Monday, October 6, 2008

কৃষকরা ব্যাংক থেকে তিন বছর মেয়াদে ঋণ পাবেন

০৬.১০.০৮
সমকাল ।। সমকাল প্রতিবেদক

সব সময় ফসল উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কৃষকরা ব্যাংক থেকে তিন বছর মেয়াদে ঋণ পাবেন। এখন থেকে দেশে কার্যরত দেশি-বিদেশি সব ব্যাংককে কৃষিঋণ বিতরণ করতে হবে। তাদের মোট সল্ফ¢াব্য বিনিয়োগের একটি অংশ কৃষিঋণের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গত সোমবার একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষকদের ঋণ দিতে হয়রানি বল্পব্দ করাই এর লক্ষ্য। এতে যেসব ব্যাংক এখন পর্যšø চলতি বছরের কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেনি, তাদের অবিলল্ফে^ এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রা কম ধরলে তাদের লক্ষ্যমাত্রা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেঁধে দেবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। ঋণ মঞ্জুর করার ক্ষমতা শাখা প্রধানকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়, যারা সব সময় ফসল উৎপাদন করেন, ওইসব কৃষককে তিন বছরমেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে। আগের দেওয়া ঋণের সুদ ও আসল আদায় করার পর নতুন করে আর কাগজপত্র তৈরির প্রয়োজন নেই। আগের কাগজপত্র দেখেই ঋণ দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে কোনো কৃষক খেলাপি হলে তার ঋণ নবায়ন করে দিতে হবে। ঋণের জন্য দলিলাদির স¤ক্সাদন প্রত্রিক্রয়া সহজ করতে হবে। প্রতিটি ব্যাংককে তাদের মোট বিনিয়োগের একটি অংশ কৃষি খাতের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে।
প্রতি অর্থবছরের শুরুতে এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে। লক্ষ্যমাত্রা হতে হবে বাস্টøবভিত্তিক এবং তা পহৃরণ করার জন্য নিয়মিত তদারক করতে হবে।
যেসব ব্যাংকের পল্কèী এলাকায় নিজস্ট^ শাখা নেই, তারা এনজিওর মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। তবে ঋণ সঠিকভাবে ব্যবহƒত হচ্ছে কি-না নিশ্চিত করতে হবে সংশিè®দ্ব ব্যাংককে।
বন্যাকবলিত ১১ হাজার দুস্ট’ কৃষক পাচ্ছেন বিনামহৃল্যে সার ও বীজ
আবু কাওসার
উৎপাদন বাড়াতে বন্যাকবলিত এলাকায় ১১ হাজারের বেশি দুস্ট’ কৃষককে বিনামহৃল্যে সার ও উল্পুতমানের বীজ দেওয়া হবে। আট ধরনের ফসল বুনাতে এ সহায়তা দেওয়া হবে। ফসলগুলো হচ্ছে বোরো ধান, ভুট্টা, ডাল, লালশাক, পালনশাক, মুলা ও গাজর। আসল্পু শীত মৌসুমে জমি অনুযায়ী ক্ষুদ্র কৃষকদের এ সহায়তা দেওয়া হবে। কৃষি স¤ক্স্রসারণ অধিদফতর সহৃত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সহৃত্র জানায়, দুস্ট’ কৃষকরা যাতে ফসল উৎপাদন করে স্ট^াবলল্ফ^ী হতে পারেন, সে জন্য সরকার একটি কর্মসহৃচি হাতে নিয়েছে। এ কর্মসহৃচির নাম ‘ইনিশিয়েটিভ অন সোয়ারিং ফুড প্রাইসেস’। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্ট’া (ফাও) আর্থিক সহায়তায় এটি বাস্টøবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স¤ক্স্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) এটি পাস হয়েছে।
সহৃত্র জানায়, আলোচ্য কর্মসহৃচির মহৃল উদ্দেশ্য হচ্ছে দুটি। প্রথমত, দেশের ক্ষুদ্র ও প্রাšিøক চাষীদের ফসল উৎপাদন বৃ™িব্দ করার মাধ্যমে তাদের খাদ্য অভাব দহৃর করা; ™ি^তীয়ত, উল্পুত বীজ সরবরাহ করে উৎপাদন বাড়ানো। কৃষি স¤ক্স্রসারণ অধিদফতর সহৃত্রে জানা গেছে, প্রকল্কপ্পটি পরীক্ষামহৃলক হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এর সফলতার ওপর নির্ভর করে আরো বেশিসংখ্যক দুস্ট’ কৃষককে এর আওতায় আনা হবে। আগামী বছরের মধ্যে আলোচ্য প্রকল্কেপ্পর কাজ শেষ হবে।
আলোচ্য কর্মসহৃচির পটভূমি স¤ক্সর্কে বলা হয়েছে, ২০০৭ সালে পরপর দু’দফা বন্যা ও প্রলয়গ্ধকরী ঘহৃর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়। এছাড়া খাদ্যশস্য ও কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েন। ফলে তাদের পক্ষে উচ্চমহৃল্যে কৃষি উপকরণ ত্রক্রয় করে কৃষি উৎপাদন করা অসল্ফ¢ব হয়ে পড়েছে। এ অবস্ট’ায় ক্ষতিগ্রস্টø ক্ষুদ্র ও প্রাšিøক কৃষকদের কৃষি উৎপাদনে উপকরণ সহায়তা প্রদানের জন্য আলোচ্য কর্মসহৃচি গ্রহণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত বছর যেসব এলাকা বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্টø হয়েছে, ওইসব জেলার বসবাসরত প্রাšিøক কৃষককে বিনামহৃল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হবে। ২০০৭ সালের বন্যায় ১৫ জেলার ৯৯ উপজেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্টø হয়েছে।
কৃষি স¤ক্স্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুল হক সমকালকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ১১ হাজার ১৭৫ জন ক্ষুদ্র ও প্রাšিøক কৃষক পরিবারকে নির্বাচিত করে সার ও বীজ বিনামহৃল্যে দেওয়ার সি™ব্দাšø নেওয়া হয়েছে। ওইসব কৃষকের মধ্যে যার যতটুকু জমি রয়েছে, তাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বীজ ও সার বিতরণ করা হবে। জানা গেছে, কর্মসহৃচি বাস্টøবায়নে প্রাথমিকভাবে প্রায় চার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশি টাকা ব্যয় হবে সার ত্রক্রয়ে।
প্রসঙ্গত, যাদের সর্বনিল্ফু পাঁচ শতক পর্যšø জমি রয়েছে তাদের ভূমিহীন এবং পাঁচ শতক থেকে ৪৯ শতক জমি পর্যšø ক্ষুদ্র ও প্রাšিøক কৃষক ধরা হয়। দেশে প্রাšিøক চাষীদের সংখ্যা কত, তার কোনো সঠিক হিসাব সরকারের হাতে নেই। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সারাদেশে প্রাšিøক চাষী তিন লাখের বেশি।

টমেটো ও বেগুনের জোড়-কলম

০৫.১০.০৮
ইত্তেফাক ।। -মাজহার মিলন

ব্যাকটেরিয়াজনিত ঢলে পড়া রোগ ও শেকড়ের গিট রোগ বেগুন এবং আগাম টমেটোর বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মাটিবাহিত এ রোগ থেকে টমেটো এবং বেগুন ফসল রক্ষা এবং উচ্চ ফলন নিশ্চিত করার জন্য বন্য জাতের বেগুনের ওপর জোড়-কলমের মাধ্যমে টমেটো ও বেগুন চাষের পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে। উলে¬খ্য যে, বন্য বেগুনের মধ্যে পীত বেগুন ও কাঁটা বেগুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। এদের মধ্যে পীত বেগুনকেই আদিজোড় গাছ হিসেবে ব্যবহার করা ভাল।

কলম তৈরি পদ্ধতি-

১. টমেটোর চারা ২৫-৩০ দিন এবং বেগুনের চারা ৪০-৪৫ দিন বয়সের হলে জোড়-কলম করার উপযুক্ত হয়।

২. বন্য বেগুনের চারা ৬০-৭০ দিনের বা পাতা-বিশিষ্ট হলে তা জোড়-কলম করার উপযুক্ত হয়।

৩. টমেটোর বা বেগুনের চারা বীজতলা থেকে উঠিয়ে শেকড়ের মাটি ধুয়ে কিছুটা পানিসহ একটি পাত্রে গোড়া ডুবিয়ে রাখতে হয়।

৪. পীত বেগুনের চারাসহ পলিথিন ব্যাগটি নিয়ে বে¬ডের সাহায্যে চারা ২-৩টি পাতাসহ মাথার উপরের অংশ কেটে ফেলতে হবে। কাণ্ড কাটা মাথাকে প্রায় এক সে.মি. গভীর করে দুই ভাগে লম্বালম্বি করে কাটতে হবে।

৫. এরপর আবাদী টমেটো বা বেগুনের চারার মাথার ওপর অংশের প্রায় পাঁচ সে.মি. কেটে বড় পাতা ফেলে দিতে হবে। কাটা অংশের নীচের দুই পাশ থেকে প্রায় এক সে.মি. ইংরেজী া অক্ষরের মত কাটতে হবে।

৬. এবার টমেটো বা বেগুনের া মত মাথাটি (উপজোড়া) বন্য বেগুন চারা কাটা স্থানে (আদিজোড়) ঢুকিয়ে দিতে হবে।

৭. পরবর্তীতে পলিথিন ফিতা দিয়ে জোড়াটি ভালভাবে আটকে দিতে হবে এবং গাছের উপরের অংশে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।

৮. জোড়ার স্থানে যেন পানি না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কলম করার কাজ বিকেল বেলা করাই ভাল।

এভাবে ব্যবস্থা নিলে আবহওয়া, মাটি ও জাতভেদে ফলনের তারতম্য হলেও হেক্টর প্রতি ৫০০-৭০০ কেজি পর্যš- ফলন পাওয়া সম্ভব।

-মাজহার মিলনব্যাকটেরিয়াজনিত ঢলে পড়া রোগ ও শেকড়ের গিট রোগ বেগুন এবং আগাম টমেটোর বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মাটিবাহিত এ রোগ থেকে টমেটো এবং বেগুন ফসল রক্ষা এবং উচ্চ ফলন নিশ্চিত করার জন্য বন্য জাতের বেগুনের ওপর জোড়-কলমের মাধ্যমে টমেটো ও বেগুন চাষের পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে। উলে¬খ্য যে, বন্য বেগুনের মধ্যে পীত বেগুন ও কাঁটা বেগুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। এদের মধ্যে পীত বেগুনকেই আদিজোড় গাছ হিসেবে ব্যবহার করা ভাল।

কলম তৈরি পদ্ধতি-

১. টমেটোর চারা ২৫-৩০ দিন এবং বেগুনের চারা ৪০-৪৫ দিন বয়সের হলে জোড়-কলম করার উপযুক্ত হয়।

২. বন্য বেগুনের চারা ৬০-৭০ দিনের বা পাতা-বিশিষ্ট হলে তা জোড়-কলম করার উপযুক্ত হয়।

৩. টমেটোর বা বেগুনের চারা বীজতলা থেকে উঠিয়ে শেকড়ের মাটি ধুয়ে কিছুটা পানিসহ একটি পাত্রে গোড়া ডুবিয়ে রাখতে হয়।

৪. পীত বেগুনের চারাসহ পলিথিন ব্যাগটি নিয়ে বে¬ডের সাহায্যে চারা ২-৩টি পাতাসহ মাথার উপরের অংশ কেটে ফেলতে হবে। কাণ্ড কাটা মাথাকে প্রায় এক সে.মি. গভীর করে দুই ভাগে লম্বালম্বি করে কাটতে হবে।

৫. এরপর আবাদী টমেটো বা বেগুনের চারার মাথার ওপর অংশের প্রায় পাঁচ সে.মি. কেটে বড় পাতা ফেলে দিতে হবে। কাটা অংশের নীচের দুই পাশ থেকে প্রায় এক সে.মি. ইংরেজী া অক্ষরের মত কাটতে হবে।

৬. এবার টমেটো বা বেগুনের া মত মাথাটি (উপজোড়া) বন্য বেগুন চারা কাটা স্থানে (আদিজোড়) ঢুকিয়ে দিতে হবে।

৭. পরবর্তীতে পলিথিন ফিতা দিয়ে জোড়াটি ভালভাবে আটকে দিতে হবে এবং গাছের উপরের অংশে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।

৮. জোড়ার স্থানে যেন পানি না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কলম করার কাজ বিকেল বেলা করাই ভাল।

এভাবে ব্যবস্থা নিলে আবহওয়া, মাটি ও জাতভেদে ফলনের তারতম্য হলেও হেক্টর প্রতি ৫০০-৭০০ কেজি পর্যš- ফলন পাওয়া সম্ভব।

