ক্রমাগত যান্ত্রিকীকরণ, আবাদের ক্ষেত্রে পুঁজি নির্ভরতা বাড়ানো এবং ফসল উৎপাদনে রপ্তানিমুখিতাকে প্রাধান্য দেয়া। এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষেতমজুরের স্বার্থের বিপক্ষে গেছে। কারণ একটা পাওয়ারটিলার বা একটি ড্রামসিডার অনেকের বেকারত্বের কারণ হয়েছে। পাশাপাশি উফশী জাতের ব্যাপকতা চারা আবাদের সার্বিক কর্মকা-কে ব্যবসায়ীদের কর্তৃত্বে নিয়ে গেছে। এর প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে ভূমিহীন মানুষের শহরমুখী অভিবাসন বেড়ে গেছে। কাজের সন্ধানে মানুষ শুধু শহরের দিকে ছুটছে। আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী ক্ষেতমজুরদের স্বাধীন সংগঠন ও যৌথ দর কষাকষির আইনগত অধিকার এখনো বাস্তবায়িত হয়নি এদেশে। এদিকে রাজনৈতিকভাবেও ক্ষেতমজুররা চরম অসংগঠিত। ফলে ক্ষেতমজুরদের স্বার্থে বর্তমানে রাজনৈতিক ময়দানে কোনো দাবি-দাওয়া সক্রিয় নেই। ক্ষীণ ধারায় বহমান দেশের কিছু ক্ষেতমজুর সংগঠন ক্ষেতমজুরদের কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের জন্য কিছু কিছু দাবি করছে। কিন্তু প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এসব দাবির প্রতি বিন্দুমাত্র মনোযোগ দেয়নি কখনো। আবার কিছু উন্নয়ন সংগঠন এ বিষয়ে আগ্রহী হলেও তাদের কাজকর্ম একবারেই দাতানির্ভর। দাতারা টাকা দিলে তারা অনেক কিছু পারে আর না দিলে কিছুই পারে না। আর এ কারণেই অনেক এনজিও এ বিষয়ে কাজ শুরু করলেও পরে তা মায়াকান্নায় পরিণত হয়েছে।
একথা সত্য যে, জাতীয় উন্নয়ন অগ্রগতির যে লক্ষ্যই নির্ধারণ করা হোক না কেন, দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ লোক তথা গ্রামীণমজুরের জীবন ও জীবিকার দাবিকে উপেক্ষা করে তা অর্জন করা সম্ভব নয়। কৃষি-শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের মাধ্যমে তার শ্রমের যথার্থ মূল্যায়ন করা জরুরি। কৃষিশ্রম (ন্যূনতম মজুরি) অধ্যাদেশ ১৯৮৪ প্রবর্তিত হলেও সেটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। আইন থাকা সত্ত্বেও কৃষি-শ্রমিকের শ্রমের মূল্যায়ন হচ্ছে না। কৃষি-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ এবং এটিকে ফলপ্রসূ করতে নিম্ন লিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। ক্ষেতমজুরদের অধিকার রক্ষায় সহায়ক আইন প্রবর্তন এবং পুরনো আইন সংস্কার করতে হবে। বেকারত্বের মাসগুলোতে ক্ষেতমজুররা বিশেষত কম মজুরির এলাকাগুলোতে বাজার মূল্যের অর্ধেকে আগাম শ্রম বিক্রি করে দেয়। কম মজুরি এবং আগাম শ্রম বিক্রির মাধ্যমে বিশেষ বিশেষ অঞ্চলের পুঁজিপতি, জোতদার ও ধনী কৃষকরা বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত মূল্য আত্মসাৎ করছে। এ ধরনের শ্রম-শোষণ বন্ধ করতে এসব কর্মকা- আইনগতভাবে বেআইনি ঘোষণা করতে হবে। কৃষি-শ্রমিকদের শহরমুখী অভিবাসন ঠেকাতে বছরের সবসময় কিছু না কিছু কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। যেসব খানায় জমির পরিমাণ সর্বোচ্চ ০.২ হেক্টর পর্যন্ত, তারা কার্যত ভূমিহীন। এ রকম খানার সংখ্যা দেশে প্রায় ৫০ ভাগ। সমাজে যাদের অতি দরিদ্র বলা হচ্ছে এবং যাদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ ভাগ অর্থাৎ প্রায় তিন কোটি, তাদের ৯৭ ভাগের কৃষিকাজের মতো কোনো জমি নেই। মোট জনসংখ্যার ৪৭ ভাগের শুধু বসতবাড়িটুকু আছে। অথচ দেশে ৩.৩ মিলিয়ন একর খাসজমি রয়েছে, যা থেকে প্রতিটি ভূমিহীন কৃষিজীবী পরিবারকে কিছু জমি দিতে হবে। খাসজমি, চর ও উপকূলের জমি, সিলিং উদ্বৃত্ত জমি বিত্তবান ও টাউটদের দখল থেকে উদ্ধার করে তা কৃষি মজুরসহ গ্রামীণমজুর, ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে ‘বিক্রয় ও হস্তান্তর অযোগ্য’ শর্তে স্থায়ী বন্দোবস্ত দিতে হবে। পাশাপাশি চলতি পুঁজির সহায়তা দিয়ে সমবায়ী উদ্যোগকে জোরদার করতে হবে। ক্ষেতমজুরদের জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নয়ন বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। ক্ষেতমজুর সংগঠনগুলো উন্নয়ন বাজেটে ১২.৫ ভাগ বরাদ্দের দাবি করছে; কিন্তু বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় এ বরাদ্দের পরিমাণ ন্যূনতম ৩০ ভাগ হওয়া প্রয়োজন। কৃষি-শ্রমিক বা ক্ষেতমজুরদের জন্য মজুরির একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ (ন্যূনতম ১২০ টাকা) নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বছরের সবসময় সেই নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুরি শ্রমিক যাতে পায় সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। শ্রম-বৈষম্য কমিয়ে আনতে নারী-পুরুষ সমান কাজে সমান মজুরি দেয়ার জন্য আইন করতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে কৃষিশ্রমের ন্যূনতম মজুরি ও মূল্য পরিষদ গঠন করতে হবে। অর্থনৈতিক অবস্থা, জীবন ধারণের ব্যয় ও আনুষঙ্গিক বিষয়াবলী বিবেচনায় রেখে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। কৃষিতে নিয়োজিত শ্রমিকদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কৃষি-শ্রমিকদের জন্য আইডেনটিটি কার্ড দিতে হবে। কৃষি-শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।

জাহিদ রহমান: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

কৃষকের মাথায় হাত

১১.১১.০৮
যায়যায়দিন ।। স্টাফ রিপোর্টার যশোর

দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকরা গত কয়েক বছর ধরে অনুমোদনহীন ভারতীয় ধানের চাষ করছেন। এসবের মধ্যে রয়েছে মিনিকেট, গুটি স্বর্ণা, জিএস, রনজিৎ, সাদা স্বর্ণা, লাল স্বর্ণা। সীমান্তবর্তী ভারতীয় অংশে ওই সব ধানের আশাতীত ফলন দেখে কৃষকরা নিজেরাই ওই ধানের বীজ সংগ্রহ করে চাষ করছেন। কিন্তু বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির ভারতীয় ওই বীজের কোনো অনুমোদন নেই। জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ৭ লাখ ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯ লাখ ১২ হাজার ৯৭০ মেট্রিক টন। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সীমান্তবর্তী জেলা যশোর, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মেহেরপুরের ৩০ শতাংশ জমিতে ভারতীয় অনুমোদনহীন ধানের চাষ করা হয়েছে। সরেজমিন যশোর সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া ও শাড়াপোল গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে রনজিৎ আর স্বর্ণা ধানের শীষ বের হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ধানে দুধ হচ্ছে না। শীষ এক পর্যায়ে কালো হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা এখন ধান ক্ষেতের পাশে মন খারাপ করে বসে থাকা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছেন না। এ ব্যাপারে ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবদুর রহমান গত শনিবার যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের মাঠ পরিদর্শন করে জানান, ঝড়ের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরো বলেন, শীত বা গরমে নয়, ঠিক সময়ে ধান রোপণ করা হলে কাক্সিক্ষত ফলন পাওয়া যাবে।

রাজশাহীতে ধান কাটা শুরু ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা

১০.১১.০৮
ডেসটিনি ।। সুমন হাসান, রাজশাহী
রাজশাহী অঞ্চলে শুরু হয়েছে রোপা আমন ধান কাটা মৌসুম। কৃষকের মুখে হাসি থাকলেও তারা চিন্তিত ফলন নিয়ে। ফলন কম হওয়ার কারণ প্রয়োজনমাফিক সার না পাওয়া আর অপুষ্টিজনিত রোগাক্রান্ত হওয়া। এর ফলে কৃষক ধান উৎপাদনের খরচ মেটানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে পুরো বছর কীভাবে চলবে সে চিন্তায় কপালে ভাজ পড়ছে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, গতবারের ধারাবাহিকতায় এ বছরো ধানের ফলন হবে।
মৌসুমের শুরুতে এবার পানির অভাব ছিল না। তবে প্রত্যাশা মতো সার মেলেনি। ফলে আবাদের পরপরই কৃষকদের নানানভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এতে ধানের শিষ ফোটার শুরুতেই ও পরে ধানগাছগুলো ক্রমেই বিবর্ণ হয়ে ওঠায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। কীটনাশক ব্যবহার করে এ অবস্থা থেকে ধান গাছ বাঁচানো যায়নি।
জানা গেছে, জমি প্রস্তত করার সময় প্রয়োজনীয় ফসফেট ও পটাশ জাতীয় সার প্রয়োগ করতে না পারার কারণেই মূলত ধানগাছের পাতা বিবর্ণ হয়ে পড়ে। আর অপুষ্টির কারণে ধানগাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এলাকাভেদে ক্ষেতগুলোতে নানা ধরনের পোকা সংক্রমিত হয়। কৃষক পটাশমিশ্রিত পানি ¯েপ্র কিংবা কীটনাশক ছিটিয়েও ধানগাছের সবুজ রং ফেরাতে পারেনি।
চাষিরা জানান, আমন আবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করতে ১ জুলাই মৌসুম শুরু হওয়ার আগে থেকেই অর্থাৎ জুনের মাঝামাঝিতে ফসফেট সার প্রয়োগ করতে হয়। কিন্তু এ বছর এ অঞ্চলের কোনো এলাকাতেই নির্দিষ্ট সময়ে তো নয়ই, এমনকি ধান রোপণের একমাস পেরিয়ে গেলেও কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ও মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার মেলেনি। অনেক দেরিতে সারগুলো ডিলারদের মাধ্যমে বাজারে ছাড়া হলেও দাম গত মৌসুমের তুলনায় দ্বিগুণ হওয়ায় কৃষক তা কিনতে পারেনি। গতবার যেখানে প্রতি বস্তা টিএসপির দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা, এবারে তা ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। একইভাবে ১ হাজার ৫০ টাকা বস্তার এমওপি এবার বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কৃষি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, টিএসপি ও এমওপি সারের ঘাটতির কারণে এবার আমন আবাদে কৃষকরা পুরোপুরি ইউরিয়া সারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ফলে ধানগাছ তরতর করে বেড়ে উঠলেও টিএসপি ও এমওপি সারের অভাবজনিত কারণে অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয়ে সেগুলো বিবর্ণ হতে শুরু করে।
এসব কারণে এবারে আমন ধানের উৎপাদন মারাত্মকভাবে বিঘিœত হওয়ার শঙ্কা থাকায় কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে।

Sunday, November 9, 2008

লোহাগাড়ার কৃষি উন্নয়নে টংকাবতী রাবারড্যাম প্রকল্প

০৯.১১.০৮
ইত্তেফাক ।। মোহাম্মদ ইলিয়াছ,

লোহাগাড়া উপজেলা চট্টগ্রামের সর্বদক্ষিণে ২৫৯.৯৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ৯টি ইউনিয়ন ৪০টি মৌজা ও ৪৩টি গ্রাম নিয়ে গঠিত একটি এলাকা। এ অঞ্চলের ১২,১৮০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়। কৃষি প্রধান পরিবার গ্রামীণ গৃহস্থ শতকরা ৫৬ ভাগ এবং অকৃষি প্রধান পরিবার গ্রামীণ গৃহস্থ শতকরা ৪৪ ভাগ। মোট কৃষি জমির শতকরা ৩২.৯১ ভাগ এক ফসলি, ৫১.১৮ ভাগ দো-ফসলি এবং ১৫.৯১ ভাগ তিন ফসলি শস্য চাষাবাদ হয়। ৩৩,১২৫টি কৃষক পরিবার ১,২১০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করে বছরে ৪৫,৬৮২ মেট্রিকটন শস্য উৎপাদন করে। ধান, পান, লিচু, আলু, আম, কলা, পেয়ারা, আমড়া, আনারস ইত্যাদিসহ বিভিন্ন শাকসবজির প্রচুর চাষ হয়। তবে সেচ প্রকল্পের অভাবে এ উপজেলায় বোরো ও আমন মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি রয়ে যায়। ফলে কৃষকরা আরও বিভিন্ন শস্য উৎপাদন থেকে বিরত থাকে। এসব অনাবাদি জমিতে চাষাবাদযোগ্য করতে প্রয়োজন হয় রাবারড্যাম প্রকল্প।

উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের টংকাবতী খালে রাবারড্যাম প্রকল্পটি স্থাপিত হওয়ার পর থেকে এলাকার চাষযোগ্য জমির পরিমাণ তিনগুণ বেড়ে গেছে। বেড়েছে বোরো ও রবিশস্যের সেচ সুবিধাও। বিগত শুষ্ক মৌসুমে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৪,২২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। ডিজেল চালিত পাম্পের সাহায্যে, গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে ৩,০৭৬ জন কৃষক ৯৫৭.৪১ হেক্টর জমি, বিদ্যুৎ চালিত গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে ৪,২৭৫ জন কৃষক ১,২০৫.৪০ হেক্টর জমি এবং অন্যান্য মাধ্যমে ৫,০৭০ জন কৃষক ১,২২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করেছে। এতে করে হাইব্রিড হেক্টর প্রতি ৬ মেট্রিকটন চাল ও উফশী হেক্টর প্রতি সাড়ে ৪ মেট্রিকটন চাল উৎপাদিত হয়েছে। ৫০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান এবং ৩,৭২০ হেক্টর জমিতে উফশী ধান চাষ করা হয়েছে। সেচ খরচও কমে যাওয়ায় উৎসাহিত হয়েছে কৃষকরা। এলাকার সচেতন কৃষকের দাবী আরও ২টি রাবারড্যাম হলে শস্য উৎপাদন অনেক বেড়ে যাবে। লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আমিনুল হক চৌধুরী জানান, উপজেলায় ৫০ হাজার মেট্রিকটন চালের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে উৎপাদিত হয় ৪০ হাজার মেট্রিকটন। আরও ২টি রাবারড্যাম স্থাপিত হলে উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্যত্র সরবরাহ করা সম্ভব হবে। অš-ত আরও ২০ হাজার মেট্রিকটন চাল উৎপাদন বাড়বে। উপজেলার পদুয়া, হাঙ্গর এবং চুনতির চাম্বী অথবা ডলুখালে পৃথক এ ২টি রাবারড্যাম স্থাপন করা সম্ভব।

এদিকে টংকাবতী রাবারড্যাম প্রকল্প বা¯-বায়নের ফলে রবিশস্য মৌসুমে ভূ-পৃষ্টের পানি ব্যবহারের মাধ্যমে বোরো ও রবিশস্য এবং খরার সময় আমন উৎপাদনের জন্য সম্পূরক সেচ সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে এলাকায় কৃষকরা বিপুল উৎসাহে চাষে মনযোগী হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, নদীর তলদেশ থেকে এলএলপি’র পানি তোলার জন্য আগে একর প্রতি সেচ খরচ লাগত ৫,০০০ টাকা। টংকাবতী রাবারড্যাম নির্মাণের পর থেকে নেমে এসেছে একর প্রতি ২,০০০ টাকা। প্রকল্প এলাকায় চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ৩২৯ হেক্টর থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,০০০ হেক্টরে। রাবারড্যাম প্রকল্পের সংরক্ষিত পানিতে মাছ চাষও করা হচ্ছে। সর্বোপরি টংকাবতী খালের উপর রাবারড্যাম নির্মাণের ফলে একাধিকে ভূগর্ভস্থ পানির চাপ কমেছে অন্যদিকে ক্ষতিকর খনিজ লবণ আয়রন এমনকি ক্ষতিকর আর্সেনিকের বিরূপ প্রভাব থেকে উৎপাদিত ফলস রক্ষা পাচ্ছে। তাছাড়া ¯¬ুইস গেট নির্মাণে যে খরচ হয় রাবারড্যাম নির্মাণে খরচ হয় তার অর্ধেক। তাই উপজেলায় আরও ২টি রাবারড্যাম স্থাপন করে শস্য উৎপাদন বাড়ানো খুবই জরুরি। রাবারড্যাম প্রকল্প স্থাপনের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করলে এলাকার কৃষিসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চেহারা পাল্টে যাবে। কৃষকের ঘরে ঢুকবে সোনার শস্য। ফুটবে কৃষকের মুখের হাসি। আর কমবে খাদ্য ঘাটতি।

মোহাম্মদ ইলিয়াছ, চট্টগ্রাম

আসুন মুন্সীগঞ্জের আলু চাষিদের কথা ভাবি

০৯.১১.০৮
ইত্তেফাক ।। মন্তব্য প্রতিবেদন
শাইখ সিরাজ

গত মৌসুমে বোরো ধানের কাক্সিক্ষত ফলন লাভের খবরের পাশাপাশি কৃষির আরেক বিস্ময় ছিল আলুর ব্যাপক উৎপাদন। উৎপাদন হয়েছে ৮০ লাখ টন। আগের বছরের চেয়ে উৎপাদন বেশি হয় ২৫ লাখ টনেরও বেশি। এত বেশি আলু অতীতে কখনোই উৎপাদিত হয়নি। আলুর বাম্পার ফলন দেশবাসীকে যেভাবে উচ্ছ্বসিত করেছে, একইভাবে সংরক্ষণ সমস্যার কারণে টন কে টন আলু পচে নষ্ট হওয়ার ঘটনা শুধু কৃষককেই হতাশ করেনি, ব্যথিত করেছে দেশবাসীকেও। কোল্ড-স্টোরেজে নষ্ট হওয়া অতিরিক্ত আলু অপসারণ এবং কৃষক ও কোল্ড-স্টোর মালিকদের ক্ষতির মধ্য দিয়ে সে অধ্যায়ের শেষ নামলেও আলুই এখন নতুন করে দুশ্চিš-ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণনের ক্ষেত্রে সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় ত্র“টি থাকলে কৃষককে যে কতটা অসহায় অবস্থা বরণ করতে হয়, এবার আলু রোপণ মৌসুম শুরুর ঠিক আগেই তা দেখা যাচ্ছে। মুন্সিগঞ্জের আলু চাষ অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় এবার কৃষকদের হিসাব নিকাশ একেবারেই পাল্টে গেছে। গতবারের বেশি আবাদ আর বেশি ফলন যেভাবে কৃষকের বুক ভরিয়ে দিয়েছিল এবার সামনে ঠিক ততটাই অনিশ্চয়তা। বেশিরভাগ কৃষকই সিদ্ধাš- নিয়ে ফেলছেন এবার কমিয়ে আনবেন আলু চাষ। সব রকম সারের দ্বিগুণ তিনগুণ মূল্য বৃদ্ধি এবং আলুর মূল্য ক্রমেই কমতে থাকার কারণে বাধ্য হয়েই কৃষককে নিতে হচ্ছে এই সিদ্ধাš-। শুধু তা-ই নয়, কয়েকজন কৃষক জানালেন তারা এবার ঝুঁকবেন তামাক চাষে। উলে¬খ্য, মুন্সিগঞ্জ এলাকায় অনেক আগে থেকেই অল্প বি¯-র তামাকের আবাদ হত। বছর বছর আলুর ভাল ফলন এবং মোটামুটি মূল্য পাওয়ায় কৃষক নিজে থেকেই তামাক আবাদে খুব বেশি উৎসাহিত ছিল না। কিন্তু এবার আলুর ভাল ফলন পাওয়ার পর দুই দফায় কৃষক হোচট খেলো। অর্থাৎ কোল্ড-স্টোরেজে স্থান সংকটে সমুহ ক্ষতির শিকার হওয়ার পর যতটুকু আলু বাঁচানো গেছে তার মূল্য উৎপাদন খরচের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এখন মণ প্রতি চার হাজার টাকা মূল্য পাওয়ার স্বপ্নে কৃষক বেছে নিতে যাচ্ছে তামাক উৎপাদনের পথ। কারণ কৃষক জানে, তামাক চাষ করতে গেলে তাকে সার সংকটে পড়তে হবে না। যার প্রভাব পড়তে যাচ্ছে আগামী মৌসুমে।

সারের দাম যে গতিতে বেড়েছে, সে গতিতে বাড়েনি আলুর দাম। শহর নগরে আলুর নিম্নমূল্য বোঝা না গেলেও উৎপাদন এলাকার কৃষকরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন তাদের প্রধান কৃষিপণ্যের নিম্নমূল্যই সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। কোল্ড-স্টোরেজগুলোতে কৃষকের শত শত মণ আলু যেখানে আর্থিক লাভের স্বপ্ন দেখাবে, সেখানে দেখাচ্ছে দারুণ দুঃস্বপ্ন। সেদিন নূর কোল্ড স্টোরেজে বেশ কিছু সংখ্যক কৃষকের সঙ্গে দেখা হল। ব্যবসায়ীরাও ছিলেন সেখানে। ছিলেন কোল্ড-স্টোরের লোকজনও। এই পর্যায়ে এসে আলু নিয়ে সবার হতাশা এখন যেন সমান। একজন ব্যবসায়ী বললেন, ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে আলুর ব্যবসা করতে এসে এবার সর্বশাš- হয়ে পড়েছেন তিনি। একজন কৃষক বললেন, উত্তরাঞ্চলে আলুর উৎপাদন এবার বেশি হওয়ায় মুন্সিগঞ্জের কৃষকরা এই সমস্যায় পড়েছেন। অন্যান্য বছর এ মৌসুমে একেকটি কোল্ড-স্টোরেজের সামনে নৌকা ও অন্যান্য যানবাহনে আলু সরবরাহের ব্য¯-তা থাকলেও এবার দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। একেবারেই স্থবির অবস্থা। চাষির সঙ্গে সঙ্গেই পদে পদে ব্যবসায়ীদেরকে ক্ষতির হিসাব করতে হচ্ছে। একজন কৃষক বললেন, সরকার জনগণকে আলু খাওয়ার ব্যাপারে যেভাবে উদ্বুদ্ধ করেছে ঠিক সেই মাফিক আলুর স্থানীয় বিপণন ও রফতানির ব্যাপারে কার্যকর কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

খোদ কৃষি বিভাগ বলছে, এবার জেলায় ২ থেকে ৩ হাজার হেক্টর কম জমিতে আলু উৎপাদিত হবে। আলু আবাদি এলাকা হ্রাসের হার আরও বাড়তে পারে। কৃষি বিভাগ যদিও তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তারপরও লাভের আশায় কৃষক যে এদিকে ঝুঁকবে না এর নিশ্চয়তা নেই। কারণ, এভাবেই নানা কারণ সামনে নিয়েই দেশের একেকটি এলাকায় ঢুকে পড়ে তামাক চাষ।

মুন্সিগঞ্জে নতুন করে তামাক চাষের তৎপরতায় কৃষিতে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে Ñ এমন আশংকার কথা জানালেন কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ আজিজুল হক। তিনি বললেন, একটি জমিতে একবার তামাক চাষ করা হলে শুধু সেই জমিই ক্ষতিগ্র¯- হবে তা নয়, তার আশেপাশের অন্যান্য ফসলও ক্ষতিগ্র¯- হতে থাকবে। এই কারণেই যেভাবেই হোক এই বিপর্যয়ের হাত থেকে ওই এলাকার কৃষিকে বাঁচাতে হবে।

খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে বর্তমান সময়টি একটি সন্ধিক্ষণ বলা যায়। যখন এক বিন্দু খাদ্যকণার মূল্য সম্পর্কেও মানুষ সচেতন হতে শুরু করেছে Ñ তখন কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং আবাদ স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি অত্যš- গুরুত্বপূর্ণ। এখনও সময় আছে, রোপণ মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই কৃষকদের হতাশা কাটিয়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে উপকরণের মূল্য কৃষকদের ক্রয়সীমার মধ্যে আনা, কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়াসহ সময়োপযোগী নানামুখি কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, খাদ্যশস্যের আবাদি জায়গা যেন খাদ্যদ্রব্য নয় এমন কৃষিপণ্যের দখলে না চলে যায়। এটি সময়েরই চ্যালেঞ্জ।

কৃষিঋণ বিতরণ বেসরকারি ব্যাংকগুলোর এগিয়ে আসা প্রয়োজন

০৯.১১.০৮
সম্পাদকীয় ।। যায়যায়দিন

দেশের খাদ্য ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে হলে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হবে। আর কৃষি উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজন কৃষকদের পর্যাপ্ত সহযোগিতা করা। এ ক্ষেত্রে কৃষিঋণ বিতরণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। কারণ ফসল ফলানোর সময় কৃষকরা প্রয়োজনীয় অর্থ না পেলে চাষাবাদ ব্যাহত হবে। এ সমস্যার সমাধানে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশার বিষয় হচ্ছে, সরকারের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ বছর ঋণ বিতরণে কিছুটা সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে।
যায়যায়দিনে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে। তবে এটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে। কৃষিঋণ বিষয়ক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বিআরডিবি ও বিএসবিএল মোট ১ হাজার ১১১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে, যা বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি বকেয়া ঋণ আদায়ের হারও বেড়েছে, যার পরিমাণ ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ। এ আট ব্যাংকের খেলাপি ঋণও কমে এসেছে।
যে বিষয়টি দুঃখজনক তা হচ্ছে, বেসরকারি ব্যাংকগুলো কৃষিঋণ খুব একটা বেশি বিতরণ করেনি। এটা তাদের অনাগ্রহেরই বহির্প্রকাশ, যা আগে থেকেই আমরা দেখে আসছি। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নানা ছুঁতোয় কৃষিঋণ বিতরণ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছে। এসব ব্যাংক কৃষি ঋণের নামে কৃষিজাত শিল্প, কৃষি পণ্যের মজুদ ও বাজারজাতকরণে অর্থায়ন করলেও প্রকৃত দরিদ্র কৃষকরা ঋণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কৃষি উৎপাদনের চেয়ে অন্য খাতে ঋণ দেয়ার দিকেই ব্যাংকগুলোর আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য কৃষি উন্নয়ন কতোটুকু গুরুত্বপূর্ণ তা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। অথচ এ খাতে ঋণ প্রদানে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহ সত্যিই দুঃখজনক। দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হলে সরকারি-বেসরকারি সব পক্ষ থেকেই কৃষকদের সহযোগিতা করতে হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক চাষীদের সুলভে ঋণ দেয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। ব্যাংক থেকে ঋণ প্রদানে অনাগ্রহ তার ওপর ঋণ নিতে গেলে বিভিন্ন জটিলতাÑ এতো সব সমস্যার কারণে কৃষকরাও ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ না পেয়ে কৃষকরা এনজিও বা মহাজনদের দ্বারস্থ হয়। যারা কৃষকদের সহজে ঋণ দিলেও অতিরিক্ত সুদ নেয় এবং স্থায়ীভাবে ঋণের সুদে বেঁধে ফেলে। এতে কৃষকরা নয়, লাভবান হয় এনজিও বা মহাজনরা। যার পরোক্ষ প্রভাব পড়ে দেশের কৃষি খাতে।
আমরা মনে করি, দেশের কৃষি এবং কৃষকদের বাঁচাতে হলে ঋণ প্রদানে সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংককেই এগিয়ে আসতে হবে। ঋণ প্রদানের নিয়মনীতিও সহজ করতে হবে, যাতে প্রান্তিক চাষীরা ঋণ গ্রহণ করতে পারে। ঋণ বিতরণে সরকারের পক্ষ থেকে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাকগুলোর প্রতি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা থাকা দরকার। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে বাধ্যবাধকতাও তৈরি করা যেতে পারে।
কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে কৃষি এখনো একটি অবহেলিত খাত। অবহেলিত এ খাতকে শক্তিশালী করতে হলে কৃষিঋণ বিতরণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত কৃষিভর্তুকি প্রদান করতে হবে এবং কৃষি উৎপাদন সামগ্রীর দাম কমাতে হবে। এ খাতের জন্য সহায়ক সব পদক্ষেপ যদি সমন্বিতভাবে নেয়া যায় তবে অবশ্যই দেশ কৃষিতে স্বনির্ভর হবে।

রাজবাড়ীতে ব্যাপক সবজি চাষ

০৮.১১.০৮
ডেসটিনি ।। রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ীতে ব্র্যাকের উদ্যোগে ব্যাপক সবজি চাষ শুরু হয়েছে। জানা গেছে, হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় এ বছর ৮৯ জন মহিলাকে নিয়ে ব্র্যাক স্থানীয়ভাবে সবজি আবাদের একটি বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেয়। প্রকল্পের লক্ষ্য অনুযায়ী এ বছর রাজবাড়ীতে ২২.২৫ একর জমিতে সবজির আবাদ করা হয়েছে। প্রকল্পের উপকারভোগীরা যাতে উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আবাদের জন্য প্রত্যেককে আবাদের ব্যয় নির্বাহের জন্য বিনা শর্তে অফেরতযোগ্য ১৩ হাজার টাকার আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সুবিধা পেয়ে কৃষাণীরা আবাদের পর ফলন পাওয়ার আগ পর্যন্ত যেতে নিজেদের পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে সেজন্য প্রত্যেককে দৈনিক ২৫ টাকা হারে ৭০০ টাকার সহায়ক ভাতা এবং ২টি ছাগল প্রদান করা হয়েছে।

Friday, November 7, 2008

সিংগাইরে আবাদি জমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে

০৭.১১.০৮
ডেসটিনি।।সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

এক সময়ের ফল-ফসলে সমৃদ্ধ সবুজ বনাঞ্চল ঘেরা সিংগাইরে আবাদী জমিতে অপরিকল্পিতভাবে শিল্প কারখানা ও মৎস্য খামার গড়ে উঠায় কমে যাচ্ছে ফসলি জমি। সেই সঙ্গে নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবশে। উপজেলা কৃষি অফিসের একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে আাবাদি জমির পরিমাণ গত ২০ বছরের মধ্যে প্রায় অর্ধেক নেমে এসেছে। ফলে ধানসহ আখ, পাট, কলাই, গম ও বিভিন্ন প্রকার রবি শস্যের উৎপাদন ও হ্রাস পেয়েছে। সিংগাইরের বুক চিরে শিল্প কারখানা ও মৎস্য খামার গড়ে ওঠায় এবং একশ্রেণীর মধ্যস্বত্বভোগী ভূমিদস্যু ও জালিয়াতচক্রের সহায়তায় শতবছরের পুরাতন গাছপালা কেটে নেয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে নানা প্রজাতির পাখিও। অপরদিকে একশ্রেণীর দালালচক্র নিরীহ কৃষকদের ফুসলিয়ে ধানি জমি বিক্রি করে দিচ্ছে শিল্পপতিদের কাছে। এখন অনেক সবুজ ধানের ক্ষেতে শোভাপাচ্ছে কোনো শিল্পপতির নামের সাইনবোর্ড।
এলাকায় অর্থবিত্তশালী কিছ লোক কৃষকের কাছ থেকে সামান্য টাকায় সফলি জমি ভাড়া নিয়ে তাতে মাছ চাষ করছে। মাটি কেটে পুকুর খনন করে অব কাঠামোগত পরবির্তন সাধন হওয়ায় ওই জমিতে আর কোনোদিন ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে না। অভিজ্ঞ মহল সূত্রে দাবি করেছে এভাবে চলতে থাকলে আগামী ২০ বছরে সিংগাইরে আবাদি জমি, আরো ৫০ ভাগ কমে পর্যায়ক্রমে শূন্যতায় ভরে উঠবে। বর্তমান সিংগাইরে প্রায় ১০০টি বিল, ১২০টি মতো বাণিজ্যিক খামার ১৬০টি নার্সারি, ৭০০-৮০০টি মৎস্য পুকুরে ৪৭৫০ হেক্টরের মতো জমি রয়েছে যার প্রায় বেশিরভাগ ছিল বোরো কিংবা আউশ আমনের জমি।

ডিজেলের জন্য ভর্তুকির টাকা

০৭.১১.০৮
ডেসটিনি ।। সম্পাদকীয়

বোরো চাষিদের কাছে সংবাদটি সুসংবাদ বলেই গণ্য হতে পারে যদি কৃষি মন্ত্রণালয় কথায়-কাজে মিল রাখে। বোরো মৌসুমে এবার সরকার ডিজেলে ভর্তুকি দিচ্ছে ৫৪০ কোটি টাকা। ভর্তুকির এই টাকা বোরোর জন্য সেচের কাজ শুরু করার আগেই যাতে কৃষকের হাতে পৌঁছে তারই তোড়জোর চালাচ্ছে কৃষি মন্ত্রণালয়। অবশ্য ভর্তুকি প্রদানের দিক থেকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে ক্ষুদ্র ও বর্গাচাষিদের। উল্লেখ্য, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের দিকে শুরু হবে বোরোর সেচ কাজ। ইতিমধ্যেই কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করে দিয়েছে। ডিজেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে গত বছর সরকার কৃষকদের ভর্তুকি দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেজন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ৭৫০ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় এই বরাদ্দের ওপর করাতকল চালিয়ে দেয়। ৫০০ কোটি টাকাই কর্তন করে দেয়। চূড়ান্ত বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫০ কোটি। কিন্তু এই টাকাও প্রকৃত, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে পৌঁছেনি, সময়মতো তো নয়ই। যারা ভর্তুকির টাকা পায় তাদের টাকাও কাজে লাগাননি। সেচের সময় টাকা না পাওয়ার কারণে ক্ষুদ্র, দরিদ্র, বর্গাচাষিরা প্রয়োজনীয় সেচ দিতে না পারায় বঞ্চিত হয় ঈপ্সিত ফলন থেকে।
এবার যাতে একই অবস্থার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য কৃষি মন্ত্রণালয় আগেভাগেই তৎপর। এবারে বরাদ্দ ৫৪০ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় যদি এই বরাদ্দের ওপর ছুরি না চালায় তাহলে ভর্তুকি পাওয়ার ক্ষেত্রে কৃষকদের সংখ্যা বাড়বে, ভর্তুকি প্রদানের আওতাও বাড়বে। বোরো দেশের একটি প্রধান ফসল। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বোরোর অধিক উৎপাদন আবশ্যক। এবং সবার জানা যে, বোরোর ফলন নির্ভর করে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সেচ ও চাহিদামত সার ব্যবহারের ওপর। সেচ দিয়ে বোরোর জমি তৈরি করতে হয়, চারা রোপণের পর দফায় দফায় সেচ দিতে হয়। একই সঙ্গে ভালো ফলন পেতে ব্যবহার করতে হয় সার। কিন্তু ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি সেচের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ানোতেই এই ভর্তুকি সুবিধা। সরকার সারের মূল্যও প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি করে কৃষকদের জন্য দুশ্চিন্তার অন্ধকার গাঢ় করে দিয়েছেন। এরপর রাসায়নিক সার বিশেষ করে ইউরিয়া সারের ‘টোকেন পদ্ধতি’ ফলন বাড়ানোর জন্য বড় প্রতিবন্ধক হয়ে ওঠেছে। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, দরিদ্র, বর্গা চাষিরা সেচ দিতেও পারে না প্রয়োজনমত। চাষিদের উৎপাদন বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়, উচ্চফলনশীল ধান, হাইব্রিডের আবাদে উৎসাহী হতে বলা হয়। কিন্তু সেজন্য প্রধান প্রধান উপকরণ সেচ-সার ব্যবহারের সুবিধা কৃষকদের হাতের কাছে পৌঁছানো হয় না।
সেচ নিশ্চিত করতে ডিজেলে ভর্তুকি দেয়া একটি উপকারী এবং প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। কিন্তু গত বোরো মৌসুমে ভর্তুকির টাকা যেমন সব প্রকৃত প্রাপক পায়নি, তেমনি যারা পেয়েছে তারাও বিলম্বে পেয়েছে, অর্থের পরিমাণও স্বল্প। এবার আশা করা যায় অর্থ মন্ত্রণালয় আর ভুল করবে না, বরাদ্দকৃত অঙ্কের ওপর ছুরি চালাবে না। কৃষি মন্ত্রণালয় ভর্তুকির টাকা যাতে সেচের সময়ই কৃষকদের হাতে পৌঁছে এখন থেকেই তার উদ্যোগ নিয়ে সঠিক কাজই করছে। কৃষি মন্ত্রণালয় যদি কথায়-কাজে মিল রাখতে পারে তাহলে প্রত্যাশার যথেষ্ট কারণ থাকবে যে এবার সেচের অর্থ জোগাতে কৃষকদের দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে না। বোরো ফলনে মোট উৎপাদনেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বিশ্বাস করা যায়।

Thursday, November 6, 2008

কৃষির আধুনিকীকরণ জরুরি

০৬.১১.০৮
সমকাল ।। উপসম্পাদকীয়
জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ সেলিম