হালাল খাদ্যপণ্যের রপ্তানী কৌশল রপ্ত করতে হবে

০৫.১০.০৮
ইত্তেফাক ।। তৌফিক আহমেদ

(পূর্ব প্রকাশের পর) হালাল খাদ্যপণ্যের নিয়ম-নীতি-অনুশাসনে কঠোরতার দিক থেকে ফিলিপাইন ঠিক ব্র“নাই-এর পরেই অবস্থান করছে। বিষয় হচ্ছে এত ঝক্কি-ঝামেলা টপকিয়ে কি হালাল খাদ্য রপ্তানীতে উৎসাহিত হবে কোন দেশ? কে চায় এত ঝামেলা পোহাতে? এদিকে আš-র্জাতিক বাজার -এর বাইরেও, স্থানীয়ভাবে খাদ্যের যোগান সুনিশ্চিতকরণওতো সমানভাবে জরুরি। ফিলিপাইনে বসবাসরত মুসলিমের সংখ্যা ৬০লক্ষ। স্থানীয় মুসলিমদের ভেতর হালাল খাদ্যের চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। একইসাথে, হালাল রপ্তানীর খাতেও ফিলিপাইন উলে¬খযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। শুধুমাত্র ২০০৬ সালেই, ফিলিপাইন ১.৮২৪ বিলিয়ন ইউএস ডলার হালাল খাদ্য রপ্তানী করেছে। এই অর্থের ভেতর ৯২৩ মিলিয়ন ইউএস ডলার প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য। অন্যান্য শীর্ষ রপ্তানী পণ্যের মধ্যে রয়েছে প্রক্রিয়াজাত ফল, বাদাম, নারিকেল পণ্য, ডেইরিজাত পণ্য, চিনি, মিষ্টিজাত দ্রব্য, পানীয় ইত্যাদি। চীন, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, লেবানন, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের ৫০টি দেশের ওপর হালাল খাদ্য রপ্তানী করতে সফল হয়েছে ফিলিপাইন। আঞ্চলিকভাবে, আসিয়ান [অঝঊঅঘ (এ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস্)] দেশগুলোর একটি অন্যটির হালাল পণ্যের বাজার ধরতে ভীষণ তৎপর হয়ে উঠছে দিনের পর দিন। যেহেতু আসিয়ান (অঝঊঅঘ) অš-র্ভূক্ত বেশিরভাগ মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর এই হালাল পণ্যের বাণিজ্য নিয়ে রয়েছে পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা আর তা আরও উন্নত করবার নানা উদ্যোগও চলছে। অন্যান্য হালাল পণ্যের বাজারগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উলে¬খযোগ্য রাষ্ট্র- মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য। মধ্যপ্রাচ্য বিশাল পরিমাণ হালাল খাদ্য আমদানি করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ছয়গুণ বেশি হারে বেড়েছে মুসলিম জনসংখ্যা। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই ১২ বিলিয়ন ডলার হালাল খাদ্যের বাণিজ্য চলছে আর দেশটির ছয়টি রাষ্ট্রে পাশ করা হয়েছে হালাল খাদ্য আইন। এই বাণিজ্যের অংকটি যুক্তরাজ্যে গিয়ে দেখা যাচ্ছে ২০.৫ বিলিয়ন পাউন্ড। দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠীর কারণে হালাল খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয় দেশটির মুসলিম জনস¤প্রদায়কে। চীন এবং ভারত দু’টি দেশেই রয়েছে ১০০ মিলিয়ন মুসলিমসহ আনুমানিক মোট ২০০ মিলিয়ন মুসলিম। তাহলে বোঝা যাচ্ছে, এই বিশাল হালাল খাদ্যপণ্যের বাজার ধরতে প্রত্যেকটি হালাল অধ্যুষিত অঞ্চলের বিশেষ কৌশল বা নীতিগত হালালকরণ পদ্ধতিগুলো নখদর্পণে আনতেই হবে। তবেই ধরা যাবে হালাল খাদ্যপণ্যের রফতানি বাণিজ্য। এই বিষয়গুলো খুব গুরুত্বের সাথে অনুধাবন করে বৈশ্বিক হালাল খাদ্যপণ্যের বাজার ধরতে ফিলিপাইন সরকার নিয়েছে নানা পদক্ষেপ এবং একইসাথে সরকারি প্রচারণা চালাচ্ছে জোরেশোরে। এমনকি, আইনগতভাবেও আš-র্জাতিক মান অনুসরণসাপেক্ষে, হালাল খাদ্য রপ্তানীর ক্ষেত্রে ফিলিপাইন সরকার যথেষ্ট সচেতনতা এবং সঠিক পরিকল্পনার সাথে এগিয়ে চলছে বিশাল বৈশ্বিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে। ফিলিপাইনের হালাল খাদ্যের ওপর রীতিমত চলছে গবেষণা। বৈশ্বিক মুসলিম ভোক্তা স¤প্রদায় নিয়েও চলছে নিবিড় অধ্যায়ন যাতে করে ফিলিপাইন এরকম একটি আকর্ষণীয় বাজার ধরে ফেলতে সক্ষম হয়। আর তাই, বিদেশের মাটিতে হালাল খাদ্যপণ্যের বাণিজ্য মেলা, হালাল পণ্য বিক্রয়কেন্দ্রিক নানা প্রচারণা কার্যক্রমে তারা বেশ আগ্রহী। ফিলিপাইন এখন মুখিয়ে আছে আরও ব্যাপকভাবে এই হালাল খাদ্যের রপ্তানী বাজার ধরতে এবং উৎপাদনকারী থেকে শুরু করে রপ্তানীকারক পর্যš- সব সংশি¬ষ্ট মহলকেই উৎসাহিত করতে। বিশ্বের এই বিশাল হালাল খাদ্যের বাজার ধরতে গুণগত মানসম্মত খাদ্যপণ্য, বৈশ্বিক বাজার নিরীক্ষণ এবং এর পর্যালোচনায় ফিলিপাইন এগিয়ে গেল অনেকদূর। সেরকম কোন বিশেষ পরিকল্পনা কি ভবিষ্যতে আমাদের নীতি-নির্ধারণী মহলে নেয়া হবে কিনা তাই এখন দেখবার বিষয়। -

সূর্যমুখী চাষের মৌসুম আসন্ন

০৫.১০.০৮
ইত্তেফাক ।। সাহারা তুষার

সূর্যমুখী উৎকৃষ্ট তেল জাতীয় ফসল। সূর্যমুখীর বীজে শতকরা ৪০-৪৫ ভাগ উপকারী লিনোলিক এসিড রয়েছে এবং ক্ষতিকর ইরোসিক এসিড নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সূর্যমুখীর ব্যাপক চাষ হয়। ১৯৭৫ সাল থেকে বাংলাদেশের চাষীরা এর আবাদ শুরু করে। বর্তমানে রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, নাটোর, পাবনা, দিনাজপুর, গাজীপুর, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলাগুলোতে এর ব্যাপক চাষ হচ্ছে। সূর্যমুখীর চাষ সারা বছর করা যায়। তবে অগ্রহায়ণ মাসে (মধ্য-নভেম্বর থেকে মধ্য-ডিসেম্বর) চাষ করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়। দেশের উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চলে তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সে. এর নিচে হলে ১০-১২ দিন পরে বীজ বপন করতে হয়। খরিপ-১ মৌসুমে অর্থাৎ জ্যৈষ্ঠ (মধ্য-এপ্রিল থেকে মধ্য-মে) মাসেও এর চাষ করা যায়।

জমি তৈরি- সূর্যমুখীর জমি গভীরভাবে চাষ দিতে হয়। জমি ৪-৫ বার আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে।

জাত নির্বাচন- সূর্যমুখীর কিরণী (ডিএস-১) জাতটি সংগৃহীত জার্মপ¬াজম হতে বাছাইয়ের মাধ্যমে উদ্ভবন করা হয় এবং ১৯৮২ সালে অনুমোদন করা হয়। এ জাতের গাছর উচ্চতা ৯০-১১০ সে.মি.। বীজ লম্বা ও চেপ্টা। এক হাজার বীজের ওজন ৬০-৬৫ গ্রাম। বীজের রঙ কালো। প্রতি গাছে একটি করে মাঝারি আকারের ফুল ধরে থাকে। বপনের পর ফসল সংগ্রহ করতে ৯০-১০০ দিন সময় লাগে। প্রতি হেক্টরে ১.৩-১.৫ টন ফসল পাওয়া যায়।

বপন পদ্ধতি ও বীজের হার- সূর্যমুখীর বীজ সারিতে বুনতে হয়। সারি থেকে সারির দূরত্ব ৫০ সে.মি. এবং সারিতে গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ২৫ সে.মি. রাখতে হয়। এভাবে বীজ বপন করলে হেক্টরপ্রতি ৮-১০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।

সার প্রয়োগ- হেক্টর প্রতি ইউরিয়া ১৮০-২০০ কেজি, টিএসপি ১৫০-২০০ কেজি, এমপি ১২০-১৫০ কেজি, জিপসাম ১২০-১৭০, জিংক সালফেট ৮-১০ কেজি, বরিক এসিড ১০-১২ কেজি, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ৮০-১০০ কেজি। ইউরিয়া সারের অর্ধেক এবং বাকি সব সার শেষ চাষের সময় জমিতে ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া দুই ভাগ করে প্রথম ভাগ চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর এবং দ্বিতীয় ভাগ ৪০-৪৫ দিন পর বা ফুল ফোটার আগে প্রয়োগ করতে হবে।

রোগবালাই ও প্রতিকার- আমাদের দেশে সূর্যমুখীর রোগের মধ্যে পাতা ঝলসানো রোগটি বিশেষভাবে উলে¬খযোগ্য। অলটারনারিয়া হেলিয়াস্থি নামক ছত্রাকের আক্রমণে সূর্যমুখীর এ রোগটি হয়ে থাকে। প্রথমে পাতায় ধূসর বা গাঢ় বাদামি বর্ণের অসম আকৃতির দাগ পড়ে। পরে দাগ মিশে গিয়ে বড় দাগের সৃষ্টি করে। অবশেষে সম্পূর্ণ পাতা ঝলসে যায়।

এছাড়াও সূর্যমূখীর আকেটি রোগ হল শেকড় পচা রোগ। সাধারণত স্কেলেরোশিয়াম রলফসি নামক ছত্রাকের কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। আক্রাš- গাছের গোড়া সাদা তুলার মত ছত্রাকের মাইসেলিয়াম এবং গোলাকার দানার মত স্কেলেরোশিয়াম দেখা যায়। প্রথমে গাছ কিছুটা নেতিয়ে পড়ে। কয়েক দিনের মধ্যে সম¯- গাছ ঢলে পড়ে এবং শুকিয়ে মারা যায়।

প্রতিকারের জন্য রোগ সহনশীল কিরণী জাত চাষ করতে হবে। রোগ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে রোভরাল-৫০ ডবি¬উ পি (২% হারে) পানির সাথে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার জমিতে প্রয়োগ করলে রোগের প্রকোপ কমে যায়। ফসল কাটার পর গাছের পরিত্যক্ত অংশ নষ্ট করলে বা পুড়িয়ে ফেললে এ রোগের উৎস নষ্ট হয়ে যায়।

সূর্যমুখীর শিকড় পচা রোগের প্রতিকার হিসেবে ভিটাভেক্স-২০০ -এর সাহায্যে মাঠ শোধনের মাধ্যমে এ রোগের বি¯-ার রোধ করা যায়। সাধারণত জমি পানি সিক্ত থাকলে এ ছত্রাক বাঁচতে পারে না। সুতরাং রোগ আক্রমণের পর জমিতে প¬াবন সেচ দিয়ে প্রকোপ কমানো যায়। পর্যায়ক্রমিকভাবে ফসলের চাষ করলে উপযুক্ত পোষক গাছের অভাবে পূর্ববর্তী আক্রমণকারী রোগের বি¯-ার রোধ করা যায়।

বপন থেকে পরিপক্ক হওয়া পর্যš- ৯০ থেকে ১১০ দিন লাগে ফসল সংগ্রহ করতে।

Ñসাহারা তুষারসূর্যমুখী উৎকৃষ্ট তেল জাতীয় ফসল। সূর্যমুখীর বীজে শতকরা ৪০-৪৫ ভাগ উপকারী লিনোলিক এসিড রয়েছে এবং ক্ষতিকর ইরোসিক এসিড নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সূর্যমুখীর ব্যাপক চাষ হয়। ১৯৭৫ সাল থেকে বাংলাদেশের চাষীরা এর আবাদ শুরু করে। বর্তমানে রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, নাটোর, পাবনা, দিনাজপুর, গাজীপুর, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলাগুলোতে এর ব্যাপক চাষ হচ্ছে। সূর্যমুখীর চাষ সারা বছর করা যায়। তবে অগ্রহায়ণ মাসে (মধ্য-নভেম্বর থেকে মধ্য-ডিসেম্বর) চাষ করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়। দেশের উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চলে তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সে. এর নিচে হলে ১০-১২ দিন পরে বীজ বপন করতে হয়। খরিপ-১ মৌসুমে অর্থাৎ জ্যৈষ্ঠ (মধ্য-এপ্রিল থেকে মধ্য-মে) মাসেও এর চাষ করা যায়।

জমি তৈরি- সূর্যমুখীর জমি গভীরভাবে চাষ দিতে হয়। জমি ৪-৫ বার আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে।

জাত নির্বাচন- সূর্যমুখীর কিরণী (ডিএস-১) জাতটি সংগৃহীত জার্মপ¬াজম হতে বাছাইয়ের মাধ্যমে উদ্ভবন করা হয় এবং ১৯৮২ সালে অনুমোদন করা হয়। এ জাতের গাছর উচ্চতা ৯০-১১০ সে.মি.। বীজ লম্বা ও চেপ্টা। এক হাজার বীজের ওজন ৬০-৬৫ গ্রাম। বীজের রঙ কালো। প্রতি গাছে একটি করে মাঝারি আকারের ফুল ধরে থাকে। বপনের পর ফসল সংগ্রহ করতে ৯০-১০০ দিন সময় লাগে। প্রতি হেক্টরে ১.৩-১.৫ টন ফসল পাওয়া যায়।

বপন পদ্ধতি ও বীজের হার- সূর্যমুখীর বীজ সারিতে বুনতে হয়। সারি থেকে সারির দূরত্ব ৫০ সে.মি. এবং সারিতে গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ২৫ সে.মি. রাখতে হয়। এভাবে বীজ বপন করলে হেক্টরপ্রতি ৮-১০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।

সার প্রয়োগ- হেক্টর প্রতি ইউরিয়া ১৮০-২০০ কেজি, টিএসপি ১৫০-২০০ কেজি, এমপি ১২০-১৫০ কেজি, জিপসাম ১২০-১৭০, জিংক সালফেট ৮-১০ কেজি, বরিক এসিড ১০-১২ কেজি, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ৮০-১০০ কেজি। ইউরিয়া সারের অর্ধেক এবং বাকি সব সার শেষ চাষের সময় জমিতে ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া দুই ভাগ করে প্রথম ভাগ চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর এবং দ্বিতীয় ভাগ ৪০-৪৫ দিন পর বা ফুল ফোটার আগে প্রয়োগ করতে হবে।

রোগবালাই ও প্রতিকার- আমাদের দেশে সূর্যমুখীর রোগের মধ্যে পাতা ঝলসানো রোগটি বিশেষভাবে উলে¬খযোগ্য। অলটারনারিয়া হেলিয়াস্থি নামক ছত্রাকের আক্রমণে সূর্যমুখীর এ রোগটি হয়ে থাকে। প্রথমে পাতায় ধূসর বা গাঢ় বাদামি বর্ণের অসম আকৃতির দাগ পড়ে। পরে দাগ মিশে গিয়ে বড় দাগের সৃষ্টি করে। অবশেষে সম্পূর্ণ পাতা ঝলসে যায়।

এছাড়াও সূর্যমূখীর আকেটি রোগ হল শেকড় পচা রোগ। সাধারণত স্কেলেরোশিয়াম রলফসি নামক ছত্রাকের কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। আক্রাš- গাছের গোড়া সাদা তুলার মত ছত্রাকের মাইসেলিয়াম এবং গোলাকার দানার মত স্কেলেরোশিয়াম দেখা যায়। প্রথমে গাছ কিছুটা নেতিয়ে পড়ে। কয়েক দিনের মধ্যে সম¯- গাছ ঢলে পড়ে এবং শুকিয়ে মারা যায়।

প্রতিকারের জন্য রোগ সহনশীল কিরণী জাত চাষ করতে হবে। রোগ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে রোভরাল-৫০ ডবি¬উ পি (২% হারে) পানির সাথে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার জমিতে প্রয়োগ করলে রোগের প্রকোপ কমে যায়। ফসল কাটার পর গাছের পরিত্যক্ত অংশ নষ্ট করলে বা পুড়িয়ে ফেললে এ রোগের উৎস নষ্ট হয়ে যায়।

সূর্যমুখীর শিকড় পচা রোগের প্রতিকার হিসেবে ভিটাভেক্স-২০০ -এর সাহায্যে মাঠ শোধনের মাধ্যমে এ রোগের বি¯-ার রোধ করা যায়। সাধারণত জমি পানি সিক্ত থাকলে এ ছত্রাক বাঁচতে পারে না। সুতরাং রোগ আক্রমণের পর জমিতে প¬াবন সেচ দিয়ে প্রকোপ কমানো যায়। পর্যায়ক্রমিকভাবে ফসলের চাষ করলে উপযুক্ত পোষক গাছের অভাবে পূর্ববর্তী আক্রমণকারী রোগের বি¯-ার রোধ করা যায়।

বপন থেকে পরিপক্ক হওয়া পর্যš- ৯০ থেকে ১১০ দিন লাগে ফসল সংগ্রহ করতে।

Ñসাহারা তুষারসূর্যমুখী উৎকৃষ্ট তেল জাতীয় ফসল। সূর্যমুখীর বীজে শতকরা ৪০-৪৫ ভাগ উপকারী লিনোলিক এসিড রয়েছে এবং ক্ষতিকর ইরোসিক এসিড নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সূর্যমুখীর ব্যাপক চাষ হয়। ১৯৭৫ সাল থেকে বাংলাদেশের চাষীরা এর আবাদ শুরু করে। বর্তমানে রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, নাটোর, পাবনা, দিনাজপুর, গাজীপুর, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলাগুলোতে এর ব্যাপক চাষ হচ্ছে। সূর্যমুখীর চাষ সারা বছর করা যায়। তবে অগ্রহায়ণ মাসে (মধ্য-নভেম্বর থেকে মধ্য-ডিসেম্বর) চাষ করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়। দেশের উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চলে তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সে. এর নিচে হলে ১০-১২ দিন পরে বীজ বপন করতে হয়। খরিপ-১ মৌসুমে অর্থাৎ জ্যৈষ্ঠ (মধ্য-এপ্রিল থেকে মধ্য-মে) মাসেও এর চাষ করা যায়।

জমি তৈরি- সূর্যমুখীর জমি গভীরভাবে চাষ দিতে হয়। জমি ৪-৫ বার আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে।

জাত নির্বাচন- সূর্যমুখীর কিরণী (ডিএস-১) জাতটি সংগৃহীত জার্মপ¬াজম হতে বাছাইয়ের মাধ্যমে উদ্ভবন করা হয় এবং ১৯৮২ সালে অনুমোদন করা হয়। এ জাতের গাছর উচ্চতা ৯০-১১০ সে.মি.। বীজ লম্বা ও চেপ্টা। এক হাজার বীজের ওজন ৬০-৬৫ গ্রাম। বীজের রঙ কালো। প্রতি গাছে একটি করে মাঝারি আকারের ফুল ধরে থাকে। বপনের পর ফসল সংগ্রহ করতে ৯০-১০০ দিন সময় লাগে। প্রতি হেক্টরে ১.৩-১.৫ টন ফসল পাওয়া যায়।

বপন পদ্ধতি ও বীজের হার- সূর্যমুখীর বীজ সারিতে বুনতে হয়। সারি থেকে সারির দূরত্ব ৫০ সে.মি. এবং সারিতে গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ২৫ সে.মি. রাখতে হয়। এভাবে বীজ বপন করলে হেক্টরপ্রতি ৮-১০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।

সার প্রয়োগ- হেক্টর প্রতি ইউরিয়া ১৮০-২০০ কেজি, টিএসপি ১৫০-২০০ কেজি, এমপি ১২০-১৫০ কেজি, জিপসাম ১২০-১৭০, জিংক সালফেট ৮-১০ কেজি, বরিক এসিড ১০-১২ কেজি, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ৮০-১০০ কেজি। ইউরিয়া সারের অর্ধেক এবং বাকি সব সার শেষ চাষের সময় জমিতে ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া দুই ভাগ করে প্রথম ভাগ চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর এবং দ্বিতীয় ভাগ ৪০-৪৫ দিন পর বা ফুল ফোটার আগে প্রয়োগ করতে হবে।

রোগবালাই ও প্রতিকার- আমাদের দেশে সূর্যমুখীর রোগের মধ্যে পাতা ঝলসানো রোগটি বিশেষভাবে উলে¬খযোগ্য। অলটারনারিয়া হেলিয়াস্থি নামক ছত্রাকের আক্রমণে সূর্যমুখীর এ রোগটি হয়ে থাকে। প্রথমে পাতায় ধূসর বা গাঢ় বাদামি বর্ণের অসম আকৃতির দাগ পড়ে। পরে দাগ মিশে গিয়ে বড় দাগের সৃষ্টি করে। অবশেষে সম্পূর্ণ পাতা ঝলসে যায়।

এছাড়াও সূর্যমূখীর আকেটি রোগ হল শেকড় পচা রোগ। সাধারণত স্কেলেরোশিয়াম রলফসি নামক ছত্রাকের কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। আক্রাš- গাছের গোড়া সাদা তুলার মত ছত্রাকের মাইসেলিয়াম এবং গোলাকার দানার মত স্কেলেরোশিয়াম দেখা যায়। প্রথমে গাছ কিছুটা নেতিয়ে পড়ে। কয়েক দিনের মধ্যে সম¯- গাছ ঢলে পড়ে এবং শুকিয়ে মারা যায়।

প্রতিকারের জন্য রোগ সহনশীল কিরণী জাত চাষ করতে হবে। রোগ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে রোভরাল-৫০ ডবি¬উ পি (২% হারে) পানির সাথে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার জমিতে প্রয়োগ করলে রোগের প্রকোপ কমে যায়। ফসল কাটার পর গাছের পরিত্যক্ত অংশ নষ্ট করলে বা পুড়িয়ে ফেললে এ রোগের উৎস নষ্ট হয়ে যায়।

সূর্যমুখীর শিকড় পচা রোগের প্রতিকার হিসেবে ভিটাভেক্স-২০০ -এর সাহায্যে মাঠ শোধনের মাধ্যমে এ রোগের বি¯-ার রোধ করা যায়। সাধারণত জমি পানি সিক্ত থাকলে এ ছত্রাক বাঁচতে পারে না। সুতরাং রোগ আক্রমণের পর জমিতে প¬াবন সেচ দিয়ে প্রকোপ কমানো যায়। পর্যায়ক্রমিকভাবে ফসলের চাষ করলে উপযুক্ত পোষক গাছের অভাবে পূর্ববর্তী আক্রমণকারী রোগের বি¯-ার রোধ করা যায়।

বপন থেকে পরিপক্ক হওয়া পর্যš- ৯০ থেকে ১১০ দিন লাগে ফসল সংগ্রহ করতে।

Ñসাহারা তুষারসূর্যমুখী উৎকৃষ্ট তেল জাতীয় ফসল। সূর্যমুখীর বীজে শতকরা ৪০-৪৫ ভাগ উপকারী লিনোলিক এসিড রয়েছে এবং ক্ষতিকর ইরোসিক এসিড নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সূর্যমুখীর ব্যাপক চাষ হয়। ১৯৭৫ সাল থেকে বাংলাদেশের চাষীরা এর আবাদ শুরু করে। বর্তমানে রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, নাটোর, পাবনা, দিনাজপুর, গাজীপুর, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলাগুলোতে এর ব্যাপক চাষ হচ্ছে। সূর্যমুখীর চাষ সারা বছর করা যায়। তবে অগ্রহায়ণ মাসে (মধ্য-নভেম্বর থেকে মধ্য-ডিসেম্বর) চাষ করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়। দেশের উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চলে তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সে. এর নিচে হলে ১০-১২ দিন পরে বীজ বপন করতে হয়। খরিপ-১ মৌসুমে অর্থাৎ জ্যৈষ্ঠ (মধ্য-এপ্রিল থেকে মধ্য-মে) মাসেও এর চাষ করা যায়।

জমি তৈরি- সূর্যমুখীর জমি গভীরভাবে চাষ দিতে হয়। জমি ৪-৫ বার আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে।

জাত নির্বাচন- সূর্যমুখীর কিরণী (ডিএস-১) জাতটি সংগৃহীত জার্মপ¬াজম হতে বাছাইয়ের মাধ্যমে উদ্ভবন করা হয় এবং ১৯৮২ সালে অনুমোদন করা হয়। এ জাতের গাছর উচ্চতা ৯০-১১০ সে.মি.। বীজ লম্বা ও চেপ্টা। এক হাজার বীজের ওজন ৬০-৬৫ গ্রাম। বীজের রঙ কালো। প্রতি গাছে একটি করে মাঝারি আকারের ফুল ধরে থাকে। বপনের পর ফসল সংগ্রহ করতে ৯০-১০০ দিন সময় লাগে। প্রতি হেক্টরে ১.৩-১.৫ টন ফসল পাওয়া যায়।

বপন পদ্ধতি ও বীজের হার- সূর্যমুখীর বীজ সারিতে বুনতে হয়। সারি থেকে সারির দূরত্ব ৫০ সে.মি. এবং সারিতে গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ২৫ সে.মি. রাখতে হয়। এভাবে বীজ বপন করলে হেক্টরপ্রতি ৮-১০ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।

সার প্রয়োগ- হেক্টর প্রতি ইউরিয়া ১৮০-২০০ কেজি, টিএসপি ১৫০-২০০ কেজি, এমপি ১২০-১৫০ কেজি, জিপসাম ১২০-১৭০, জিংক সালফেট ৮-১০ কেজি, বরিক এসিড ১০-১২ কেজি, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ৮০-১০০ কেজি। ইউরিয়া সারের অর্ধেক এবং বাকি সব সার শেষ চাষের সময় জমিতে ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া দুই ভাগ করে প্রথম ভাগ চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর এবং দ্বিতীয় ভাগ ৪০-৪৫ দিন পর বা ফুল ফোটার আগে প্রয়োগ করতে হবে।

রোগবালাই ও প্রতিকার- আমাদের দেশে সূর্যমুখীর রোগের মধ্যে পাতা ঝলসানো রোগটি বিশেষভাবে উলে¬খযোগ্য। অলটারনারিয়া হেলিয়াস্থি নামক ছত্রাকের আক্রমণে সূর্যমুখীর এ রোগটি হয়ে থাকে। প্রথমে পাতায় ধূসর বা গাঢ় বাদামি বর্ণের অসম আকৃতির দাগ পড়ে। পরে দাগ মিশে গিয়ে বড় দাগের সৃষ্টি করে। অবশেষে সম্পূর্ণ পাতা ঝলসে যায়।

এছাড়াও সূর্যমূখীর আকেটি রোগ হল শেকড় পচা রোগ। সাধারণত স্কেলেরোশিয়াম রলফসি নামক ছত্রাকের কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। আক্রাš- গাছের গোড়া সাদা তুলার মত ছত্রাকের মাইসেলিয়াম এবং গোলাকার দানার মত স্কেলেরোশিয়াম দেখা যায়। প্রথমে গাছ কিছুটা নেতিয়ে পড়ে। কয়েক দিনের মধ্যে সম¯- গাছ ঢলে পড়ে এবং শুকিয়ে মারা যায়।

প্রতিকারের জন্য রোগ সহনশীল কিরণী জাত চাষ করতে হবে। রোগ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে রোভরাল-৫০ ডবি¬উ পি (২% হারে) পানির সাথে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার জমিতে প্রয়োগ করলে রোগের প্রকোপ কমে যায়। ফসল কাটার পর গাছের পরিত্যক্ত অংশ নষ্ট করলে বা পুড়িয়ে ফেললে এ রোগের উৎস নষ্ট হয়ে যায়।

সূর্যমুখীর শিকড় পচা রোগের প্রতিকার হিসেবে ভিটাভেক্স-২০০ -এর সাহায্যে মাঠ শোধনের মাধ্যমে এ রোগের বি¯-ার রোধ করা যায়। সাধারণত জমি পানি সিক্ত থাকলে এ ছত্রাক বাঁচতে পারে না। সুতরাং রোগ আক্রমণের পর জমিতে প¬াবন সেচ দিয়ে প্রকোপ কমানো যায়। পর্যায়ক্রমিকভাবে ফসলের চাষ করলে উপযুক্ত পোষক গাছের অভাবে পূর্ববর্তী আক্রমণকারী রোগের বি¯-ার রোধ করা যায়।