গত ১৬ অক্টোবর বিশ^ খাদ্য দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সল্ফে§লন কেন্দ্রে কৃষি মšúণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে প্রধান উপদে®দ্বা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ শুধু বক্তব্য দিয়েই অনুষ্ঠান শেষ করেননি। তিনি কিছু মহৃল্যবান ঘোষণাও দিয়েছেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা করেছেন, এ বছর থেকে একটি নির্দি®দ্ব দিন ‘জাতীয় কৃষি দিবস’ হিসেবে পালিত হবে এবং দেশে একটি কৃষি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হবে। কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশ হিসেবে, এ দেশের কৃষি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে প্রধান উপদে®দ্বা এ দেশের কৃষি তথা কৃষকদের মহৃল্যবান অবদানকেই যে স্ট^ীকার করে নিয়েছেন তা বোধহয় নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশ^ব্যাপী খাদ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদে®দ্বা দেশবাসীর উদ্দেশে খাদ্য উৎপাদন বৃ™িব্দর পরামর্শ দেবেন সেটিই স্ট^াভাবিক। কিন্তু তিনি (প্রধান উপদে®দ্বা) খাদ্য উৎপাদন বৃ™িব্দর সঙ্গে সঙ্গে স্ট^াস্ট’্যবান ও নিরাপদ জীবনের জন্য পর্যাপ্টø পু®িদ্ব ও নিরাপদ খাদ্য লাভের প্রতি অত্যধিক গুরুÍ^ আরোপ করেছেন, যা নিঃসন্দেহে প্রণিধানযোগ্য। ড. ফখরুদ্দীন আহমদ যথার্থই রাসায়নভিত্তিক কৃষিব্যবস্ট’ার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে, টেকসই ও ঝুঁকিমুক্ত কৃষিব্যবস্ট’া নিশ্চিত করতে কৃষকদের জৈব কৃষিব্যবস্ট’ায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও তার এ আহ্বান এ দেশের মোট কৃষকের ঠিক কতজনের কান পর্যšø পৌঁছাবে তা নিয়ে সন্দেহের যথে®দ্ব অবকাশ রয়েছে। তবে এ দেশের কৃষি খাতকে টেকসই ও ঝুঁকিমুক্ত রাখার ক্ষেত্রে সরকার সত্যি সত্যিই উদ্যোগী হলে এ দেশের সব কৃষি কর্মকর্তাকে ৬৪ হাজার গ্রামের কৃষকদের দোরগোড়ায় পাঠাতে হবে।
সরকারকে কড়া নজরদারি রাখতে হবে। কৃষি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে বসেই তাদের দায়িÍ^ শেষ করছেন, নাকি কৃষি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত নতুন নতুন ব্যবস্ট’াগুলোকে গ্রামে গ্রামে গিয়ে কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আমাদের দেশের কিংবা একেবারেই অক্ষরজ্ঞানহীন হতদরিদ্র কৃষকদের পক্ষে জেলা কিংবা উপজেলা সদরে গিয়ে কৃষি অফিস থেকে আধুনিক কৃষি তথ্য সংগ্রহ করা একেবারেই সল্ফ¢ব নয়। সুতরাং কৃষি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরই কৃষকদের দোরগোড়ায় যেতে হবে দেশের কৃষি খাতকে টেকসই ও ঝুঁকিমুক্ত রাখার বৃহৎ স্ট^ার্থে। অবশ্য এ ক্ষেত্রে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদগুলোও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। আর সে লক্ষ্যে স্ট’ানীয় সরকার ব্যবস্ট’ার এ স্টøরে (ইউপি) যুগের চাহিদানুসারে নতুনÍ^ আনয়ন করা অত্যাবশ্যক। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড প্রতিনিধিকে (মেল্ফ^ার) যদি স্ট’ানীয় কৃষকদের কৃষি সমস্যা সমাধানের বাড়তি দায়িÍ^ দেওয়ার ব্যবস্ট’া সরকার থেকেই করা হয় তাহলে দেশের কৃষি খাত অনেকটাই যে উপকৃত হবে সে ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ থাকে না। সরকার চাইলে জনপ্রতিনিধিদের জনগণের অধিকতর সেবামহৃলক কাজে লাগাতে পারে। যাক সে প্রসঙ্গ। ফিরে আসি টেকসই ও ঝুঁকিমুক্ত কৃষিব্যবস্ট’া প্রসঙ্গে। এখন থেকে দু’তিন দশক আগেও আমরা যখন গরু-মহিষের ™^ারা হাল চাষ করতাম তখন অনেককেই আক্ষেপ করে বলতে শোনা যেত, কৃষির আধুনিকায়ন ছাড়া এ দেশের উল্পুতি হবে না। মাল্পব্দাতা আমলের কৃষি প™ব্দতি বাদ দিতে হবে। আধুনিক বৈজ্ঞানিক প™ব্দতিতেই কৃষি কাজ করতে হবে। সত্যি কথা বলতে কি, আমরা জমি চাষাবাদের ক্ষেত্রে গরু-মহিষের বদলে বর্তমানে কলের লাঙল ব্যবহার করছি। সেচের জন্য সেচযšú ব্যবহার করছি। কীটপতঙ্গের হাত থেকে রেহাই পেতে বহুজাতিক কো¤ক্সানিগুলোর কীটনাশক ব্যবহার করছি যত্রতত্র। মাল্পব্দাতা আমলের কৃষিব্যবস্ট’ার স্ট’লে আগত আধুনিক কৃষিব্যবস্ট’া ঠিক কতটুকু গ্রহণীয় আর কতটুকুই-বা বর্জনীয় তা আমরা মোটেও ভেবে দেখিনি। যাদের দায়িÍ^ ছিল অনেক আগেই জটিল এ বিষয়গুলো দেশের বৃহৎ স্ট^ার্থ ভেবে দেখার তারাও সময়মতো ভেবে দেখেননি। গোবর সার ছাড়া জমিতে ফসল ফলানোর সল্ফ¢াবনার মাত্র ২০-২৫ বছর আগে এ দেশের কোনো কৃষক তা কল্কপ্পনাও করতে পারত না। অথচ রাসায়নিক সারের বদৌলতে কৃষকদের মধ্যে ইদানীং এমন ধারণা জš§লাভ করেছে, কিছু রাসায়নিক সার প্রয়োগ করলেই যথে®দ্ব পরিমাণে ফসল ফলানো সল্ফ¢ব। কিন্তু মাটির স্ট^াস্ট’্য বলেও যে একটা কথা আছে এ দেশের কৃষকদের তা সঠিকভাবে কখনোই বোঝানো হয়নি। স¤ক্স্রতি কৃষি স¤ক্স্রসারণ অধিদফতরের কৃষি বিশেজ্ঞদের মতে, স্ট^াভাবিক উৎপাদনের জন্য ফসলি জমিতে ৫ শতাংশ জৈব পদার্থের প্রয়োজন হলেও দেশের মাটিতে আছে দেড় শতাংশেরও কম। তাদের মতে, গত ৩০ বছরে ফসলি জমিতে প্রায় ৬ কোটি টন জৈব সারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ অবস্ট’া চলতে থাকলে এ দেশের কৃষিতে মহাবিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠবে।
অন্যদিকে ফার্টিলাইজার রিকমেন্ডেশন গাইডলাইন অনুযায়ী দেশে বছরে ৮৬ লাখ টন জৈব সারের ব্যবহার অত্যাবশ্যক হলেও বছরে জৈব সারের উৎপাদন ও ব্যবহার হচ্ছে মাত্র সাড়ে ১২ হাজার টনের মতো। অন্যদিকে বেশি ফলনের আশায় বছরে প্রায় সাড়ে চার লাখ টন অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে করে একদিকে যেমন মাটির স্ট^াস্ট’্য ন®দ্ব হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে, অথচ খাদ্যের যথাযথ পু®িদ্বমান বজায় থাকছে না। স¤ক্স্রতি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্ট’ার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, জমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে সাময়িক ফসলের উৎপাদন বৃ™িব্দ হলেও জমির ভবিষ্যৎ ও পরিবেশ ত্রক্রমেই ন®দ্ব হচ্ছে। খাদ্যশস্যে থেকে যাচ্ছে বিষত্রিক্রয়া। সংস্ট’াটির মতে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সারের ব্যবহার বাড়িয়ে চাষাবাদ করতে হবে। সুতরাং জৈব সারের ব্যবহার বৃ™িব্দতে সরকারের প্রচার-প্রচারণা বৃ™িব্দর কোনোই বিকল্কপ্প নেই।
লেখক : প্রাবল্পিব্দক

রাসায়নিক সারের সংকট মুহূর্তে ...

০৬.১১.৮
ডেসটিনি ।। মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি

দেশে রাসায়নিক সারের সংকটময় মুহূর্তে মিঠাপুকুরের উদ্যমী যুবক রওশন কবীর কৃষকদের জন্য সু-সংবাদ নিয়ে এসেছেন। নিজের উৎপাদিত জৈব সার সূলভমূল্যে কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করার ব্যবস্থা করার মহতি উদ্যোগ নিয়েছে তিনি। পাশাপাশি আরো অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও নিজ নিজ উদ্যোগে জৈব সার উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। এসব জৈব সার ব্যবহারে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।
মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের পাইকান গ্রামের বাসিন্দা প্রবীণ শিক্ষক আ. রউফ মাস্টারের ছেলে রওশন কবীর একজন বেকার যুবক। তিনি স্বাবলম্বী হতে অনেক কিছু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। চেষ্টা করেছেন সফল হতে। এ এলাকায় অনেকেই জৈব সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী। তিনিও শিখলেন জৈব সার তৈরির পদ্ধতি। কতিপয় বেকার যুবককে সঙ্গে নিয়ে তৈরি করেছেন জৈব সার। এ সারের নাম দেয়া হয়েছে পল্লী বন্ধু জৈব সার। এই উদ্যমী যুবক জানান, রাসায়নিক উপকরণ ছাড়াই সম্পূর্ণ জৈব উপকরণ দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে সার তৈরি করা হচ্ছে। প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি করে প্যাকেটজাত করা হয়। এই সার জমিতে প্রয়োগ করলে কোনো প্রকার রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হবে না। নিজের সহ প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের জমিতে এর মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে রওশন কবীর উৎপাদিত পল্লীবন্ধু জৈব সার প্রয়োগ করে ভালো ফলন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি জানান, এই জৈব সারের উপকরণ হচ্ছে তামাক ক্রাস, ইক্ষুর ছোবা, কচুরিপানা, ঝিনুক চূর্ণ, গন্ধক, গাছের পাতা ও খড়। এ সার তৈরির উৎপাদক এবং পল্লীবন্ধু জৈব সারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রওশন সার তৈরি ও বাজারজাত করণের অনুমতি চেয়ে জেলা প্রশাসক, কৃষি বিভাগ, নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেছেন।

রাউজানে ডিলারদের গুদামে ইউরিয়া গলে পানি হচ্ছে

০৬.১১.০৮
ডেসটিনি ।। রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

রাউজানের ১১ সার ডিলারের গুদামে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার অবিক্রিত রয়ে গেছে। এ অবস্থায় গত মাসের কোটায় বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ ১১ ডিলারের নামে আরো ২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের বরাদ্দ দিয়েছে। এখন সার নিয়ে বিপাকে পড়েছে এলাকার ডিলাররা। অধিকাংশ ডিলার জানিয়েছে বরাদ্দ দেয়া সার মিল থেকে না উঠালে ডিলারশিপ বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কথা মাথায় রেখে অধিকাংশ ডিলার গুদামে নতুন করে বরাদ্দ পাওয়া সার উঠিয়েছে। দক্ষিণ রাউজানের পাহাড়তলি ইউনিয়নের সার ডিলার আবদুস শুক্কুর সওদাগড় জানিয়েছে, তার গুদামে আগের অবিক্রিত মজুত সার নিয়ে তিনি বিপাকে আছেন। চটের বস্তার সার গলে পানি হয়ে বেরুচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন মিল থেকে সার ভর্তির সময় চটের বস্তার ভেতর পলি ব্যাগ ঠিকমতো বসানো হয় না। এ কারণে অধিকাংশ চটের বস্তার সার দ্রুত গলে যায়। মেসার্স মোজ্জাম্মেল অ্যান্ড ব্রাদার্সের পক্ষে উপজেলার ফকিরহাটে সার বিক্রি করেন মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। তিনিও অভিযোগ করেছেন মিলকর্তৃপক্ষ চটের বস্তায় সার যে প্রক্রিয়ায় ভর্তি করে বাজারজাত করছে, এসব চটের বস্তার সার এনে বিক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অল্প কয়েকদিনে এ বস্তার সার গলতে শুরু করে। প্রতিদিন পানি হয়ে সার গলে যাওয়ায় ওজনে কম হয়। খুচরা (কেজিতে) বিক্রি করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিক্রেতারা। সার ডিলার মেসার্স সুলতান ট্রেডার্সের মালিক মোহম্মদ আবুল মনছুর সাবের মজুত সম্পর্কে বলেন, গত মাসের কোটায় পাওয়া সারের মজুত তার গুদামে অবিক্রিত থাকলেও নতুনভাবে বরাদ্দ পাওয়া সার গুদামে উঠিয়েছেন। তিনি জানান, মজুত সার বিক্রির জন্য আগামী বোরো মৌসুম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কৃষি সংশিষ্ট লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আমন মৌসুমে সাধারণত কৃষকরা সার কম ব্যবহার করেন। তার ওপর সারের মূল্যবৃদ্ধিতে অধিকাংশ কৃষক আমন মৌসুমে এবার জমিতে সারের ব্যবহার করেননি। যার ফলে ডিলারদের গুদামে সারের মজুত রয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, এখানে অক্টোবর-নভেম্বর দুই মাসে সারের চাহিদা মাত্র ৩০০ মেট্রিক টন। এখন ডিলারদের কাছে যে পরিমাণ সার মজুত আছে তা দিয়ে আগামী নভেম্বরের চাহিদা মিটিয়ে আরো অবশিষ্ট থাকার কথা। নতুন করে পাওয়া সার বোরো মৌসুমে কাজে লাগবে।
গত সেপ্টেম্বরের কোটায় পাওয়া অবিক্রিত সারের মজুতের কথা স্বীকার করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষকরা আমন চাষাবাদে এবার সারে ব্যবহার কম করেছে। এ কারণে বিপুল পরিমাণ সার অবিক্রিত থেকেছে। তিনি বলেন, উপযুক্ত মাত্রায় সার ব্যবহার করলে সারের মজুত থাকার কথা নয়। ডিলারদের নতুন করে সারের বরাদ্দপত্র দেয়া প্রসঙ্গে বলেন, রুটিন চাহিদার তালিকা অনুসারে সারের বরাদ্দপত্র দেয়া হয়েছে। নতুন করে পাওয়া সারের বরাদ্দ উঠিয়ে এর মধ্যে আট ডিলার নিজ নিজ গুদামে মজুত করেছে। তিনি জানান, তার এলাকার ডিলারদের কাছে থাকা মজুত সার কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে সংকটকালে বিভিন্ন এলাকায় চাহিদাপত্রের বিপরীতে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৫৫ টন সার বাঁশখালী উপজেলায় পাঠানোর ব্যবস্থা হয়েছে।
চটের বস্তার সার গলে যাওয়ার প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের ব্যস্থাপক (উৎপাদন) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, চটের বস্তায় সার বেশি দিন মজুত থাকলে গলে যাওয়া স্বাবাভিক। বস্তা ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানান। তার কথায় এটি করতে পারে একমাত্র মন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্তের আলোকে।