বপন থেকে পরিপক্ক হওয়া পর্যš- ৯০ থেকে ১১০ দিন লাগে ফসল সংগ্রহ করতে।

মরিচের চারা বিক্রি করে লাখপতি

০৫.১০.০৮
মাটি ও মানুষের কৃষি
ইত্তেফাক ।। মনিরুল ইসলাম শাহীন

বজলু মোক্তার ছিলেন অস্বচ্ছল চাষী। সাধ্য ও সুযোগ না থাকায় লেখাপড়া করতে না পেরে অনেকটা বেকার জীবন কাটাতেন। বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে কৃষিকাজ করে সংসার চালাতে বজলু মোক্তার চোখে অন্ধকার দেখতেন। অথচ নিজের বুদ্ধি ও পরিশ্রমে আজ তিনি ভাগ্যের চাকা পাল্টে দিয়েছেন। সংসারে এনেছেন সুখ ও স্বচ্ছলতা। সংসার চালাচ্ছেন বেশ নিশ্চিšে-।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার প্রত্যš- গ্রামের নাম সাপলেজা। দক্ষিণাঞ্চলের সুখ-দুঃখের সঙ্গী বলেশ্বর নদীর পূর্বতীরের একটি জনপদ। এ গ্রামের বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সী বজলু মোক্তার। আজ থেকে ২০ বছর আগে নিজস্ব সামান্য জমিতে বোম্বাই মরিচের বীজতলা তৈরি করে চারা বিক্রি শুরু করেন। এভাবে প্রথম বছরই মরিচের চারা বিক্রি করে স্বচ্ছলতার মুখ দেখেন তিনি। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। মরিচের চারা বিক্রি করেই লাখ লাখ টাকার মালিক বজলু। প্রতি বছর তার সাংসারিক খরচের পরও সঞ্চয় করছেন। বাড়াচ্ছেন কৃষি জমির পরিমাণ।

নিজে স্বাবলম্বী হয়েই বসে থাকেননি বজলু। নিজের সাফল্যের অভিজ্ঞতা দিয়ে এলাকার ৫০০ পরিবারকে সাফল্যের সন্ধান দিয়েছেন। সাপলেজা গ্রামের প্রত্যেকটি বাড়িতেই যেন এখন এক একটা বোম্বাই মরিচের বীজতলা। দূর-দূরাš- থেকে চারা ব্যবসায়ীরা সাপলেজায় আসেন মরিচের চারা কিনতে। বজলু নিজেও নৌকায় করে মরিচের চারা বিক্রি করেন পার্শ্ববর্তী ভাণ্ডারিয়া, পাথরঘাটা, শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে। ভাই মানিক, জলিল, চাঁন মিয়া, ফারুককে নিয়ে চলে তার চারা বিক্রির কাজ।

নৌকায় করে মোরেলগঞ্জে চারা বিক্রি করতে আসা বজলু মোক্তার জানান, পাকা বোম্বাই মরিচ থেকে বীজ সংগ্রহ করা হয় বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে। খোলা জায়গায় জৈব সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে বাঁশের তৈরি ঝাঁকা সাজানো হয়। এক একটি ঝাঁকায় শ্রবণ-ভাদ্র মাসে ২০ থেকে ২৫টি বীজ রোপণ করা হয়।

পৌষ-মাঘ মাসে চারা বিক্রি শুরু হয়। নৌকায় করে বিভিন্ন হাটে-বাজারে নিয়ে যাওয়া হয় চারা। প্রতিটি ঝাঁকা বিক্রি হয় ৫০ টাকায়। এক কেজি মরিচ বীজের ১০ হাজার পর্যš- চারা হয়। চারা রোপণের ৪০ থেকে ৫০ দিন পর মরিচ তোলা হয়। একাধারে এক একটি বোম্বাই মরিচ গাছ থেকে ৪ থেকে ৫ মাস মরিচ সংগ্রহ করা যায়।

বজলু মরিচ চারা বিক্রি করে এখন কৃষি জমির মালিক হয়েছেন। করেছেন পাকা বাড়ি। দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে লেখাপড়া শেখাচ্ছেন। বজলুর বড় ছেলে লেখাপড়ার ফাঁকে তারা চারা বিক্রিতে সাহায্য করে। সরকারের কাছে বজলু মোক্তারের প্রত্যশা তার মত উদ্যোগী চাষীদের সরকার সহযোগিতা করলে ব্যক্তিগত স্বচ্ছলতার পাশাপাশি অর্থনীতিতে কৃষির অবদান আরও বাড়বে। Ñমনিরুল ইসলাম শাহীনবজলু মোক্তার ছিলেন অস্বচ্ছল চাষী। সাধ্য ও সুযোগ না থাকায় লেখাপড়া করতে না পেরে অনেকটা বেকার জীবন কাটাতেন। বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে কৃষিকাজ করে সংসার চালাতে বজলু মোক্তার চোখে অন্ধকার দেখতেন। অথচ নিজের বুদ্ধি ও পরিশ্রমে আজ তিনি ভাগ্যের চাকা পাল্টে দিয়েছেন। সংসারে এনেছেন সুখ ও স্বচ্ছলতা। সংসার চালাচ্ছেন বেশ নিশ্চিšে-।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার প্রত্যš- গ্রামের নাম সাপলেজা। দক্ষিণাঞ্চলের সুখ-দুঃখের সঙ্গী বলেশ্বর নদীর পূর্বতীরের একটি জনপদ। এ গ্রামের বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সী বজলু মোক্তার। আজ থেকে ২০ বছর আগে নিজস্ব সামান্য জমিতে বোম্বাই মরিচের বীজতলা তৈরি করে চারা বিক্রি শুরু করেন। এভাবে প্রথম বছরই মরিচের চারা বিক্রি করে স্বচ্ছলতার মুখ দেখেন তিনি। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। মরিচের চারা বিক্রি করেই লাখ লাখ টাকার মালিক বজলু। প্রতি বছর তার সাংসারিক খরচের পরও সঞ্চয় করছেন। বাড়াচ্ছেন কৃষি জমির পরিমাণ।

নিজে স্বাবলম্বী হয়েই বসে থাকেননি বজলু। নিজের সাফল্যের অভিজ্ঞতা দিয়ে এলাকার ৫০০ পরিবারকে সাফল্যের সন্ধান দিয়েছেন। সাপলেজা গ্রামের প্রত্যেকটি বাড়িতেই যেন এখন এক একটা বোম্বাই মরিচের বীজতলা। দূর-দূরাš- থেকে চারা ব্যবসায়ীরা সাপলেজায় আসেন মরিচের চারা কিনতে। বজলু নিজেও নৌকায় করে মরিচের চারা বিক্রি করেন পার্শ্ববর্তী ভাণ্ডারিয়া, পাথরঘাটা, শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে। ভাই মানিক, জলিল, চাঁন মিয়া, ফারুককে নিয়ে চলে তার চারা বিক্রির কাজ।

নৌকায় করে মোরেলগঞ্জে চারা বিক্রি করতে আসা বজলু মোক্তার জানান, পাকা বোম্বাই মরিচ থেকে বীজ সংগ্রহ করা হয় বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে। খোলা জায়গায় জৈব সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে বাঁশের তৈরি ঝাঁকা সাজানো হয়। এক একটি ঝাঁকায় শ্রবণ-ভাদ্র মাসে ২০ থেকে ২৫টি বীজ রোপণ করা হয়।

পৌষ-মাঘ মাসে চারা বিক্রি শুরু হয়। নৌকায় করে বিভিন্ন হাটে-বাজারে নিয়ে যাওয়া হয় চারা। প্রতিটি ঝাঁকা বিক্রি হয় ৫০ টাকায়। এক কেজি মরিচ বীজের ১০ হাজার পর্যš- চারা হয়। চারা রোপণের ৪০ থেকে ৫০ দিন পর মরিচ তোলা হয়। একাধারে এক একটি বোম্বাই মরিচ গাছ থেকে ৪ থেকে ৫ মাস মরিচ সংগ্রহ করা যায়।

বজলু মরিচ চারা বিক্রি করে এখন কৃষি জমির মালিক হয়েছেন। করেছেন পাকা বাড়ি। দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে লেখাপড়া শেখাচ্ছেন। বজলুর বড় ছেলে লেখাপড়ার ফাঁকে তারা চারা বিক্রিতে সাহায্য করে। সরকারের কাছে বজলু মোক্তারের প্রত্যশা তার মত উদ্যোগী চাষীদের সরকার সহযোগিতা করলে ব্যক্তিগত স্বচ্ছলতার পাশাপাশি অর্থনীতিতে কৃষির অবদান আরও বাড়বে।

কৃষিঋণ : প্রান্তিক কৃষকদের সুবিধা কতখানি ?

০৫.১০.০৮
ইত্তেফাক ।। মাটি ও মানুষের কৃষি

মানিকগঞ্জের পদ্মার চর এলাকার বহু প্রাšি-ক কৃষক পড়েছেন দুর্দশায়। পদ্মার ভাঙনে সহায়-সম্বল হারিয়ে ঋণনির্ভর মানুষগুলোর এখন গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে এই ঋণ। কারণ, তাগাদা এসেছে জরুরি ভিত্তিতে ঋণ পরিশোধের। ঋণ শোধ করতে না পেরে ঘর ছেড়েছেন অনেকেই। যারা এলাকায় আছেন তাদের দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তার ভেতর। এই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি বিশেষ সহযোগিতার বিকল্প নেই বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। স্থানীয়রা এও বলছেন, দিনের পর দিন চরম অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে পদ্মা চরবাসীর জীবন। শুধু কৃষি ঋণের বোঝা কমানোই নয়, তাদের জীবনযাত্রার মানের সকল দিকেই প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি সুযোগ সুবিধা। খবরটি একেবারে সা¤প্রতিক সময়ের। দেশি-বিদেশি সব ব্যাংকেই যখন কৃষি ঋণ দেয়ার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে ঠিক তখনই পাওয়া গেল এমন একটি খবর।

১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কৃষি ঋণ বিতরণ পর্যবেক্ষণ কমিটির বৈঠকে দেশ-বিদেশি সব ব্যাংককেই বাধ্যতামূলক কৃষি ঋণ বিতরণের সরকারি ঘোষণা এসেছে। কৃষকদের জন্য তিন বছর মেয়াদে আবর্তক শস্য-ঋণ ব্যবস্থা চালুরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের পেছনে রয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়াস। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর বলেছেন, কৃষিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধাš- হচ্ছে কোন ব্যাংক কৃষি খাতে কত টাকা ঋণ দেবে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাপিয়ে দেবে না, ব্যাংকগুলো নিজেরাই তা নির্ধারণ করবে। কিন্তু ঋণের পরিমাণ ব্যাংকের অন্য খাতে বিতরণ করা অর্থের তুলনায় যাতে যুক্তিসংগত হয় তা নিশ্চিত করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। কৃষকরা তিন বছরের কৃষি ঋণ পেতে একবারই আবেদন করবে। মৌসুম শেষে ঋণের টাকা শোধ করে দেবে। পরবর্তী মৌসুমের শুরুতে সে আপনাআপনিই ঋণ পেয়ে যাবে। একেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে আবর্তক শস্য-ঋণ ব্যবস্থা। একসময় কৃষি বিভাগের একটি ঋণ প্রকল্প ছিল। সেটি হচ্ছে শস্য গুদাম ঋণ প্রকল্প। যেটি শস্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের প্রশ্নে অত্যš- কার্যকর একটি প্রকল্প হলেও অজ্ঞাত কারণে এ প্রকল্পটি নব্বইয়ের দশকেই মুখ থুবড়ে পড়ে। যা হোক আমরা আশা করছি, আবর্তক শস্য-ঋণ প্রকল্প অধিক কার্যকর একটি ঋণ প্রকল্প হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে কৃষকদের কাছে। কিন্তু কথা হচ্ছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাদের ফসলহানী ঘটছে, যারা সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়ছে, এক বছর ঋণ নেয়ার পর যারা অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি দুর্বল হয়ে পড়ছে তাদের জন্য করণীয় নির্ধারণ করা হচ্ছে না। যারা ঋণের টাকা শোধ দেয়ার যোগ্যতা হারাচ্ছে, আকস্মিক ভূমিহীন হয়ে পড়ছে তাদের জন্য স্বল্পমেয়াদী বা দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগটি কি হতে পারে সে বিষয়টি আজও ভাবা হচ্ছে না। অবশ্য, বর্গা চাষিদের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি হচ্ছে বলে জানা গেছে। যাদের নিজের জমি নেই, অন্যের জমিতে ফসল ফলায়Ñ এমন বর্গাচাষিরা সাধারণত ব্যাংক থেকে ঋণ পায় না। এই বর্গাচাষি ও জেলেরা পাবেন জামানতবিহীন ঋণ। কিন্তু এতে ঋণ শোধ দেয়ার প্রশ্নে ব্যর্থ জনগণ কি সুবিধা পাবে তা প্রশ্ন হিসেবেই থেকে গেল। অর্থাৎ মানিকগঞ্জের পদ্মার ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর জন্য কোন সুখবর নেই। দেশের বিভিন্ন নদী তীরবর্তী এলাকার ভাঙনে সর্বস্বহারা জনগণ প্রতি বছরই এমন দুর্দশার শিকার হয়। স্থাবর অস্থাবর এমন কিছুই থাকে না তাদের, যা বিক্রি করে মেটাবে ঋণের দায়। অগত্যা, গ্রাম থেকে পালিয়ে শহরে আশ্রয় গ্রহণ করে মানুষগুলো। কৃষি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বেছে নিতে হয় নগরের কঠিন ব¯ি- জীবন।

শুধু কৃষি ঋণের বিষয়ই নয়, গ্রামীন ও কৃষিখাতে সকল ব্যাংকের কার্যকর অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। বহুদিন ধরেই বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে তাগাদা দিয়ে আসছে কিন্তু তাতে কোনই কাজ হচ্ছে না। বেসরকারি ব্যাংকগুলো বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের শিল্প উন্নয়নে ও রপ্তানী খাতে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে আসছে । কিন্তু, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারি সংস্থাগুলোর বারংবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও কৃষিক্ষেত্রে বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখন পর্যš- উলে¬খ করার মত কোন ভূমিকাই রাখতে পারছে না বা চাইছে না। অথচ, ২০০৬-এর শেষের দিকে বিশ্ব ব্যাংকের এক রিপোর্টে বলা হয়, দেশে বাইরে থেকে যে বৈদেশিক রেমিটেন্স বা প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ আসে তার ৮০ ভাগই জমা হয় গ্রামের ব্যাংকগুলোতে। অথচ এই অর্থ গ্রামের কোন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় হয় না। ৮০ ভাগ অর্থই চলে আসে শহরের ব্যাংকগুলোতে। গ্রামীণ কৃষিজীবি জনগোষ্ঠীরে স্বার্থে ব্যাংকগুলোকে গ্রামমুখী হতে হবে। এ বিষয়টিও সরকারকে অত্যš- গুরুত্বের সাথে ভাবতে হবে।

পারস্যের গোলাপ: দিনাজপুরের ধান

০৫.১০.০৮
মাটি ও মানুষের কৃষি
ইত্তেফাক ।। তন্ময় রায়

বাংলাদেশের জেলাগুলোর পরিচয় এক একটি জেলা কৃষি উৎপাদনের সাফল্যের পরিচয়ের সাথে পরিচিত। এভাবে দিনাজপুর জেলাকে দেশের ধান উৎপাদনের উদ্বৃত্ত জেলা হিসেবে বলতে পারি। জেলার মোট আবাদি জমির প্রায় ৭০.৮ ভাগ ধান উৎপন্ন করা হয়। অন্য যে কোন ফসলের তুলনায় ধান এ জেলাতে বেশি হয়। এখানকার উৎপাদিত ধানের সুখ্যাতি রয়েছে দেশে-বিদেশে। বিশেষ করে জেলায় উৎপাদিত “কাটারী ভোগ” ধানের আদর এখন অনেক স্থানে ছড়িয়ে গেছে। এখানকার কাটারী ভোগ ধানের চাল খেয়ে সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র আহমদ শাহ বাংলা ছাড়তে রাজি হননি সহজে। তিনি দিনাজপুরকে তুলনা করেছিলেন পারস্যের গোলাপের সাথে।

দিনাজপুর জেলার ৪, ১৮৪৪৭ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদিত হয়। ১৩টি উপজেলার প্রয়োজনীয় ৪, ৫৯.৪৮৬ মেট্রিক টন ধানের চাহিদা মিটিয়ে আরও ৭,৭৫,২২৮ মেট্রিক টন ধান উদ্ধৃত্ত উৎপাদন করে তা বাইরে বিক্রি কর হয়।

প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন জাতের ধান উৎপাদন করা হচ্ছে এখানে। আউশ, আমন, এবং বোরো জাতের ধানের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতের ধান উৎপাদন করা হয়। আদিকালে অনেক প্রজাতির ধান উৎপাদন করা হলেও বর্তমানে হাইব্রিড জাতের ধান প্রধান উৎপাদনকারী ফসল হিসেবে জায়গা দখল করে নিয়েছে।

ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, ধান দিনাজপুরের নিজস্ব সম্পদ। প্রাগৈতিহাসিক কালে কখন মানুষ পর্বতের গুহা থেকে নেমে এসে ধান চাষ শুরু করেছিল তা জানা যায় না। বিখ্যাত ভৌগলিক বেজর্গ ইবনে শাহারিয়ার রচিত ‘আজায়েবুল হেন্দ’ গ্রন্থ থেকে জানা যায়- দিনাজপুরের অতি প্রাচীন কৃষিজাত দ্রব্যই ধান। এই গ্রন্থের রচনা ৯২১ খৃষ্টাব্দে।

ধান চাষের জন্য দিনাজপুরের সাথে অনেক কথা জড়িয়ে আছে। কেউ কেউ মত প্রকাশ করেন যে, প্রাচীনকালে চীন এবং মিশর হতে চারা এনে দিনাজপুরে ধান চাষ শুরু করা হয়েছিল। আবার কারও কারও মতে মোঘল বাদশাহদের আমলে আফ্রিকার ব্রেজিলে নাকি দিনাজপুর হতে ধানের বীজ পাঠিয়ে সেখানে ধান চাষ শুরু করা হয়েছিল।

দিনাজপুরের চাষযোগ্য মাটিকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়- প্রথমতঃ খেয়ার, দ্বিতীয়তঃ পলি। তদ্রƒপ এখানে তিন জাতের ধান উৎপন্ন হয়। যথা- আউশ, আমন এবং বোরো।

আউশ জাতের ধানের মধ্যে সরূকরাস, চিš-ামন, ঢুলকলি, শনি, জসবাভাদই, প্রচুর উৎপন্ন হত। বর্তমানে এ জাতের ধানের মধ্যে পারি, বি আর- ২৪, ২১, ২৬, ১৬, ১৪, ১ ও ২, ইরাকন-২৪, বিরি-২৮, জবা, পৌষা, পূর্বাচি ধান উৎপাদন হয়ে থাকে।

আবার আমন জাতের ধানের মধ্যে বিন্নি, চেঙ্গা, মালকিরা, নারী পর্যাত, সালনা, খৈয়ান, বাগুন বিবিয়া, সামরোট, ভাদরা, আঘুন পাক, লয়াজং, রেঙ্গন, মর্গিমালসেরা, কাঁকুয়া, কনচুষ, কলম, ভশেওয়া, দুপশার, পানিসাইল, দাঁড়িকাসাইল, ইন্দ্রসাইল, কার্ত্তিক সাইল, কাটারীভোগ, দাউদখানী, কালনুনিয়া প্রভৃতি ধান অধিক উৎপাদন করা হলেও বর্তমানে বি আর-১১, বি আর আর আই-৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪, স্বর্না, পাজাম, কাঠারী, সাপাহার, ফিলিপাইন কাঠারী, বাতরাজ, শিলকুমার, কলম, বোল্ডার , মাগুর শাইল, বাদশাভোগ, ইন্ডিয়ান রঞ্জিত প্রভৃতির উৎপাদন হচ্ছে।

নদীর চর এবং বিল এলাকাই বোরো ধান উৎপাদন করা হয়। যেমন বি আর- ১, ২, ৩, ৮, ৯, ১৫, ১৬, ১১, ১৪, ইরাউশ -২৪, বি আর আর আই- ২৮, ২৯, ৩৩, ৩৬, পাজাম, পারী পৌষা, পূর্বাচি, মিনিকেট, ইন্ডিয়ান-৫০, বিনা-৬, সোনার বাংলা, জাগরণী, হীরা, বাশমতি, জিরা কাটারী প্রভৃতি।

এ জেলার অর্থনীতি কৃষি তথা ধান নির্ভর বলা যায়। জেলার বহু মানুষ ধান চাষ, ধান বাজার জাত, ধান হতে তৈরি বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য তৈরির ব্যবসার সাথে জড়িত। আদি থেকে বর্তমান পর্যš- প্রতি নিয়ত নিত্যনতুন ধানের সুঘ্রাণ বইছে দিনাজপুরের বাতাসে। এত সবের পরেও এই ধান উৎপাদন এবং ধান ব্যবসায় রয়েছে হাজারও সমস্যা। বাজারজাত করার সমস্যা, পুঁজি স্বল্পতা, পদ্ধতিগত আধুনিকায়নের অভাব, প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলার অক্ষমতা, আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাওয়া, মাটির পি-এইচ সংরক্ষণ করতে না পারা, কীটনাশকের জন্য পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা প্রভৃতি। এ সকল বিষয়ে সম্মিলিত সহযোগীতা দেওয়া জরুরি প্রয়োজন। কেননা ইতিপূর্বে দূর্র্ভিক্ষের সময় এ জেলার ধান খেয়ে মানুষ প্রাণে বেঁচেছিল। উদ্বৃত্ত জেলা তাই প্রতি বছর এখানকার ধান দেশের মানুষের আহার যোগাড় করে আসছে। এখন শুধু প্রয়োজন নিত্য নতুন ধানের সুঘ্রাণে কৃষকের মুখের নির্মল হাসি। -

কৃষককে সংগঠিত করা বিশেষ প্রয়োজন

০৫.১০.০৮
ইত্তেফাক ।। মাটি ও মানুষের কৃষি

আমরা যারা কৃষি কাজ করি তাদের নিয়ে কারও কোন মাথাব্যথা নেই। আমাদের ফল-ফসলের উৎপাদন নিয়েও সাধারণত কেউ কোন কথা বলতে চায় না। কেন বলতে চায় না, তা আমার মাথায় আসে না। একটি এলাকার জন্য একজন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। রোগ-বালাই দমন, ফসল উৎপাদন, সেচ ব্যবস্থা, সার প্রয়োগ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তারাই কথা বলেন। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা খুব কম। তাছাড়া একটা বড় অঞ্চলে যেখানে অনেক কৃষক বাস করে সেখানে একজন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তার পক্ষে সম্ভব নয় সব কৃষকের সমস্যার সমাধান দেয়া। জৈব সার সম্পর্কে, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে, নিজের জমির উৎপাদন এবং নিজের চাহিদা সম্পর্কে, কোন ফসলের আবাদ করলে অধিক ফলন পাওয়া যায়, রোগ-বালাই প্রাকৃতিক উপায়ে কিভাবে দমন করা যায় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তারা সবসময় কথা বলতে পারে না। আমাদের গ্রাম তথা আমাদের দেশের অধিকাংশ কৃষকই অশিক্ষিত। তাই তারা নানা রকম দুর্ভোগের স্বীকার হয়। কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা দেখে আমি চিš-া করি একটা কৃষি ক্লাব গঠন করার কথা, যেখানে কৃষক নানা বিষয় শিখতে পারবে।

আমি বুঝতে পারলাম কৃষকদের সমস্যা কোথায়। ঠিক করলাম মাঠ পর্যায়ে যদি কৃষি বিজ্ঞানীদের আনতে পারি তাহলে তারা হাতে-কলমে আমাদের কৃষকদের শেখাতে পারবে। একইভাবে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামেই এই কার্যক্রম শুরু করা দরকার। এতে গ্রামের কৃষক যেমন জানার সুযোগ পাবে, তেমনি সে হাতে-কলমে কাজ করে নিজের ভাগ্য বদলাতে পারবে।

আমি একটা কথা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারি না যে, কৃষিমেলাগুলো অধিকাংশ শহরকে কেন্দ্র করে কেন হয়? শহরেতো কোন কৃষক বাস করে না। শহরে বাস করে ভোক্তা। তারা কৃষক নয়। তারা চাষাবাসের কি বোঝে? যারা গ্রামে ফসল ফলায়, গ্রামকে কেন্দ্র করে যাদের জীবনযাত্রা আবর্তিত, তাদের উপেক্ষা করে শহরে কৃষিমেলা করা হয় কোন যুক্তিতে তা আমার মাথায় আসে না। এখন থেকে আমি কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানাবো শহরে কৃষিমেলা না করে গ্রামে করলে কৃষক তার ফসল প্রদর্শনের সুযোগ পাবে এবং নতুন নতুন প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হতে পারবে, পাশাপাশি সেগুলোর ব্যবহার তার কাছে সহজ হয়ে উঠবে।

আমাদের জমি কম। মানুষ বেশি। চাহিদা অনেক। এই কম জমিতে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে ফসলের ভাণ্ডার। একই জমিতে দু’বারের জায়গায় তিনবার চারবার ফসল ফলানোর ব্যবস্থা নিতে হবে আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীদের। এক ফসলী জমিকে করতে হবে দু’ফসলী। দু’ফসলী জমিকে তিন ফসলী। পরিকল্পিতভাবে উৎপাদন না বাড়ালে আমাদের খাদ্য সংকট চরমে গিয়ে পৌঁছাবে। বর্তমানের প্রেক্ষাপট যা বলছে তা হল অন্যান্য উন্নত দেশের মত উৎপাদন না বাড়ালে কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে আমাদের।

বর্তমান আমাদের উৎপাদন ব্যবস্থার বিশেষ একটি দিক হল একক উৎপাদন ব্যবস্থা। কৃষক এককভাবে তার প্রয়োজন মেটাতে পারে না। এককভাবে কৃষিকাজ করলে একজন কৃষকের সেচ, সারসহ অন্যান্য প্রয়োজনে তেমন কোনকিছুই করার থাকে না। অথচ যৌথ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রবর্তন করলে এই বিষয়গুলোতে অনেক বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। যৌথভাবে সামগ্রীক প্রয়োজন নিরুপণ করে সবকিছুরই ব্যবস্থা করা যায়।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মহেশচর চান্দ্রা-গ্রামে কৃষকরা নিজ নিজ ক্ষেতে আলাদাভাবে এক একজন এক একটি ফসল আবাদ করতো। আমরা যখন তাদের সবগুলো জমি একসাথে করে আইল তুলে দিয়ে যৌথ ফসল ব্যবস্থাপনা চালু করলাম তখন তাদের অবস্থা একেবারেই পাল্টে গেল। আগে যখন তাদের সবগুলো জমি মিলে উৎপাদন হত দশ হাজার মণ ধান পরে সেখানে উৎপাদন দাঁড়াল ৫০ হাজার মণে। এ রকম উদাহরণ সৃষ্টি করা সম্ভব দেশের সবখানেই।

কৃষির সাথে জড়িত গবেষণা কেন্দ্রগুলো শহরকেন্দ্রিক না হয়ে গ্রামাঞ্চলে হওয়া দরকার। পাট গবেষণা কেন্দ্র, ধান গবেষণা কেন্দ্র, মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র ইত্যাদি গবেষণা কেন্দ্রগুলো প্রায় সবগুলোই শহরে অবস্থিত। গ্রামে এসব কেন্দ্রগুলো প্রতিষ্ঠা করা হলে কৃষকের খুব উপকারে আসতো। তারা সবসময় নানাবিধ সমস্যা নিয়ে মুখোমুখি হতে পারতো প্রতিষ্ঠানগুলোর।

আমাদের হয়তো অনেক কিছুই নেই। কিন্তু যতটুকু আছে ততটুকুই সঠিকভাবে ব্যবহার করে, আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা প্রয়োগ করতে পারি তবে সেখান থেকেই আমাদের প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন করা সম্ভব। এজন্য এগিয়ে আসতে হবে কৃষক, বিজ্ঞানী, সরকারসহ সংশি¬ষ্ট সবাইকেই।