Tuesday, November 4, 2008

বোরো চাষে ডিজেল-ভর্তুকি দ্বিগুণ হচ্ছে সঠিক সময়ে অর্থপ্রাপ্তিতে এবারো অনিশ্চয়তা

০৫.১১.০৮
ইত্তেফাক ।। নিজামুল হক

এবার বোরো মৌসুমে সেচ কাজে ডিজেল ক্রয়ে কৃষকদের জন্য সরকারের ভর্তুকি দ্বিগুণ হচ্ছে। এ ভর্তুকির অর্থ কৃষকদের মাঝে সরাসরি বিতরণ করা হবে । আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে এই অর্থ বিতরণ শুরু হবে বলেও জানা গেছে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের চাহিদা বিবেচনা করে ডিজেলে ভর্তুকি দ্বিগুণ করা হয়েছে। গত বোরো মৌসুমে ডিজেল খাতে কৃষকদের জন্য সরকারের ভর্তুকি ছিল ২৪৯ কোটি টাকা, এবার তা বেড়ে ৫৪০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। চাহিদার ভিত্তিতে এর পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে। এবার বোরো চাষে নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

ডিজেল ক্রয়ে কৃষকদের মাঝে ভর্তুকির টাকা বিতরণে সরকারি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দিহান কৃষক এবং কৃষি বিশেষজ্ঞরা। দেশের যেসব স্থানে আমন চাষ হয় না বা পানি তাড়াতাড়ি নেমে যায়, সে সব স্থানে বোরো বীজতলা তৈরি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। উত্তরাঞ্চলসহ বেশিরভাগ অঞ্চলেই নভেম্বরের মধ্যে আমন ধান মাঠ থেকে উঠে যাবে এবং কৃষকরা বোরো চাষের প্রস্তুতি নিবে ডিসেম্বরের শুরুতেই। জমি ও বীজতলা তৈরি এবং রোপণের পরও সেচ দরকার। সেচের বেশি প্রয়োজন জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে; কিন্তু সরকার এ যাবৎ কখনই নির্দিষ্ট সময়ে ভর্তুকির টাকা বিতরণ করতে পারেনি। বোরা চাষীদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হলেও মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ সংক্রান্ত কোন নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ে এখনো পৌঁছেনি। শুধু গত বছরের বোরো চাষীদের নামের তালিকা চেয়ে উপজেলা কৃষি অফিসে চিঠি পাঠানো হয়েছে । গত বছর ৬৭ লাখ কৃষকের মাঝে ২৪৯ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছিল। ওই বছর জমির পরিমাণ ছিল ৪৫ লাখ হেক্টর। উৎপাদন ছিল এক কোটি ৮৬ লাখ টন । আড়াই একরের বর্গা চাষী বা জমির মালিককে একর প্রতি ৫৩৪ টাকা বিতরণ করা হয়েছিল। জমি থেকে বোরো ওঠার আগ মুহূর্তে বা ওঠার পর গত মৌসুমে কৃষকরা ডিজেল ভর্তুকির টাকা পেয়েছিল।

এবার বোরো চাষের জন্য ৪৬ লাখ ৭৫ হাজার হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক কোটি ৮০ লাখ টন। এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল ৩৫ লাখ হেক্টর। গত মৌসুমের মতো এবারও এ টাকা বিতরণে দেরি হবে এমন আশংকা কৃষকদের।

কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, সরকার বোরো মৌসুম শেষ হবার পর বা নির্দিষ্ট সময়েই ঐ টাকা বিতরণ করে। এ টাকা কৃষকরাই তো পাবে, তাই বিতরণে বিলম্ব হলেও তেমন সমস্যা হয় না। এ বিষয়টি বিবেচনা করেই কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করে থাকে। কৃষকদের সাথে আলাপে তারা জানান, বোরো মৌসুমে সেচের সময় সরকারি ভর্তুকির টাকা পাওয়া গেলে তা সেচের কাজে লাগানো যায়। সেচের সময় কৃষকরা ঋণ নিয়ে ডিজেল ক্রয় করে। যা সুদসহ পরিশোধ করতে হয়। তারা কৃষকদের আর্থিক বিষয়টি বিবেচনা করে নির্দিষ্ট সময়ে ভর্তুকির টাকা বিতরণের দাবি জানান।

কৃষি বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বোরো চাষে নিরবচ্ছিন্ন সেচ দরকার। উৎপাদন বাড়নোর জন্য এ বিষয়টি বিবেচনায় আনা দরকার।

কৃষকের উন্নয়নে রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দাবি অর্থনীতিবিদদের

০৫.১১.০৮
।। ইত্তেফাক রিপোর্ট ।।

কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং কৃষি ঋণ বিতরণ আরো সহজ করার দাবি জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। কৃষি ঋণের বিপরীতে কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি ভর্তুকি দেয়া এবং জলাভূমি সংস্কারের পরামর্শ দেন তারা।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এন্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘ দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের ভূমিকা এবং কৃষি ঋণে তাদের অভিগম্যতা’ শীর্ষক সেমিনারে তারা এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান, অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. আবুল বারকাত, ঢাকা বিশ¡বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা প্রমুখ। এএলআরডির নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান খুশী কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন উন্নয়ন গবেষক ড. লেলিন আজাদ।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বেসরকারি ও সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষি ঋণ বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হলেও উচ্চ সুদের কারণে এর সুফল পাওয়া যায়নি। কৃষি ঋণের বিপরীতে কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি ভর্তুকি দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ড. আতিউর রহমান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এবং সরকার গঠনের পর কৃষির উন্নয়নের জন্য সত্যিকারের একটি পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হলে দেশের কৃষি যেমন বাঁচবে অর্থনীতির গতিশীলতাও অব্যাহত রাখা যাবে।

ড. আবুল বারকাত বলেন, সঠিক সময়, ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়া নিশ্চিত করতে পারলে আলাদা করে কোন ভর্তুকির দরকার হয় না। প্রান্তিক কৃষকের জীবনমান উন্নত করার জন্য কৃষি ঋণ নয়, সামগ্রিক জলাভূমি সংস্কার করতে হবে।

বিদ্যুতের অভাবে আসন্ন সেচ মৌসুমে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশংকা

০৫.১১.০৮
সমকাল প্রতিবেদক

আসছে সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের অভাবে চাষাবাদ ব্যাহত হতে পারে। সেচ মৌসুম পুরোদমে শুরু হয় ডিসেল্ফ^র থেকে। তবে দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে নভেল্ফ^র থেকেও সেচের প্রয়োজন পড়ে। প্রতি বছরই বিদ্যুৎ ও ডিজেল সংকটে কৃষকদের কমবেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সেচ মৌসুমে প্রস্ট‘তি নেওয়ার উদ্দেশে গত সোমবার বিদ্যুৎ বিভাগে এক আšøঃমšúণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংস্ট’াগুলোর প্রধান, জ্বালানি তেল বিপণনকারি সরকারি বিভিল্পু কো¤ক্সানি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, কৃষি মšúণালয়, বিআইড¦িèউটিএ, বিডিআর, কো¯দ্বগার্ডসহ সংশিè®দ্ব বিভিল্পু সংস্ট’ার প্রতিনিধিরা উপস্টি’ত ছিলেন।
সভা শেষে বিদ্যুৎ সচিব ড. এম ফাওজুল কবির খান এ বিষয়ে সমকালকে বলেন, ‘সরকার আশা করছে গতবারের মতো এবারো ভালভাবে কৃষকরা সেচ কাজ করতে পারবেন। সেচকাজে যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য সার্বিক প্রস্ট‘তি নেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি উ™ে^গ প্রকাশ করে বলেন, ‘কাপ্টøাই হ্রদে পানি কমে গেছে। ফলে এ কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ নাও পাওয়া যেতে পারে। এজন্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সেচকাজে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। তবে গ্যাসের সমস্যা না থাকলে প্রতিদিন চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সল্ফ¢ব হবে।’ সেচ মৌসুমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে নগর ও শহরাঞ্চলে লোডশেডিং বাড়বে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ মুহহৃর্তে এটা বলা যাচ্ছে না।
সভা সহৃত্রে জানা গেছে, সেচ মৌসুমে কমপক্ষে ২০ হাজার পা¤েক্স নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে হবে। কৃষি মšúণালয় এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে জানিয়েছে। এবার অতিরিক্ত চাহিদা বাড়তে পারে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ সচিব বলেন, উত্তরাঞ্চলে চাহিদা মেটাতে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোদমে চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীর কেন্দ্রগুলোও সচল রাখতে বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ সচিব জানান, আগামী ২০ নভেল্ফ^র সেচ কাজের প্রস্ট‘তি নিয়ে চহৃড়াšø বৈঠক করা হবে। ওই বৈঠকের পর নিশ্চিত করে বলা যাবে সেচ মৌসুম কতটুকু সফলভাবে মোকাবেলা করা যাবে।
সারাদেশে গভীর এবং অগভীর নলকহৃপগুলো ডিজেল ও বিদ্যুতের সাহায্যে চালানো হয়। বিদ্যুতের ঘাটতি ব্যাপক হওয়ার কারণে অধিকাংশ এলাকায় এই নলকহৃপগুলো ডিজেলনির্ভর হয়ে পড়েছে। তেল সরবরাহ কো¤ক্সানিগুলো বলছে, তেলের ঘাটতি সংকট হবে না। বিদ্যুৎ বিভাগ সহৃত্রও বলছে, সেচ মৌসুমে গতবারের মতো এবারো গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়ানো হবে।
বৈঠক সহৃত্রে জানা যায়, বিপিসি আশ^স্টø করেছে এবার ডিজেলের কোনো ঘাটতি হবে না। তবে সমস্যা হলো পরিবহনে। বিশেষ করে সঠিক সময়ে চাহিদা মতো কৃষককে ডিজেল দিতে না পারলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে না। সেজন্য পরিবহনটাও জরুরি।
বিপিসি সহৃত্র জানায়, সাধারণত প্রতি মাসে সারাদেশে ডিজেলের চাহিদা থাকে ৫/৬ হাজার টন। কিন্তু সেচ মৌসুমে এ চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ থেকে ১০ হাজার টনে। শুধু উত্তরবঙ্গে শুষ্ফ‹ মৌসুমে চাহিদা বাড়ে ২ হাজার টন।

মঠবাড়িয়ায় মৎস্য চাষিদের মাঝে অর্থ বিতরণ

০৫.১১.০৮
ডেসটিনি ।। মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

ওয়ার্ল্ড ফিস সেন্টার বাংলাদেশে ও ডাক দিয়ে যাই এর সহযোগিতায় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বড় মাছুয়া ও টিকিকাটা ইউনিয়নে সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬৫ জন মৎস্য চাষিকে পুকুরে সংস্কারের জন্য সহায়তা হিসেবে ২ লাখ ১৫ হাজার ৮২৯ টাকা বিতরণ করা হয়। বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহ আলম। ডাক দিয়ে যাই আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইউনুসুর রহমান, ওয়ার্ল্ড ফিস সেন্টারের প্রতিনিধি মো. জাহাঙ্গির আলম, ডাক দিয়ে যাই শাখা ব্যবস্থাপক আলম হাওলাদার, কামরুজ্জামান, ইউপি সদস্য বিমল শিকদার, ইউপি সচিব হেমায়েতসহ প্রমুখ।

লিবরেল জিংক ব্যবহারে সফল মাছ চাষিরা

০৫.১১.০৮
ডেসটিনি ।। ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

ধান, ভুট্টা, আলু, বেগুন, মরিচ, টমেটো, শাকসবজিতে সফলতার পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিশেষ করে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ, শ্যামনগর ও বাগেরহাটের চুলকাঠির মাছ ও চিংড়ি চাষিরা লিবরেল জিংক ব্যবহার করে সাফল্য লাভ করেছেন। পুকুরে মাছ ও ঘেরে চিংড়ির অন্যতম খাবার ফাইটোপ্লাঙ্কটন উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সুষমমাত্রায় বিভিন্ন রাসায়নিক ও জৈব সার ব্যবহার করা জরুরি। মৎস্য বিভাগ থেকে পুকুরে ও ঘেরে জৈব সার, খৈল ব্যবহারের জন্য চাষিদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে এবারই প্রথম চাষিরা নিজ উদ্যোগে সিবা সুইজারল্যান্ডের তৈরি লিবরেল জিংক প্রয়োগ করে অধিক সফলতা পেয়েছেন।
বাগেরহাটের চুলকাঠির সার ব্যবসায়ী বিপ্লব কু-ুর সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, আমন ধান কাটার পর চাষিরা চিংড়ি চাষ করেন এবং ধান রোপণের সময়ই চাষিরা বিঘা প্রতি ২০ গ্রাম হারে লিবরেল জিংক ব্যবহার করেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, লিবরেল জিংক ব্যবহার করলে পানির রঙ দ্রুত সবুজ হয়, মাছ বা চিংড়ি দেখতে চকচক করে, খাদ্য গ্রহণ চাহিদা বৃদ্ধি পায়, ফলে মাছ বা চিংড়ি আকারে বড় হয় এবং ফলন বাড়ে। প্রায় একই রকম তথ্য দিলেন সাতক্ষীরা কালীগঞ্জের সার ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার বিশ্বাস। তিনি জানান, কালীগঞ্জে প্রায় ৪ হাজার একর জমিতে চিংড়ি চাষ হয়। এর মধ্যে এ বছর প্রায় ৫০০ একর জমিতে লিবরেল জিংক ব্যবহার হয়েছে। এই জিংক ব্যবহার করে চাষিরা উপকার পাচ্ছেন।
চুলকাঠির চিংড়ি চাষি মেজবাহ উদ্দিন বলেন, লিবরেল জিংক ব্যবহার করলে তা দ্রুত পানির সঙ্গে মিশে যায়। ধান চাষের সময় বিঘা প্রতি মাত্র ২০ গ্রাম লিবরেল জিংক দিতে হয়। তবে ঘের প্রতি ৬-৭ বিঘায় ১০০ গ্রাম লিবরেল জিংক ব্যবহার করেও ভালো ফল পাওয়া যায়।
একটি স্বনামধন্য সার ও বালাইনাশক কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ, শ্যামনগর ও বাগেরহাটের চুলকাঠিতে মাছ ও চিংড়ি চাষ বেশি হয়। এসব এলাকার ঘের মালিকরা ব্যাপকভাবে ঘেরে লিবরেল জিংক ব্যবহার করছেন।
জানা যায়, লোনা পানিতে লবণের তারতম্যের জন্য মাছ-চিংড়ির দেহ থেকে পানি ও খনিজ লবণ বের হয়ে দেহে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এমনকি চিংড়ির শরীরে দ্রুত খোলস বদলে দেহ নরম ও থলথলে হয়ে যায়। এসব সমস্যা সমাধানে বিশেষ করে পানি দ্রুত দ্রবণীয় করতে লিবরেল জিংক কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

ধনে উৎপাদন প্রযুক্তি

০৫.১১.০৮
ডেসটিনি ।। কৃষি ও পরিবেশ

মাটি ও আবহাওয়া : সব রকমের মাটিতেই ধনের চাষ করা যায়। তবে বেলে দো-আঁশ থেকে এঁটেল দো-আঁশ মাটি ধনে চাষের জন্য উপযোগী। ধনে আবাদের জন্য পানি নিষ্কাশনের সুবিধা থাকতে হবে।
বপনের সময় : সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস।
জমি তৈরি : মাটি ও জমির প্রকারভেদে ৪ থেকে ৬টি চাষ ও মই দিতে হয়।
বীজ বপন : বীজ বোনার আগে পানিতে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। বীজ ছিটিয়ে বুনলে হেক্টরপ্রতি দ্বিগুণ বীজ ব্যবহার করতে হবে। ধনের অন্য কোনো ফসলের সঙ্গে মিশ্র ফসল হিসেবে সারি পদ্ধতিতে বপনের জন্য ৪ থেকে ৫ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।
সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি : ধনে চাষের জন্য মাঝারি উর্বর মাটিতে হেক্টরপ্রতি ১৫০ থেকে ৩০০ কেজি ইউরিয়া, ১০০ থেকে ২০০ কেজি টিএসপি, ৮০ থেকে ১০০ কেজি এমপি এবং ৭ থেকে ১০ টন গোবর সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন। জমি তৈরির সময় অর্ধেক গোবর, সমুদয় টিএসপি ও অর্ধেক এমপি সার প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক গোবর চারা রোপণের এক সপ্তাহ আগে মাদার দিয়ে মিশিয়ে রাখতে হবে। এর পর চারা রোপণ করে সেচ দিতে হয়। ইউরিয়া এবং বাকি অর্ধেক এমপি সার তিন কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। চারা লাগানোর ৮ থেকে ১০ দিন পর প্রথম কিস্তিতে এবং চারা লাগানোর ৩০ থেকে ৩৫ দিন পর বাকি সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা : পাতা ফসলের ক্ষেত্রে চারা গজানোর ১০ থেকে ১৫ দিন পর প্রতি সারিতে ৫ সেন্টিমিটার পরপর একটি চারা রেখে অন্যগুলো তুলতে হবে। বীজ ফসলের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ সেন্টিমিটার পরপর একটি চারা রাখতে হবে। নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার এবং মাটি ঝুরঝুরে করে দিতে হবে। প্রতিবার সেচের পর জমির ‘জো’ আসামাত্র মাটির জটা ভেঙে দিলে গাছের শিকড় প্রচুর পরিমাণে আলো-বাতাস পাবে, ফলে গাছের বৃদ্ধি সহজ ত্বরান্বিত হবে। ধনে গাছ জমির পানি জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। তাই জমাকৃত অতিরিক্ত সেচের পানি বা বৃষ্টির পানি ২ থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যেই নিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।

টমেটো চাষ ও পরিচর্যা

০৫.১১.০৮
ডেসটিনি ।। মো. শাহীন আলম

এখনই সময় টমেটো চাষের। টমেটোর উৎপত্তি স্থান মধ্য আমেরিকায়। বাংলাদেশে এটি বিলাতি বেগুন নামেও পরিচিত। এ সবজির জনপ্রিয়তা খুব বেশি পুষ্টিকর ও সুস্বাদু বলে। এতে আমিষ ১.৯ গ্রাম, শর্করা ৩০৬ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ২৩ কিলোক্যালরি, আঁশ ০.৭ গ্রাম, জলীয় অংশ ৯৩.১ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১.৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন ২০০ মিলিগ্রাম ছাড়াও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। আধুনিক পদ্ধতি ও উন্নত জাতের টমেটো চাষ করলে ফলন অনেক বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে আর্থিকভাবে লাভবানের পাশাপাশি পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা যায়। টমেটোর অনেক জাত রয়েছে। যেমন রুমা, মানিক, রতন, ভি এফ, সানমারজানো, অক্সহার্ট, মারগোব, বারি টমেটো-৩, বারি টমেটো-৫, অপূর্ব, শিলা, অনুপমা, বিনা টমেটো-২, বিনা টমেটো-৩, ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
মাটি ও জলবায়ু : সব ধরনের মাটিতে টমেটোর চাষ করা যায়। তবে দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি বেশি উপযোগী। সাধারণত ২০-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গাছে টমেটো ভালো জন্মে। তাই বাংলাদেশে শীতকালে টমেটো চাষের জন্য উপযুক্ত সময়।
জমি তৈরি ও চারা রোপণ : জমি ৪-৫ বার চাষ এবং মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে তৈরি করে নিতে হবে। বীজ রোপণের ৩০-৪০ দিন পর চারা রোপণের উপযোগী সময়। প্রতিটি সারিতে ২ সারি করে চারা লাগাতে হবে। চারা রোপণের দূরত্ব সারি থেকে সারি ৬০ সেন্টিমিটার, চারা থেকে চারার দূরত্ব ৪০ সেন্টিমিটার।
রোপণের সময় : নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত চারা রোপণ করা যায়।
সার প্রয়োগ : টমেটোর ভালো ফলনের জন্য নিম্নবর্ণিত হারে সার প্রয়োগ করতে হবে।
সারের নাম সারের পরিমাণ/হেক্টর
১। গোবর বা কম্পোস্ট ৫-৭ টন
২। ইউরিয়া ৫০০-৬০০ কেজি
৩। টিএসপি ৪০০-৫০০ কেজি
৪। এমপি ২০০-৩০০ কেজি
৫। কাইসেরাইট ৪০-৫০ কেজি
সার প্রয়োগ পদ্ধতি : সম্পূর্ণ গোবর, টিএসপি, এমপি, কাইনেরাইটের অর্ধেক ইউরিয়া ইত্যাদি সার শেষ চাষের সময় জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া সার সমান ২ কিস্তিতে চারা লাগানোর ১৫ ও ৩০ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে।
পরিচর্যা : প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির সার প্রয়োগের আগে পার্শ্বকুশিসহ মরা পাতা ছাঁটাই করে দিতে হবে। হরমোন প্রয়োগ সুবিধা এবং বাতাসে যেন হেলে না পড়ে সেজন্য বাঁশের কঞ্চি দ্বারা ঠেকনা দিতে হবে। প্রয়োজনে নিড়ানি দিতে হবে এবং মাটির উপরিভাগ আলগা করে দিতে হবে। ফলে আলো বাতাস প্রবেশের সুবিধাসহ মাটি রস বেশিদিন ধরে রাখতে পারবে। ৪-৬ বার সেচ প্রয়োজন অনুযায়ী দিতে হবে। তবে চারা লাগানোর ৩-৪ দিন পর হালকা এবং পরে প্রতি কিস্তি সার প্রয়োগের পর জমিতে সেচ দিতে হবে।
পোকা দমন : টমেটোর মূলত ২টি পোকা অধিক হারে ক্ষতি করে থাকে যথা জাব পোকা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা। জাব পোকা টমেটোর গাছের পাতা, কচি ডগা ও কা- থেকে রস শুষে খেয়ে গাছের ক্ষতি করে এবং গাছে মোজাইক রোগ ছড়ায়। এ পোকা দমনে ১০০০ লিটার পানির সঙ্গে রগোর এল-৪০/সাইফানন ৫৭ ইসি বা ক্লাসিক-২০ ইসি মিশিয়ে প্রতি হেক্টর জমিতে স্প্রে করতে হবে। অন্যদিকে ফল ছিদ্রকারী পোকার কিড়া টমেটো ছিদ্র করে ভেতরে ঢোকে এবং কুড়ে কুড়ে খায় ফলে আক্রান্ত ফল খাওয়ার অনুপযুক্ত করে ফেলে। এ পোকা দমনের জন্য প্রথমত আক্রান্ত পাতা ও ফল সংগ্রহ করে নষ্ট করে ফেলতে হবে। যদি বেশি পরিমাণে আক্রান্ত হয় তবে ফরাটাপ বা কেয়ার ৫০ এসপি ২ গ্রাম হারে প্রতি লিটার পানির সঙ্গে মিশিয়ে গাছের সব অংশ স্প্রে করতে হবে। তাছাড়াও বাইকাও-১ প্রয়োগ করে পোকা দমন করা যেতে পারে।
রোগ দমন : টমেটোর ঢলে পড়া রোগ লাল মাটিতে চাষ করলে বেশি পরিমাণে হতে পারে তাই চাষ করার আগে জমি নির্বাচনে সতর্ক হতে হবে এবং পরিমিত সেচ দিতে হবে। টমেটোর আগাম ধসা রোগের ফলে গাছের পাতা এক সময় সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায় ফলে ফসল মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই রোগমুক্ত বীজ ও চারা রোপণ করতে হবে এবং প্রয়োজন মতে কৃষিবিদদের সাহায্য নিতে হবে। টমেটোর নাবি ধসা রোগের কারণ ছত্রাক। এ রোগ অনেকটা আগাম ধসা রোগের মত তাই একই রকম রোগ দমনে একই রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। ভাইরাসের কারণে টমেটোর মোজাইক রোগ এবং বুশি স্টান্ট রোগে আক্রান্ত গাছ দেখামাত্র তুলে ধ্বংস করতে হবে এবং প্রয়োজনে কৃষিবিদদের পরামর্শ নিতে হবে। টমেটোর শিকড়ের গিট রোগে হেক্টর প্রতি ৬০ জি ফুরাফুরান বা কেয়ার ৪ জি ৫ কেজি প্রয়োগ করতে হবে।
ফসল সংগ্রহ : চারা লাগানোর ৭৫-৮০ দিনের মধ্যে টমেটোর ফল সংগ্রহ করা যায় এবং প্রতি গাছ থেকে ৭-৮ বার ফল সংগ্রহ করা যায়। ফল কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থায় তোলা যায়।
ফলন : হেক্টর প্রতি ফলন ৩০-৪০ টন পর্যন্ত হয়।