লেখক: কৃষক ও কৃষি সংগঠক
মনিরামপুর, যশোর

ভার্মি কম্পোস্ট! সবুজ বিপ¬বের আর এক নিয়ামক

০৫.১০.০৮
মাটি ও মানুষের কৃষি
ইত্তেফাক ।। - জহুরুল হক

কৃষি প্রধান আমাদের দেশে কৃষি বিপ¬ব বা সবুজ বিপ¬ব যাই বলি না কেন, তা অনেকটা দুরূহ আমাদের কারণেই? স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আমাদের দেশে কৃষি বিপ¬ব ঘটানোর নানা আয়োজন সত্ত্বেও তা কখনও আলোর মুখ দেখেনি। যার ফলে বার বার আমরা সম্মুখীন হচ্ছি ভয়াবহ খাদ্য সংকটের। পরিবর্তিত পরিস্থিতি, ক্রমবর্ধমান হারে আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস এবং ধারাবাহিকভাবে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা হ্রাসসহ নানাভাবে আমাদের কৃষি ধাবিত হচ্ছে এক ধোয়াছন্ন পরিবেশে। অথচ উন্নত বিশ্বের দেশগুলো এসব পরিস্থিতি মোকাবেলায় সুষ্ঠ পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বা¯-বায়নে এগিয়ে চলছে, আর আমরা আমাদের কৃষিকে নিয়ে যাচ্ছি ঠিক তার উল্টো পথে।

উন্নত বিশ্ব নানা পদ্ধতিতে গবেষণা চালিয়ে কৃষি খাতকে টেকসই অবস্থানে নেবার জন্য জৈব কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন করে অর্গানিক চাষের পরিধি বি¯-ার করছে। তবুও আমরা আছি সেকেলে কৃষি ব্যবস্থার উপর দাঁড়িয়ে।

এক দিকে জনসংখ্যার চাপ সামাল দিতে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে আবাদী জমি, অন্য দিকে পুরানো চাষ এবং রাসয়ানিক সারের অপরিকল্পিত ব্যবহারে উর্বরাশক্তি হারিয়ে ফেলছে জমি। সরকারি কোন উদ্যোগ বা পৃষ্ঠপোষকতা না পেলেও আমাদের কৃষককুলের দু’একজন সচেতন কৃষক নিজের তাগিদেই হয়ে উঠেছেন কৃষি ও কৃষকদের কাছে দৃষ্টাš- এবং পরিবেশ ও মাটির অকৃত্রিম বন্ধু। তেমনি একজন কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়ীয়া ইউনিয়নের শশীধরপুর গ্রামের নাসির উদ্দিন। গত ১৫ মাস ধরে তিনি ভার্মি কম্পোষ্ট (কেঁচো সার) নামে জৈব সার তৈরি করে নিজে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করছেন। এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জমির উর্বরাশক্তি বৃদ্ধি ও অর্থের অপচয় রোধ সব মিলিয়ে তিনি একজন আদর্শ এবং সফল জৈব চাষী হিসাবে এলাকায় পরিচিত। স্থানীয় উপ-সহকারি এক কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি এই জৈব সার তৈরি ও ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন বলে নাসির উদ্দিন জানান।

ভার্মি কম্পোষ্টের অন্যতম প্রধান উপাদান হল গরুর গোবর ও কেঁচো। প্রথমে কাঁচা গোবর একটি চারকোণা বিশিষ্ট শেড তৈরি করে সেখানে রাখতে হবে। এরপর হলুদ, মরিচের গুঁড়া এবং থিয়োডিন নামক একটি ঔষধ মিশ্রিত করে শেডের চারপাশে ছড়িয়ে দিতে হবে যাতে কোন কীটপতঙ্গ সেখানে না আসে। ওই শেডে ১৫ দিন গোবর রেখে টকটিসিটি গ্যাস দূর করে নিয়ে একই ধরনের অপর একটি শেডে গোবরগুলো স্থানাš-র করে তার ভেতরে কেঁচো ছেড়ে দিতে হবে। উলে¬খ্য যে, এক ধরনের লালচে কেঁচো ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির জন্য উপযোগী। এরপর আড়াই থেকে তিন মাসের মধ্যে ওই শেডে যে জৈব সার তৈরি হবে তা জমিতে ব্যবহারের উপযোগী হবে। ভার্মি কম্পোস্ট সার কৃষক নাসির উদ্দিন ধান, পাট, কচু, কলা, পেঁপে, পেঁয়াজ, আলু ও পানবরজে ব্যবহার করে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন। এই জৈব সার ব্যবহারে জমির হারানো জীবন ফিরে এসেছে, ফসলের উৎপাদন অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার এই সাফল্য দেখে অন্য চাষীরাও এই সার তৈরিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে এবং কোন প্রকার রাসায়নিক সারের ব্যবহার ছাড়াই ভাল ফসল উৎপাদন করায় এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে গেছে। অন্যদিকে রাসায়নিক সারের অর্ধেকেরও কম খরচ হয়েছে এই ভার্মি কম্পোষ্ট তৈরিতে। রাসায়নিক সারের অগ্নিমূল্য ও এর পার্শ¦-প্রতিক্রিয়ার কারণে এই কম্পোষ্ট হতে পারে কৃষকের জন্য একটি আর্শীবাদ, একটি নিয়ামক যা সবুজ বিপ¬বের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এ ব্যাপারে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা বকুল হোসেন জানান, ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার একটি সম্পূর্ণ জৈব সার। এই সার পরিবেশ সহায়ক ও মাটির স্বাস্থ্য ভাল করে ও মাটিকে উর্বরা করে তুলে। এই সার ফসলের বর্ণ, গন্ধ, স্বাদ ও অন্যান্য গুণগতমান উন্নয়নে সহায়তা করে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কেঁচো সার ব্যবহারে ফসলের উৎপাদন খরচ কম হয়। এই সারে জৈব পদার্থ, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সালফার, ম্যাগনেশিয়াম, বোরণসহ অসংখ্যা গুণ থাকায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের কোন প্রয়োজন হয় না। কৃষকের প্রাকৃতিক লাঙ্গল কেঁচো দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক যথেচ্ছা ব্যবহারের ফলে বিলীন হতে চলেছে কেঁচো। সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে তার বংশবি¯-ার। যে জৈব পদার্থ মাটিকে উর্বর রাখে, মাটিকে নরম রাখে, মাটিতে বায়ু চলাচলে সুবিধা ঘটায়, পানি ধারন ক্ষমতা বাড়ায় ও ফসলের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করে সেই জৈব পদার্থ আমাদের মাটি থেকে হারিয়ে গেলে যে বিপর্যয় ঘটবে তার লক্ষণসমূহ ইতিমধ্যে আমাদের কৃষিতে দৃশ্যমান। তাই মানুষের কল্যাণের জন্যই যে মাটি সেই মাটির প্রতি আমাদের যতœবান, এর সঠিক ব্যবহার ও পরিচর্যা ও সুসম জৈব প্রযুক্তির চাষাবাদ আমাদের মাটির এবং আমাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারে। ভার্মি কম্পোস্ট কেঁচো সার আমাদের সেই চাহিদা ও প্রত্যাশা পূরণে রাখতে পারে উলে¬খ যোগ্য অবদান। মাটির উর্বরা শক্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে রাসায়নিক সার আমদানি ও ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার জন্য সরকার তথা সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সারের ব্যবহারের প্রতি কৃষককে উদ্ধুদ্ধ ও উজ্জীবিত করে তুলতে হবে।

কৃষিক্ষেত্রে কুমিল্লা মডেলের পুনর্মূল্যায়ন

০৫.১০.০৮
ইত্তেফাক ।। ড. এ.এইচ.এম. জেহাদুল করিম

বাংলাদেশের কৃষিকার্য মূলত: ঐতিহ্যিকভাবেই পারিবারিক ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং প্রথাগতভাবে আমাদের দেশের কৃষকেরা বিভিন্ন আর্থিক, প্রাকৃতিক ও বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে থেকেও, তাঁদের বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদন করে আসছিল। কিন্তু ক্রমাগতভাবে জনসংখ্যার চাপের কারণে, আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা কৃষি ক্ষেত্রে অধিক ফসল উৎপাদনের উপায় খুঁজে বের করতে সচেষ্ট হয়; এবং এরই ফলশ্রুতিতে ১৯৬০ এবং ১৯৭০ এর দশকে, কুমিল্লা মডেল বলে কথিত এই বিশেষ উদ্যোগ আমাদের কৃষি ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সাফল্য এনে দেয়। এই পদ্ধতি অনুসরণ করে আমাদের দেশের দরিদ্র কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের নতুন প্রজাতির ধান উৎপাদন করতে শুরু করে এবং জমিতে একর প্রতি উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে তাঁদের পারিবারিক কাঠামো-ভিত্তিক ঐতিহ্যিক উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে এসে, উন্নততর প্রযুক্তি-নির্ভর উৎপাদন কাঠামোর মধ্যে প্রবেশ করে। এই আধুনিক উৎপাদন কৌশল যে সমগ্র দেশের কৃষিক্ষেত্রে এক অনন্য ভূমিকা রাখে সেই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই, এবং বলাই বাহুল্য যে, এই মডেল অতি দ্রুত গ্রামীণ বাংলার ছোট ছোট পারিবারিক পর্যায়ের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীদেরকে সংঘবদ্ধভাবে এক আধুনিক কৃষি উৎপাদনের প্রতি উৎসাহিত করে। কুমিল্লা প্রোগ্রামের আওতায় অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর, আমাদের দেশে পর্যাক্রমিকভাবে ইজ-৮, ইজ-১০, ইজ-২০ এমনি বিভিন্ন ধরনের অগনিত উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ধান উৎপাদন শুরু হয়; এবং ইরি চাষের মাধ্যমে কৃষি জমিতে ধানের উৎপাদন একর প্রতি ২০ থেকে ৬০ এ উন্নীত করা হয়। কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই ধরনের যুগান্তকারী পরিবর্তন দেশের কৃষি গবেষক এবং সেই সাথে, এদেশের সাধারণ চাষীদেরকেও বেশ উৎসাহিত করে। কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে কুমিল্লা মডেলটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়, যা মূলতঃ একটি সমন্বিত সমবায় মডেল হিসাবে পরিগণিত হয়। কুমিল্লা প্রোগ্রাম মূলতঃ এবৎসধহ জবরভবংংরধহ গড়ফবষ-কে অনুসরণ করে, কৃষক সমবায় সমিতি গঠন, উপজেলা শিক্ষা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন, উপজেলা সেচ পদ্ধতি চালু করা এবং সেই সাথে গ্রামীণ সমাজ উন্নয়নের প্রচেষ্টাও শুরু করে।

প্রথম থেকেই, কুমিল্লা পদ্ধতির পরীক্ষা-নিরীক্ষা দুইটি ধারায় চলতে থাকে ঃ এর প্রথমটি পরিচালিত হয়, গ্রামীণ ক্ষুদ্র সমবায়ীদের দ্বারা সংঘটিত কৃষক সমবায় সমিতি গঠন, এবং দ্বিতীয়টি হলো, উপজেলা ভিত্তিক সমবায় সমিতি স্থাপন, যার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল গ্রামীণ সমবায়গুলোতে কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত স্বল্প গভীর এবং গভীর নলকূপের মাধ্যমে পাতালের পানি উত্তোলনের সুবিধা প্রদান করা।

কৃষিক্ষেত্রে কৃষক সমবায় সমিতিগুলোকে ভিত্তি করে, গ্রামীণ চাষীদের উচ্চ ফলনশীল বীজ, সার ও কৃষি সরঞ্জাম সরবরাহ করার নীতি অনুসৃত হয়; এবং সেই সাথে কৃষিক্ষেত্রে কৃষকদেরকে সহায়তা করার জন্য ছোট-খাট কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করার উদ্যোগ নেয়া হয়। কৃষক সমবায় ও উপজেলা সমবায় মূলতঃ কৃষকদেরকে বিভিন্ন আঙ্গিকে কৃষি সহায়তা দেবার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছিল এবং এর প্রধান উদ্দেশ্যেই ছিল গ্রামের ক্ষুদ্র চাষীদেরকে উপজেলাভিত্তিক সরকারি কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত করা। এই কার্যক্রমের অংশ হিসাবে, উপজেলা ট্রেনিং কর্মকর্তা গ্রামীণ পর্যায়ে সমবায়ের জন্য, একজন ম্যানেজার ও একজন পরিচালক নিয়োগ করে। বিভিন্ন গ্রামীণ সমবায় সমিতিতে নিয়োজিত এইসব ম্যানেজার ও পরিচালকগণ উপজেলায় এসে কেন্দ্রীয়ভাবে ট্রেনিং গ্রহণ করে, এবং দক্ষতা অর্জন করে। ধারণা করা হয়েছিল যে উপজেলায় ট্রেনিংপ্রাপ্ত এইসব ব্যক্তিদের এই ট্রেনিং এবং সংগৃহীত জ্ঞান গ্রামে অবস্থিত কৃষক সমবায় সমিতির কার্যকরী পরিষদের কর্মকর্তা ও সাধারণ সদস্যদের মধ্যে সঞ্চারণ করবেন। ১৯৮০-র দিকে কৃষি উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে সমগ্র বাংলাদেশেই এই মডেলটি ব্যবহৃত হয় এবং আমাদের তথ্য অনুসারে উক্ত সময়ের মধ্যে দেশের ৪৭৫টি উপজেলার মধ্যে ২৬৭টি উপজেলাতেই এই কার্যক্রম চালু করা হয়।

যাইহোক, আমাদের পূর্বোক্ত আলোচনায় যে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে তা হলো এই যে কুমিল্লা সমবায় উদ্যোগ মূলতঃ কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে, অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে গৃহীত হয়। কৃষি গবেষণার বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায় যে, বিভিন্ন সময়ে এটি কৃষি উন্নয়নের অন্যান্য সংস্থার সাথেও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থেকেছে। তবে উদাহরণ থেকে দেখা যায় যে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কুমিল্লা প্রোগ্রামের নামে যে কৃষক সমবায় সমিতিগুলো গড়ে তোলা হয় কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে সেগুলোর কার্যকারীতা খুবই কম। আমাদের বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায় যে কুমিল্লা প্রোগ্রাম পক্ষান্তরে ক্ষুদ্র ও ভূমিহীন চাষীদের কোন উপকারেই আসে নাই, বরং নিয়ম-নীতির ক্ষেত্রে, এই সমিতিগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ও ভূমিহীন চাষীরা কার্যত সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। বাংলাদেশের মত একটি গরীব দেশে যেখানে শতকরা ৪৮ ভাগই ভূমিহীন কৃষক সেখানে কুমিল্লা মডেল অনুসৃত সমবায় সমিতি মূলতঃ শুধুমাত্র ধনী ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত কৃষকদেরই সুবিধা প্রদান করে আসছে।