হাজারো সমস্যায় জর্জরিত দেশের প্রাšিøক কৃষক

০৪.১১.০৮
সমকাল প্রতিবেদক

হাজারো সমস্যার আবর্তে জর্জরিত এদেশের তৃণমহৃল কৃষক ও কৃষি। জাতীয় কৃষি কনভেনশনে উঠে এলো সেসব সমস্যার কথা। সার সংকট, বীজ সংকট, কৃষি জমির ওপর ভূমিদস্যুর তা-ব, জলাব™ব্দতা প্রভৃতি সমস্যা তুলে ধরলেন প্রাšিøক কৃষক-কৃষাণিরা।
গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলানগরে অনুষ্ঠিত জাতীয় কৃষি কনভেনশনে বিভিল্পু এলাকার তৃণমহৃল কৃষকরা যোগ দেন। তাদের মুখ থেকে বেরিয়ে আসে তাদের সমস্যার কথা। সাতক্ষীরার দেবহাটা থেকে আসা কৃষাণি হামিদা বেগম বলেন, ওই এলাকায় অনেক ভূমিহীন চাষী রয়েছেন। তাদের বিকল্কপ্প আয়ের কোনো মাধ্যম নেই। সরকারি বিপুল খাস জমি থাকলেও প্রভাবশালীরা দখলে রেখে ফায়দা লুটছে। অথচ ওই জমি ভূমিহীনদের কাছে লিজ দিলে তারা আবাদ করে খেয়ে বাঁচতে পারতেন।
ঝিনাইদহের শৈলকূপার গোলাম মোস্টøফা বলেন, তার এলাকায় পর্যাপ্টø সার নেই। সারের জন্য কৃষকদের মধ্যে হাহাকার চলছে। অথচ সরকার বলে, সারের কোনো ঘাটতি নেই। সারের যদি ঘাটতিই না থাকবে, তাহলে আমাদের স্টিèপ নিতে হবে কেন? তিনি বলেন, সারের জন্য ওসির কাছে গিয়েছি। ওসি আশ^াস দিয়েছেন এক সপ্টøাহের মধ্যেই সার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু কত সপ্টøাহ পার হচ্ছে, সংকট নিরসন হচ্ছে না।
টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে আসা কমলা ম্রং বলেন, এখানে গারো আদিবাসীরা কলা চাষ করে জীবন ধারণ করত। সেই কলাচাষেও বাধা দিচ্ছে প্রভাবশালীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাসানুজ্জামান বলেন, প্রভাবশালী কৃষকরা বেশি উৎপাদনের আশায় জমিতে কীটনাশক ও ক্ষতিকর সার ব্যবহার করছে। সেই বিষত্রিক্রয়ায় অনেক প্রজাতির ছোট মাছ বিলুপ্টø হয়ে যাচ্ছে। এখন আমরা মাছ খেতে পাই না। তিনি বলেন, এদেশে সব সরকার কৃষকদের হেলাফেলা করেছে। তাদের ভাগ্যের উল্পুয়নে কেউ এগিয়ে আসেনি। এমনকি এই কনভেনশনে লুঙ্গি পরে আসার কারণে তাকে মহৃল ফটকে আধাঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছে। অথচ এটা কৃষকদেরই সল্ফে§লন। এমন অগণিত সমস্যার কথা তুলে ধরেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালার অবনিচা চাকমা, গাইবাল্পব্দার সাজেদা বেগমসহ আরো অনেকে। তারা উপস্টি’ত অতিথিদের কাছে এসব সমস্যার সমাধান চান। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, তৃণমহৃল পর্যায়ের কৃষকদের সমস্যার অšø নেই। সেই সমস্যা সমাধানে কৃষকদের সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। আšøঃযোগাযোগ বৃ™িব্দর মাধ্যমে সংগঠিত হয়েই দাবি আদায় করতে হবে।
গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্ট’ায়িÍ^শীল উল্পুয়নের জন্য প্রচারাভিযানের উদ্যোগে আয়োজিত এ কনভেনশনে শিরীন আখতারের সভাপতিÍে^ বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান, কৃষক লীগের সভাপতি মির্জা আবদুল জলিল, সাবেক কৃষি প্রতিমšúী মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাসদের সহ-সভাপতি শরীফ নুরুল আল্ফি^য়া, আওয়ামী লীগ নেতা ড. আবদুর রাজ্জাক, অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত, এনজিও ব্যক্তিÍ^ ড. আতিক রহমান, পলাশ কাšিø দাশ, জিয়াউল হক মুক্তা প্রমুখ। বক্তারা কৃষকদের খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্ট’ান ও অর্থনৈতিক প্রবৃ™িব্দর জন্য সামগ্রিক কৃষি সংস্ট‹ারের ওপর জোর দেন।

রৌমারীতে কৃষি পুনর্বাসনের

০৪.১১.০৮
সমকাল ।। রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্টø ক্ষুদ্র ও প্রাšিøক চাষীদের কৃষি পুনর্বাসন প্রকল্কেপ্পর কৃষি ভর্তুকির টাকা বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার বন্দবেড় ও শৌলমারী ইউনিয়নের শতাধিক ক্ষতিগ্রস্টø কৃষক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের বিরু™েব্দ দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দায়ের করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা কৃষি কর্মকর্তার বিরু™েব্দ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
কৃষকরা অভিযোগে জানান, বন্দবেড় ইউনিয়নের ৩নং ¦èকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ক্ষতিগ্রস্টø কৃষকদের কাছ থেকে এক শ’ থেকে ২ শ’ করে টাকা ঘুষ গ্রহণ করে তালিকায় নাম উঠিয়েছে। একই অভিযোগ রয়েছে প্রতি ¦èকের দায়িÍ^রত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরু™েব্দ। অভিযোগ করা হয়েছে বন্দবেড় ও শৌলমারী ইউনিয়নে ৫ হাজার ৬৮৫ কৃষকের মধ্যে টাকা বিতরণের কথা থাকলেও দুই হাজারের অধিক কৃষককে টাকা না দিয়ে তা আͧসাৎ করা হয়েছে। অসংখ্য কৃষকের অভিযোগ, তালিকায় নাম থাকলেও টাকা তারা পাননি।
কৃষক ছমেদ আলী, সবুজ, ফরিজুল, হাছেন আলীসহ অনেক কৃষক বলেন, তাদের কাছ থেকে ১ শ’ টাকা করে ঘুষ গ্রহণ করা হয়েছে। সরবেশ, ইব্রাহিম, মোমদেল, ইউসুফ আলী, আব্বাস আলী জানান, ঘুষ দিলেও তাদের নামের টাকা তারা পায়নি। ক্ষতিগ্রস্টø কৃষক জুরান আলী, মজিবর রহমান, রহিমন, সোনা ভানু, আলতাফ হোসেন জানান, তাদের নামের টাকা কৃষি কর্মকর্তা আͧসাৎ করেছে। সোমবার অভিযোগ দাখিল করার সময় এ প্রতিবেদকের কাছেও কৃষকরা অভিযোগ করেন।
কৃষি অফিস সহৃত্রে জানা গেছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্টø ক্ষুদ্র ও প্রাšিøক চাষীদের পুনর্বাসনের জন্য ৫১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। যেসব কৃষকের রোপা আমন ধান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্টø হয়েছে তাদের মধ্যে যাদের আড়াই একরের নিচে জমি রয়েছে এ রকম ১৩ হাজার কৃষকের তালিকা তৈরি করে ইতিমধ্যে ভর্তুকির টাকা বিতরণ কার্যত্রক্রম প্রায় শেষ হয়েছে।
অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ ও আͧসাৎ প্রসঙ্গে কৃষি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, কিছু কিছু অভিযোগ এসেছে সেগুলো তদšø করা হচ্ছে। ইউএনও মোঃ হানিফ উদ্দিন জানান, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়গুলো তদšø করে ব্যবস্ট’া নেওয়া হবে।

টিএসপি এসএসপি ও পটাশ সারের অগ্নিমূল্য

০৩.১১.০৮
সমকাল ।। মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

অস্ট^াভাবিক মহৃল্য বৃ™িব্দর কারণ দেশের অন্যতম সরিষা আবাদকারী এলাকা হিসেবে খ্যাত টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার কৃষকরা সরিষার আবাদে অতি প্রয়োজনীয় এসব টিএসপি, এসএসপি ও পটাশ সার প্রয়োজনমাফিক ব্যবহার করতে পারছেন না। ফলে চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় সরিষার ফলন বিপর্যয়ের আশগ্ধকা রয়েছে। অবশ্য কৃষি বিভাগ এ আশগ্ধকা নাকচ করে দেয় বলে সংশিè®দ্ব সহৃত্রে জানা গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাব মতে, চলতি সালে এ উপজেলায় ৮ হাজার ৭ শ’ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। স¤ক্স্রতি ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ রেশমীর কারণে সরিষার আবাদ বিঘিœত হলেও এখন তা আবার শুরু হয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে টিএসপি, এসএসপি এবং পটাশ সারের অ¹িুমহৃল্য।
সহৃত্র জানায়, গত বছর এ সময়ে ৫০ কেজি ওজনের টিএসপি সারের ভর্তুকি মহৃল্য (সরকারের দেওয়া ভর্তুকির পর যে মহৃল্য দাঁড়ায়) ছিল ১ হাজার টাকা থেকে ১৪ শ’ টাকা। এবার সেই একই সারের ভর্তুকি মহৃল্য হয়েছে ৩ হাজার ৫ শ’ টাকা। একইভাবে এসএসপি সারের ভর্তুকি মহৃল্য ১ হাজার টাকার স্ট’লে ২ হাজার ২ শ’ টাকা এবং পটাশ ১ হাজার ৪ শ’ টাকার স্ট’লে সোমবারের সার্কুলার অনুযায়ী ৩ হাজার ৫ শ’ টাকা বলে ডিলাররা জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা ছয়দানা গ্রামের স্ট^চ্ছল কৃষক শামসুল হক জানান, ৪ শতক জমিতে সরিষার আবাদ করব। কিন্তু গত বছর সেখানে টিএসপি, এসএসপি এবং পটাশ মিলে ১০ বস্টøা সার ব্যবহার করেছিলাম, সেখানে এ বছর ৪ বস্টøা ব্যবহার করাই দুষ্ফ‹র হয়ে পড়েছে। একই কথা জানান এ উপজেলার চাঁনপুর গ্রামের কৃষক আহল্ফ§দ আলী ও বড়দাম গ্রামের কৃষক তারাপদ সরকার।
অতি প্রয়োজনীয় এসব সারের অ¹িুমহৃল্যের কারণে বহনতলী গ্রামের ক্ষুদ্র কৃষক প্রফুল্কè সরকারসহ অনেক সাধারণ কৃষকই সরিষার আবাদ না করার চিšøা-ভাবনা করছেন।
এ অবস্ট’ায় এবার মির্জাপুর উপজেলার সরিষার ফলন বিপর্যয়ের আশগ্ধকা করছে কৃষকসহ সংশিè®দ্ব মহল। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খসরু মিয়া সরিষার ফলন বিপর্যয়ের আশগ্ধকা নাকচ করে জানান, এ পর্যšø কৃষকরা মাত্রাতিরিক্ত সার ব্যবহার করেছেন। টিএসপি, এসএসপি এবং পটাশ সারের মহৃল্য বাড়ায় তারা এখন সুষম সার ব্যবহার করবেন। এতে ফলন ঠিক হবে বলেই তিনি মনে করেন। তাছাড়াও অনেক কৃষক ক¤েক্সা¯দ্ব সার ব্যবহার করবেন। সে সহৃত্রে সরিষার ফলনে কোনো বিপর্যয়ের আশগ্ধকা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

Saturday, November 1, 2008

আলফাডাঙ্গায় উঠতি আমন ধানে লেদা পোকার আক্রমণ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা

০১.১১.০৮
ইত্তেফাক ।। আলফাডাঙ্গা সংবাদদাতা

উঠতি রোপা আমন ধানে লেদা পোকার আক্রমণে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের কৃষকরা আতংকিত হয়ে পড়েছেন। উপজেলার প্রায় ২শ’ হেক্টর জমিতে লেদা পোকার আক্রমণে এ বছর কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছে।

চলতি বছরে পরপর দুইটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকরা ইতোমধ্যে সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে ব্যাঙের ছাতার মত গজানো এন,জি,ও ধরনের প্রতিষ্ঠান থেকে মহাজনদের কাছ থেকে চড়াসুদে ঋণ নিয়ে কৃষকরা বাড়তি দামে বীজ, সার, কীটনাশক কিনে উঠতি আমনের চাষ করে।

এ বছর কৃষকরা ২টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি আমন আবাদের মাধ্যমে পোষাতে পারবেন বলে বুড়াই ইউনিয়নের শিয়ালদি গ্রামের কৃষক মুক্তার মোল্লা জানিয়েছিলেন; কিন্তু আমন ধান ঘরে তোলার আগে লেদা পোকা ধানের শীষ কেটে ফেলায় কৃষকদের মুখের হাসি ম্লান হয়ে গেছে।

উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে মধুমতি নদী। এ বছর জেগেওঠা নদীর চরে কয়েক বছরের মধ্যে আমনের সেরা ফসল হয়েছে বলে কৃষকরা জানান। বানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বাবু হাদী জানান, চরাঞ্চলে আমনের আবাদ ভাল হলেও কৃষি অফিসের মাঠকর্মীদের সঠিক দিক-নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানের অভাবে লেদা পোকা অধিক হারে বেড়েছে। অন্যদিকে সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা সময় মতো সার কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেনি। এ কারণেও পোকার আক্রমণ হতে পারে বলে চেয়রম্যান মন্তব্য করেছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি তথ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা স্বপনকুমার হাওলাদার জানান, এ বছর আমনের চাষ দ্বিগুণ হওয়ায় সার ও কীটনাশকের সংকট দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে, লেদা পোকা দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে পূর্বেই লেদা পোকার আক্রমণ ঘটায় আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছেন কৃষি কর্মকর্তা।

চলন বিলের ৯ উপজেলায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির সরিষা বিনষ্ট

০১.১১.০৮
ইত্তেফাক ।। চলন বিল সংবাদদাতা ।।

২ দিনের রোদেও বপনকৃত সরিষা ক্ষেতের বৃষ্টির পানি শুকায়নি ৩ দিনের টানা বর্ষনে ৯টি উপজেলায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির বপনকৃত সরিষা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে। এ বছর ৯টি উপজেলায় ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধার্য করা হয়। এমনকি তাড়াশ, সিংড়া ও উল্লাপাড়া উপজেলাতেই সাড়ে ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে নিবিড় সরিষার আবাদের পরিকল্পনা করা হয়। বৃষ্টির আগে তাড়াশ উপজেলায় ২ হাজার ২শ’ হেক্টর। সিংড়ায় ২ হাজার ৫শ হেক্টর এবং উল্লাপাড়া উপজেলায় ২ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে সরিষা বপন করা হয়। এছাড়া আত্রাই, গুরুদাসপুর, চাটমোহর, ভাঙ্গুরা, ফরিদপুর এবং শাহজাদপুর উপজেলাতেও প্রায় ৮ হাজার হেক্টর সরিষা বপন করা হয়। বপনকৃত ৮০ ভাগ ক্ষেত্রেই সরিষার চারা গজানোর আগেই বৃষ্টি শুরু হয়। ২০ ভাগ জমির চারা গজালেও বৃষ্টির পানি জমিতে জমে যায় এবং বর্তমানে সরিষা গাছ লাল হয়ে যাচ্ছে। উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান পানি জমে লাল হয়ে গেলে এগুলো বিনষ্ট হয়েছে। একই মত দিয়েছেন সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

জলাবদ্বতা : গোয়ালন্দে আমন ও মাছ চাষ ব্যাহত

০১.১১.০৮
সমকাল ।। সিরাজুল ইসলাম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পশ্চিম উজানচর এলাকার একটি খাল ভরাট করে সেখানে দোকানপাট নির্মাণ করেছে প্রভাবশালীরা। ফলে বল্পব্দ হয়ে গেছে ওই খালের পানিপ্রবাহ। সৃ®িদ্ব হয়েছে জলাব™ব্দতা। যার দরুন ওই এলাকার প্রায় দুই শ’ বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ ও ৩৫-৪০টি পুকুরে মাছ চাষ মারাͧকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। লাখ লাখ টাকার ক্ষতির সল্ফ§ুখীন হচ্ছেন ওই এলাকার কৃষকরা। জলাব™ব্দতা নিরসনে এলাকাবাসী গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। এলাকাবাসী জানান, পশ্চিম উজানচর রিয়াজউদ্দিনপাড়া ঈদগাহ মাঠ স¤ক্স্রসারণের নামে ২০০৫ সালে স্ট’ানীয় মহিলা ইউপি সদস্য সেলিনা আক্তার ওই খালটির একাংশ ভরাট করেন। ঈদগাহ মাঠের জন্য সরকারি বরাদ্দের ৪ মেট্রিক টন চালের অর্থ দিয়ে ভরাট করা ওই খালের ওপর সেলিনার স্ট^ামী সুলতান মৃধা ও তার ছোট ভাই লাভলু মৃধা ৫টি টিনের দোকান ঘর নির্মাণ করেন। এতে খালের পানিপ্রবাহ বল্পব্দ হয়ে জলাব™ব্দতার সৃ®িদ্ব হয়। ফলে প্রতি বছর দিরাজ মৃধাডাঙ্গা, রিয়াজউদ্দিনপাড়া ও ছবদুল খালপাড়া গ্রামের প্রায় ২০০ বিঘা জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে যায়। ভেসে যায় ৩৫-৪০টি পুকুরের মাছ। একই কারণে ওই এলাকার কাতলমারী বিলটি পানিশহৃন্য হয়ে পড়ে। ফলে কৃষকরা পাট জাগ দিতে পারে না। পানি কমে যাওয়ায় বিলটিতে মাছের বিচরণ ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় বল্পব্দ হয়ে গেছে সেচ কাজ। এ সমস্যা সমাধানের দাবিতে ভুক্তভোগীরা স¤ক্স্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। মৃধাডাঙ্গা গ্রামের ইসকান্দার আলী, সালাউদ্দিন মৃধা, মোসলেম উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, ইমান আলী খান, শাহাদত হোসেন প্রমুখ অভিযোগ করেন, স্ট’ানীয় ইউপি মহিলা সদস্য সেলিনা আক্তারের স্ট^ামী সুলতান মৃধা তাদের ব্যক্তিস্ট^ার্থে সরকারি টাকায় ঈদগাহ মাঠ স¤ক্স্রসারণের নামে খালটি বল্পব্দ করে দিয়েছেন। সুলতান ও তার ভাই লাভলু মৃধা ভরাট করা জায়গায় ৫টি টিনের দোকান ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন। এ কারণে সৃ®দ্ব জলাব™ব্দতায় ওই এলাকায় রোপা আমন ধান ও মাছ চাষ ব্যাহত হচ্ছে। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য সেলিনা আক্তার ও তার স্ট^ামী সুলতান মৃধার সঙ্গে যোগাযোগের চে®দ্বা করা হলে তাদের সেলফোন বল্পব্দ পাওয়া যায়। সুলতানের ভাই আইয়ুব ও লাভলু মৃধা জানান, খালের বিভিল্পু অংশে লোকজন পাড় বেঁধে মাছ চাষ ও ঘরবাড়ি নির্মাণ করায় খালের পানিপ্রবাহ আগেই বল্পব্দ হয়ে যায়। তবে সরকারি টাকায় ঈদগাহ মাঠ স¤ক্স্রসারণের জন্য খালের একাংশ ভরাট করা এবং সেখানে দোকানপাট তৈরি করার বিষয়টি তারা স্ট^ীকার করেন। দোকান ভাড়ার কিছু টাকা ঈদগাহ মাঠের উল্পুয়নে ব্যয় করা হবে বলে তারা জানান। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম লতিফ জানান, জলাব™ব্দতার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর মৎস্য অফিসের এক কর্মকর্তাকে সেখানে পাঠানো হলে অভিযুক্তরা উল্কেল্টা ওই কর্মকর্তাকে অপমান করে। সরকারি অর্থে খাল ভরাট করে দোকান নির্মাণের বিষয়টি তার জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্ট’া নেওয়ার আশ^াস দেন তিনি।

মৌলভীবাজারের আমনক্ষেতে অজ্ঞাত রোগ এবারো আমনের মাঠ থেকে শহৃন্য হাতেই বাড়ি ফিরবে কৃষক!

০১.১১.০৮
সমকাল ।। হাসানাত কামাল, মৌলভীবাজার

‘ধানের শীষ না বারইয়া, সবুজ লাঠি বারইছে। লাঠি বারওয়ায় (বের হওয়ায়) ফসল আর অইতোনায়। সুদঅ টেখা (টাকা) আইননা ক্ষেত করছিলাম। ক্ষেতটা গেছে। এটা আল্কèাহর গজব ছাড়া কিচ্ছু নায়।’ বললেন, কৃষক ফুল মিয়া।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আথানগিরি গ্রামের আমন ফসলের মাঠে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেল, আমন ধানের শীষ বেরোলেও তাতে ধান নেই। শীষ একরকম শক্ত সবুজ লাঠির আকার নিয়েছে। ধানক্ষেতের এমন অবস্ট’া দেখে কৃষকরা দিশেহারা। কৃষকরা জানান, ধানক্ষেতে প্রথমে সবুজ লাঠি গজায়। পরে ফুল বের হয়ে পুরো ফসল ন®দ্ব হয়ে যায়। কয়েক বছর ধরে এ রকম হচ্ছে। এ বছরও তা-ই হয়েছে। আথানগিরি এলাকার কৃষক ফুল মিয়া, আবুল কালাম, আবদুর রহিম, মবু মিয়া, ছফু মিয়া, রফিক উল্কèাসহ অর্ধশতাধিক কৃষক জানান, এর প্রতিকার তাদের জানা নেই। তবে এসব কৃষকের ধারণা. সার সংকটসহ অন্যান্য কারণে জমির উর্বরতা কমে গেছে। ধানের পরিপহৃর্ণ শীষ বের হতে যেসব পু®িদ্বগুণের দরকার হয় সেগুলো আর জমিতে বিদ্যমান নেই। ফলে ধানের শীষ সবুজ লাঠির আকার পাচ্ছে। কৃষক আবুল কালাম বলেন, ‘এ রোগের প্রতিকারের জন্য কৃষি অফিসের স্ট’ানীয় সুপারভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি গোবর ও সার প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু তাতে কাজ হচ্ছে না।’
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন¯িদ্বটিউটের বিজ্ঞানী ড. গৌছ আলী মোবাইল ফোনে সমকালকে বলেন, ‘সরেজমিনে ধানের নমুনা না দেখে কিছু বলা যাবে না। আগামী রোববার থেকে সোমবারের মধ্যে ওই এলাকা পরিদর্শনে যাব। তখন এর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
এদিকে রাজনগর, কমলগঞ্জ, বড়লেখা, কুলাউড়া ও সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিল্পু এলাকার আমন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সবুজ লাঠি ছাড়াও পোকার আত্রক্রমণ, সার সংকট ও পানির অভাবে চাষাবাদ মারাͧকভাবে বিঘিœত হয়েছে।
রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের কৃষক আকদ্দছ আলী, হুরমত মিয়া, আবদুল লতিফ, খালিক মিয়া, সুন্দর আলী জানান, বেশ কিছুদিন ধরে কামারচাক ইউনিয়নের মশাজান, করাইয়ার হাওর, তেঘরি, পঞ্চানন্দপুর, তারাপাশা, গোবিন্দপুর, ইসলামপুর, নওয়াগাঁওসহ আশপাশের বিভিল্পু গ্রামের মাঠে আমন ফসলে মাজরা ও পাতা মোড়ানো পোকার আত্রক্রমণ দেখা দিয়েছে। পোকার আত্রক্রমণে ধানগাছের পাতা প্রথমে সাদা ও পরে খড়ের মতো হয়ে যাচ্ছে। পোকা গাছের কা খেয়ে ফেলায় গাছ মরে যাচ্ছে। কৃষকরা জানান, কীটনাশক ব্যবহার করেও কাজ হচ্ছে না।
রাজনগরের কৃষক সেলিম আহমদ, সদর উপজেলার আবদুল ওয়াহিদ রানা সমকালকে বলেন, ‘কীটনাশকে কোনো ফল মিলছে না। এদিকে পাখি শিকারিদের কারণে এলাকা থেকে পাখি উধাও। ফলে প্রাকৃতিক নিয়মে পোকামাকড় নিধনের উপায়ও আর নেই।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন¯িদ্বটিউটের বিজ্ঞানী ড. আবদুল কুদ্দুছ সমকালকে বলেন, পোকার আত্রক্রমণ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রতিরোধে বিজ্ঞানী ও গবেষকরা সারাদেশের ফসলের মাঠে কাজ করছেন। মৌলভীবাজারে দায়িত্বে রয়েছেন ড. গৌছ। তিনি সবুজ লাঠি বের হওয়ার কারণ হিসেবে বলেন, এটা একধরনের মাছির আত্রক্রমণে হতে পারে। তবে সরেজমিন নমুনা দেখে চূড়াšø কিছু বলা যাবে।
এদিকে মৌলভীবাজার কৃষি স¤ক্স্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ এলকে প-িত সমকালকে বলেন, ‘পানির অভাবে এবার কাগ্ধিক্ষত ফসল হয়নি। এ বছরে আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ১ লাখ ৭ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তা পহৃরণ হবে না। বিলল্ফে^ আমন ফসল না করে গম, শাকসবজি, সরিষা চাষাবাদের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ পাখি শিকারের বিষয়ে তিনি উ™ে^গ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা বল্পব্দ করতে হবে।’

About Me

My photo
প্রতিদিন বিভিন্ন সংবাদপত্র কৃষি বিষয়ে নানান সংবাদ প্রকাশ করে থাকে। এ সকল তথ্য কাজের জন্য খুবই সহায়ক। কিন্তু একজনের পক্ষে প্রতিদিন সবগুলো সংবাদপত্র পড়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। অথচ এ সকল বিষয়গুলো আমাদের সবার জন্য কম-বেশি দরকারি। এ চিন্তা থেকে আমরা বিভিন্ন সংবাদপত্র নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও কৃষি বিষয়ক সংবাদসমূহ তথ্যায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছ্।ি আশা করছি সংবাদ তথ্যায়নের এ প্রকিৃয়াটি আমাদের কাজের জন্য সহায়ক হবে। পার্টিসিপেটরি রিসার্চ এন্ড অ্যাকশান নেটওয়ার্ক- প্রান এ কাজটি সঞ্চালনের কাজ করছে।