বাংলাদেশের গ্রামীণ পর্যায়ে গবেষণার মাধ্যমে দেখা যায় যে গ্রামের ধনী ব্যক্তিরা বংশ পরম্পরায় অত্যন্ত সংগঠিতভাবে গ্রামে এই ধরনের কৃষি সমবায় সমিতিগুলোকে বংশ পরম্পরায় নিয়ন্ত্রিত করে থাকে। গবেষণা সংক্রান্ত এক জরীপের তথ্য থেকে জানা জানা যায় যে কুমিল্লা প্রোগামের আওতায় কৃষক সমবায় সমিতিগুলোর মধ্যে শতকরা পঞ্চাশ জনই মাঝারী ও ধনী কৃষক। জানা যায় যে বর্তমানে কুমিল্লা সমবায় সমিতিতে যারা টিকে আছে তারা শুধুমাত্র ঋণ বিতরণের মাধ্যমেই টিকে আছে এবং কোনক্রমেই ঋণ বিতরণ ব্যতীত কৃষি কাজের অন্য কোন ক্ষেত্রে এই সমিতিগুলো কোন সুবিধা প্রদান করতে পারে না। ঋণের ক্ষেত্রেও বিশেষভাবে দেখা যায় যে এইসব সমিতিগুলোতে যখনই কোন ঋণ আসে তখনই সাথে সাথে এর সাথে সম্পৃক্ত ধনী কৃষকেরা নিজেরাই বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে এই অর্থ করায়ত্ব করে। অন্যদিকে, সমবায় সমিতিগুলো সেচ প্রক্রিয়ায় কোন সুবিধাই প্রদান করতে পারে নাই, বরং আমার জানা মতে বড় কৃষক ও জোতদার কৃষকগণ নিজেরাই তাঁদের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সেচের জন্য স্বল্পন্নোত অল্প গভীর নলকূপ ক্রয় করেছে এবং অবস্থা সম্পন্ন ব্যক্তিরা অর্থের বিনিময়ে গ্রামের মাঝারী ও ছোট-বড় কৃষকদেরকে সেচের সুবিধা দিতে থাকে। এই ক্ষেত্রেও গরীব কৃষকেরা তাদের জমিতে সেচ প্রয়োগের ক্ষেত্রেও কুমিল্লা সমবায়ের কোন সহায়তা পায় না।

কিন্ত অতি সম্প্রতি কুমিল্লা মডেলের বিভিন্ন দিক নিয়ে পুনঃমূল্যায়নের প্রশ্ন এসেছে, এবং পুনঃমূল্যায়ন করতে গেলে বলতে হয় যে, ১৯৬০ এর দশকে কুমিল্লা মডেল অনেকটা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে উদ্ভাবন করা হয়েছিল। গ্রামের ধনী কৃষকেরা সমবায়ের নামে দরিদ্রদেরকে তাদের সাথে সম্পৃক্ত রাখছে এবং ধনীরা পরোক্ষভাবে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করছে। দেশ স্বাধীন হবার পূর্বে, এই মডেলটি স্বৈরাচারী আইয়ূব সরকারের বুনিয়াদী গণতন্ত্রের এক কাল্পনিক মডেলের সাথে সম্পর্কিত করে সাধারণ কৃষকদেরকে ভাঁওতাবাজীর চাষাবাদে সংশ্লিষ্ট করার প্রয়াসে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়। বলাই বাহুল্য যে ফসল উৎপাদনের পরিমাণের ক্ষেত্রে বিশাল পরিবর্তন আনবার কারণে প্রারম্ভিক পর্যায়ে এই মডেল সমগ্র বাংলাদেশের কৃষক সমাজের সকলেই অত্যন্ত উৎসাহের সাথে গ্রহণ করে। কিন্তু প্রয়োগিক দিক থেকে এর ভবিষ্যৎ সমস্যার কথা অনুধাবন করেই ১৯৯১ সালে হংকং থেকে প্রকাশিত আমার এক গবেষণায় প্রবন্ধে আমি কৃষিক্ষেত্রে কুমিল্লা মডেলের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছিলাম, যে, ওঃ ংযড়ঁষফ নব হড়ঃবফ ঃযধঃ ঃযব সড়ফবষ ভড়ৎসঁষধঃবফ নু ঈড়সরষষধ, ংযড়ঁষফ হড়ঃ নব ঃযব ভরহধষ ধহংবিৎ ঃড় ঃযব ধমৎধৎরধহ ফবাবষড়ঢ়সবহঃ রহ ইধহমষধফবংয. ওঃং াধষরফরঃু সধু ভঁৎঃযবৎ নব ঃবংঃবফ ধহফ ফবভরহরঃবষু ঃযবৎব ংযড়ঁষফ বাড়ষাব হবি রফবধং রহ রঃং ভৎধসবড়িৎশ। সত্যিকারভাবে কুমিল্লা মডেলের ক্ষেত্রে আজ এই বাস্তবতাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কেননা কুমিল্লা পদ্ধতিতে চাষের জন্য প্রয়োজন হয় যান্ত্রিক সেচ-পদ্ধতি এবং সেইসাথে অধিক মূল্যের রাসায়নিক সার। এই রাসায়নিক সার আমাদেরকে আমদানী করতে হয় পাশ্চাত্য দেশ থেকে যা পরোক্ষভাবে আমাদের কৃষকদের অনেকটা পাশ্চাত্ত নির্ভরশীল হতে বাধ্য করে। শুধু তাই নয়, অধিক পরিমাণে রাসায়নিক সার ব্যবহারের কারণে দেশের কৃষি জমিগুলো প্রাকৃতিকভাবে উর্বরা শক্তি হারিয়ে ফেলছে এবং ধারণা করা যায় যে এক পর্যায়ে ভবিষ্যতে এই জমিগুলোর নিজস্ব উৎপাদন ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হবে। অন্যদিকে প্রচুর পরিমাণে পানি নির্ভরশীল এই কৃষি উৎপাদন মূলতঃ পাতালের পানিকে নির্দয়ভাবে তুলে আনার প্রবণতা বৃদ্ধি করেছে। সম্প্রতি প্রচুর পরিমানে পাতালের পানি উত্তোলন করবার কারণেই, পানিতে আর্সেনিক সমস্যাও দেখা দিচ্ছে কিনা সেটিও গবেষণা করে দেখবার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

যাইহোক, কৃষি ক্ষেত্রে কুমিল্লা মডেলের অবদান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে এই উদ্যোগের প্রতি আস্থাভাজন হয়ে আমাদের দেশের সাধারণ কৃষকগণ ষাট ও সত্তরের দশকে, আধুনিক কৃষিকে গ্রহণ করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় যে, আধুনিক কৃষির জন্য বর্তমানে প্রয়োজন হয়ে পড়েছে যান্ত্রিক প্রযুক্তি ভিত্তিক চাষ, উচ্চ-মূল্যের আমদানী করা বিদেশী সার, কীটনাশক ওষুধ, পাতালের পানি উত্তোলনের জন্য স্বল্পোন্নত অথবা গভীর নলকূপ। দরিদ্র কৃষকেরা এই ধরনের কৃষি উপকরণাদি প্রায়ঃশই সংগ্রহ করতে অক্ষম, এবং এর ফলশ্রুতিতে তাঁরা তাঁদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খন্ডিত জমিগুলোকে ধনী চাষীদের নিকট বিক্রয় করে নিজেরা হয়ে পড়ে সর্বশান্ত। এটি একটি বিশেষ ‘ঘূর্ণায়মান চক্র’ যা আধুনিক প্রযুক্তির নামে মূলতঃ আমাদের দেশের ধনী কৃষকদের ধনী এবং দরিদ্রদেরকে অতি-দরিদ্র করে তুলছে। তাই আমার ব্যক্তিগত ধারণা যে, আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি চাষ পরোক্ষভাবে পাশ্চাত্যের বহুজাতিভিত্তিক কৃষি উপকরণ প্রস্তুতকারক শিল্প-কারখানার মালিক, শিল্পপতি এবং ক্ষমতাধারী পশ্চিমা রাষ্ট্রসমূহকে আর্থিক দিক থেকে শক্তিশালী করে তুলছে।

পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় যে, বর্তমানে আমাদের দেশে কুমিল্লা মডেল অনুসৃত শতকরা ৭৫ ভাগ জমিতে উচ্চ ফলনশীল বীজের ধান চাষ করা হচ্ছে এবং মাত্র ২৫ ভাগ জমিতে স্থানীয় জাতের ধান চাষ করা হয়। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কুমিল্লা মডেলের চাষ পদ্ধতি তাই আংশিক পরিহার করে আমাদের স্থানীয় জাতের চাষের জমির পরিমাণ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এই পরিমাণকে পূর্বের ২৫ ভাগ স্থানীয় জাতের চাষের সাথে আরো অতিরিক্ত ২৫ ভাগ জমি অন্তর্ভুক্ত করে, মোট ৫০ ভাগ জমিতেই স্থানীয় জাতের ধান চাষ করা যেতে পারে। এতে করে আমাদের জমিগুলো উর্বরতা ফিরে পাবে এবং সেইসাথে দরিদ্র কৃষকেরা ঐতিহ্যক কৃষিকাজে উৎসাহিত হবে। উচ্চ-ফলনশীল ধান যেহেতু আমদানীই করতে হয়, সুতরাং এই ক্ষেত্রে আমদানীর পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি করে দেশের খাদ্য সমস্যাকে মোকাবিলা করা যাবে বলে আমার ধারণা।

[লেখকঃ সদস্য, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, এবং প্রফেসর, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়]

Thursday, October 2, 2008

সমস্যায় জর্জরিত কৃষিখাত

২৮.০৯.০৮
ইত্তেফাক ।। মুনসী কওছার উদ্দিন

কৃষি আমাদের বেঁচে থাকার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ এবং অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল। দেশের জাতীয় আয়ের বিরাট একটি অংশ আসে কৃষি খাত থেকে। বর্তমান জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান শতকরা ২৩.৪৬ ভাগ। কিন্তু এতকিছুর পরও বাংলাদেশের কৃষি খাত ও কৃষির উন্নয়নে নানাবিধ সমস্যার আবর্তে জর্জরিত।

আমি সহকারি কৃষি স¤প্রসারণ কর্মকর্তা (এখন অবসরপ্রাপ্ত) হিসেবে মাঠে কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পেরেছি- বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থা পিছিয়ে থাকার অন্যতম প্রধান কারণ মান্ধাতার আমলের চাষ পদ্ধতি। অধিকাংশ গ্রামাঞ্চলে এখনও কাঠের লাঙ্গল ও বলদ দিয়ে চাষাবাদ করা হয়। এতে যেমন সময় অনেক বেশি লাগে তেমন পরিশ্রমও হয় কয়েকগুন বেশি। পৃথিবীতে কৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞানের যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তা আমাদের গ্রামাঞ্চলের কৃষকের কাছে অজানা। যে কারণে শারীরিক শ্রমের ওপর নির্ভরশীল কৃষি প্রত্যাশিত ফসল উৎপাদন করতে পারে না। আমাদের জমি যথেষ্ট উর্বরা হওয়া সত্ত্বেও আমরা আবাদী জমিকে ঠিকমত কাজে লাগাতে পারছি না। এখানে অজ্ঞতা অর্থাৎ শিক্ষার বিরাট একটা ঘাটতি রয়ে গেছে। আমাদের দেশের কৃষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আবাদী জমিতে ফসল ফলানো সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। পাশাপাশি এটাও বিবেচনায় রাখতে হবে কৃষি যখন আমাদের উন্নয়নের মূলভিত্তি তখন রাজস্ব খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখতে হবে কৃষিতে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ বারবার আমাদের দেশে আঘাত হেনে কৃষি এবং কৃষিখাতকে করছে বাধাগ্রস্থ। ভৌগোলিক কারণে প্রতিবছর বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস লেগেই আছে। ১৯৯৮ সালের বন্যা, স¤প্রতিকালের সিডর যার ক্ষত আমাদের এখনও শুকায়নি। বিআইডিএস-এর এক সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, ৯৮ এর বন্যায় দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫২টি জেলা প¬¬¬াবিত হয় এবং ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার কোটি টাকা। স¤প্রতিকালের সিডরে যে ক্ষতি হয়েছে তার সঠিক চিত্র এখনও আমাদের অজানা।

বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থা এখন পর্যš- অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। সব জায়গায় সেচ ব্যবস্থা না থাকার ফলে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃষ্টি না হলে কৃষি কাজের ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্থ হয়। আবার মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়, এতে ফসলের ক্ষতি হয় বেশি। আবার গ্রামে দেখা যায় অনেক ধনী কৃষক সেচ মেশিন কিনে তা দিয়ে বিভিন্ন কৃষকের জমিতে পানি দেয়। এতে একটা শর্ত থাকে। শর্তটা হল ফসলী জমির তিনভাগের একভাগ সেই সেচ মালিককে দিতে হবে। এতে করে কৃষক যে ফসল ফলায় তার একটা অংশ ওই ধনী কৃষকের গোলাতে চলে যায়। ফলে প্রকৃত কৃষক দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে। এখানে জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার খুব বেশি। ফলে আবাদী জমিগুলো ঘরবাড়ি তৈরিতে লেগে যাচ্ছে। খণ্ডিত হচ্ছে জমিগুলো। আর এই খণ্ড-বিখণ্ডের ফলে কলের লাঙল বা ট্রাক্টর ব্যবহার করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। যার কারণে উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে।

আমাদের দেশের অধিকাংশ কৃষকই গরিব। তারা অনেক সময় গ্রামের মহাজনদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা ধার করে জমিতে ফসল ফলায়। এই টাকার চড়া সুদ গুনতে হয় কৃষককে। ফলে সে হয়ে পরে দিশেহারা। বিভিন্ন ব্যাংকে কৃষিঋণের ব্যবস্থা থাকলেও তা মুখ চিনে দেয়া হয়। এক্ষেত্রে কৃষকের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ করা হয় বলে অভিযোগ আছে। তাছাড়া কৃষিঋণ ব্যবস্থা সহজ নয়। এখানে অনেক বেগ পেতে হয়। স¤প্রতি দেশী-বিদেশী সব ব্যাংকগুলোর জন্য কৃষিঋণ দেয়া বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নিয়মের কার্যকারিতা কতটুকু হবে তা দেখার বিষয়। কার্যকর হলে এটি অনেক কৃষকেরই সুদিন ফিরিয়ে দেবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

আমাদের কৃষক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত। তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাকে। হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিতে হবে তাদের। বালাই-দমন ব্যবস্থায় কৃষকের পাশে দাঁড়াতে হবে সরকারকে। উন্নত গবেষণাক্ষেত্র তৈরি করতে হবে দেশে। যে গবেষণা থেকে বেরিয়ে আসবে নতুন নতুন প্রযুক্তি। কীটনাশক ব্যবহার না করে কীভাবে বালাই-দমন করা যায় কৃত্রিমভাবে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

আমাদের দেশে অনেক কৃষিবিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত আবিষ্কার করে চলছে নতুন নতুন জিনিস। তাদের আবিষ্কারের ফসল পৌঁছে দিতে হবে কৃষকের দোরগোড়ায়।

কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণেও সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একমণ ধানের উৎপাদন মূল্য ৫০০ টাকা হলে বাজারের দাম যদি ৪৫০ টাকা হয় তাহলে কৃষক চরমভাবে মার খাবে। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে সরকারের বাজেট বাড়াতে হবে কৃষিতে। কৃষক যেন তার উৎপাদিত জিনিসের সঠিক মূল্য পায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের দেশের কৃষককে অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে বের করে আনতে হবে। প্রয়োজন মাফিক সার তাদের সরবরাহ করতে হবে। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি তাদের হাতের নাগালে দিতে হবে।



মুনসী কওছার উদ্দিন, কৃষক, সহকারি কৃষি স¤প্রসারণ কর্মকর্তা (অব:), লোহাগড়া, নড়াইল।

রাবার চাষ বদলে দিতে পারে কৃষি অর্থনীতি

২৮.০৯.০৮
ইত্তেফাক ।। মাটি ও মানুষের কৃষি ডেস্ক

রাবার প্রকৃতিক উপায়ে সংগৃহীত একটি জৈব পদার্থ। একটি রাবার গাছের পরস্পর সম্পর্কযুক্ত কোন অংশ বা প্রণালী দিয়ে নির্গত কষই হচ্ছে রাবার। প্রথম দিকে সব রাবারই ছিল প্রাকৃতিক, যা জীবš- রাবার গাছ হতে আহরিত হত। গাছ থেকে আহরিত কষ যা নিয়মমাফিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘনীভূত হয়ে শক্ত হয়। সেই কষ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক রাবারকে ব্যবহার উপযোগী করে মানুষের বিভিন্ন চাহিদা মেটানো হয়।

বাংলাদেশে রাবার চাষের উজ্জ্বল সম্ভবনা রয়েছে। ষাটের দশকের শুরুর দিকে কক্সবাজারের রামু এবং তার আশেপাশের পাহাড়ী এলাকাগুলো বিশেষজ্ঞরা জরীপ করে রাবার চাষের উপযোগী বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। ১৯৬০-৬১ সালে সরকারি উদ্যোগে কক্সবাজার জেলার রামুতে প্রথম পরীক্ষামূলক রাবার চাষ শুরু হয়। পরবর্তীতে সরকারি পর্যায়ে আরও রাবার বাগান গড়ে ওঠে। এরপর ব্যক্তিমালিকানায় রাবার চাষ শুরু হয়। ১৯৮০-৮১ সাল হতে ১৯৯৭ সাল পর্যš- প্রতিটি ২৫.০০ একর করে প্রায় ১৩০০টি বাগান বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়।

১৮৭৬ সালে স্যার হেনী উইকহ্যাম আমাজান নদীর অববাহিকার গভীর জঙ্গল থেকে রাবারের বীজ সংগ্রহ করে লন্ডনের ‘কিউ গার্ডেন’ এ রোপণ করেন। সেখান থেকে ছোট গাছ অবস্থায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সিলোন ও পূর্ব-এশিয়ার মালায়ন উপদ্বীপ এ স্থানাš-রিত হয় এবং পরবর্তীতে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভারতীয় উপ-মহাদেশে রাবার চাষ শুরু হয়। সেদিক থেকে বাংলাদেশ রাবার চাষে নতুন হলেও এদেশের ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু ও পরিবেশ রাবার চাষের জন্য খুবই উপযোগী।

রাবার চাষ আমাদের গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। উৎপাদিত রাবার কাঁচামাল হিসেবে শিল্প প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করে রাবারজাত দ্রব্যাদি প্রস্তুতপর্বে এবং বিপণনে বহু লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। রাবার একটি অপরিহার্য অর্থকরী ফসল। তাই বাণিজ্যিকভাবে রাবার চাষ একাš- প্রয়োজন। রাবার গাছ অন্য যে কোন গাছের চেয়ে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি পরিমাণ অক্সিজেন উৎপাদন করে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার খাতিরে রাবার চাষ কাম্য। দেশীয় রাবার শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে অবশ্যকরণীয় কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশের কথা উলে¬খ করা যায়।

রাবার গাছকে প্রক্রিয়াজাত করে মূল্যবান আসবাবপত্র তৈরির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। রাবার শিল্পের সাথে সাথে রাবার গাছের কাঠও দেশের জন্য বিশাল সম্ভবনা নিয়ে আসতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে করে আগামী দশ বছরে পাঁচ লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান হতে পারে।

আমাদের দেশে কাঁচা রাবার আমদানির ক্ষেত্রে সঠিক নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। এতে করে দেশীয় উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও ব্যবহারকারীর স্বার্থ সংরক্ষিত হবে। ১৯৯৬-৯৭ অর্থ বছরে কাঁচা রাবার আমদানি কর প্রায় অর্ধেক কমানোতে দেশীয় উৎপাদনকারী এবং এর সাথে সংশি¬ষ্ট সকলেই চরম আর্থিক সংকটে পতিত হয়েছে এবং রাবার চাষ প্রকল্প হুমকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে উৎপাদনকারী বা বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে পড়বে। এতে করে হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ অঙ্কুরেই বিনষ্ট হবে ও অর্থনীতির উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে।

রাবার চাষ একটি জাতীয় ভিত্তিক প্রকল্প। এর উৎপাদন, শ্রমিক কর্মচারী ও মালিক পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ, আমদানিকৃত কাঁচা রাবারের সাথে দেশীয় রাবারের অসম প্রতিযোগিতা দূরীকরণ এবং আমদানিকারক, উৎপাদনকারী ও ব্যবহারকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অবশ্যই জাতীয় রাবার নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজন রয়েছে।

রাবার শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে ইভাফোম, সিনথেটিক রাবার আমদানিকারক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এলসি খোলার পূর্বে কমপক্ষে শতকরা ৫০ ভাগ কাঁচামাল হিসেবে দেশীয় রাবার ক্রয় করেছেন মর্মে বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন থেকে প্রত্যায়ন পত্র গ্রহণের নির্দেশ জারী করা যেতে পারে। এতে ইভাফোম, নরম প¬াস্টিক ও সিনথেটিক রাবার আমদানির পরিমাণ কমাতে এবং দেশীয় রাবারের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে।

বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে রাবার চাষ কর্মসূচিকে সাফল্যের দ্বারপ্রাšে- উপনীত করতে হলে ‘রাবার বোর্ড’ গঠন করা অত্যš- জরুরি।

রাবার চাষে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। আমাদের পার্শ্ববতী দেশ ভারতে রাবার চাষীদের বিশেষ রফতানি ও ভর্তুকি সুবিধাসহ সহজ শর্তে ঋণ, অনুদান ও রাবার বোর্ড গঠনের মাধ্যমে হাতে-কলমে শিক্ষাসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়। আমাদের দেশে অনুরূপ সহযোগিতা পেলে রাবার চাষ আরও বি¯-ারলাভ করতে পারতো।

সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তি মালিকাধীন বাগান হতে চলতি বছর প্রায় ৯০০০ মেট্রিক টন কাঁচা রাবার উৎপাদিত হবে। অন্যদিকে দেশের অভ্যš-রীণ রাবার শিল্প কারখার চাহিদা রয়েছে প্রায় ৯০০০ মেট্্িরক টন। বর্তমান চাহিদার তুলনায় উৎপাদন উদ্বৃত্ত হওয়া সত্ত্বেও বাইরে থেকে রাবার আমদানি করে থাকে।

রাবার শিল্পের প্রতি যতœবান হলেই আমরা বিদেশ থেকে রাবার আমদানি করা বন্ধ করে রাবার রফতানি করতে পারবো। আর এর জন্য প্রয়োজন মালিকানাধীন বাগানগুলোতে পর্যাপ্ত পুঁজি, সুন্দর অবকাঠামো, সুষ্ঠু আইন-শৃঙ্খলা। পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিপণনের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে করে রাবার উৎপাদনে নিয়োজিত অন্য সকল সংস্থা ছাড়া শুধু ব্যক্তি মালিকানায় রাবার চাষ উন্নয়ন খাত থেকেই আগামী ২০২০ সাল নাগাদ অš-তপক্ষে ২০.০০০.০০ মেট্্িরক টন প্রাকৃতিক রাবার বিদেশে রফতানি করা সম্ভব হবে এবং দেশকে স্থায়ীভাবে রাবার রফতানিকারক দেশে পরিণত হবে।

বীজ, সার, সেচ, যত্ন, এই চার মিলে রত্ন

২৮.০৯.০৮
কৃষিবিদের কলাম
ইত্তেফাক ।। মোঃ তৌফিক আরেফীন, কৃষিবিদ

কৃষি উন্নয়নে সেচের গুরত্ব অপরিসীম। আদিম যুগে সেচের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত না হলেও সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে সেচ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনেক অগ্রগতি সাধিত হয়। জাতিসংঘ মহাসচিব বেশ ক’বছর আগে ঠাট্টা করে বলেছিলেন আগামী পৃথিবীতে যদি কোন বিশ্বযুদ্ধ হয় তবে তা হবে পানি নিয়ে বিশ্বযুদ্ধ। পানি ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেচ।

বাংলাদেশে সেচ ব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি: ষাটের দশকে সর্বজন শ্রদ্ধাভাজন ড.আখতার হামিদ খান এর হাতের স্পর্শে বাংলাদেশে প্রথম ভূ-গর্ভস্থ পানি সেচের সূচনা ঘটে। পরে ১৯৬০ সালে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে তৎকালীন পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ওয়াপদা) ও কৃষি উন্নয়ন সংস্থা (এসিডি) নামে দু’টি সংস্থা গঠিত হয়। ১৯৬৪ সালে ইপিওয়াপদা একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করে। ১৯৬২ সাল হতে শুরু করে ১৯৬৬ সাল পর্যš- গভীর নলকূপ সেচ প্রকল্প বা¯-বায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে সেচের কর্মসূচি শুরু হয়। তারপর সত্তর দশক, আশির দশক, নব্বই দশক, বিশ শতক এবং পরিশেষে একুশ শতকের শুরুতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ২০০১ সালের মে মাস পর্যš- সেচযোগ্য এলাকা ছিল ৭.৪১ লক্ষ হেক্টর, যার মধ্যে সেচযুক্ত এলাকা ছিল ৫.৭১ লক্ষ হেক্টর। বর্তমানে সেচকৃত জমির পরিমাণ ৪৬,২৪,৪৩৯ লক্ষ হেক্টর। যদিও ৮২.৯০ লক্ষ আবাদি জমি বিদ্যমান। এ বিপুল পরিমাণ এলাকায় সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে ডিএই, বিএডিসি ও বিএমডিএ সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের কৃষি ও সেচ- বাংলাদেশের কৃষির উলম্ব উন্নতির জন্য সেচ ব্যবস্থাপনা অতি জরুরি। অবস্থা এমন যে বাংলাদেশের কৃষি ভার্টিক্যাল এক্সপানশন ছাড়া আর খাদ্য নিরাপত্তা সমুন্নত রাখার কোন সুযোগ নেই। বাংলাদেশে শতকরা প্রায় ৬২ ভাগ জনগণ প্রত্যক্ষভাবে কৃষিকাজে নিয়োজিত। আবাদি জমির মধ্যে শতকরা ৩৫.০৮ ভাগ এক ফসলী জমি, দুই ফসলী জমি শতকরা ৫১.৪৫ ভাগ এবং তিন ফসলী জমি শতকরা ১২.৭৫ ভাগ (কৃষি ডাইরি ২০০৮)। বর্তমানে মোট সেচকৃত জমির পরিমাণ ৪৮ লক্ষ হেক্টর যা মোট ফসলী জমির প্রায় ৬০ ভাগ (পাউবো ২০০২ এবং বিবিএস ২০০২)। কৃষি উৎপাদনে বিপ¬ব ঘটাতে হলে সেচের স¤প্রসারণ অতি জরুরি। জাপানের সেচ ব্যবস্থা ১৩৫০ বছরের এবং থাইল্যান্ডের ১০০ বছরের পুরানো। মাত্র ৪০ বছরের ব্যবধানে দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপিনস, লাওস, কম্পোডিয়া ও ভিয়েতনাম ইত্যাদি দেশের কৃষিভিত্তিক শিল্পের ক্ষেত্রে সেচ ব্যবস্থা অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছে।

কৃষি কাজে সেচ ব্যবস্থাপনা- বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষিকাজে সুষ্ঠ সেচ ব্যবস্থাপনার জন্য যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে- ১. পরিকল্পনা ২. অবকাঠামোর নকশা প্রণয়ন ৩. সেচ কাঠামোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ। এছাড়াও সেচ ব্যবস্থার আলোকে পানিকে সুষ্ঠ ও নিয়মিতভাবে সরবরাহ করার জন্য- ১.ভূমির অবস্থা ২. সেচ পদ্ধতি ৩. ফসলের জাত ৪. মৃত্তিকা ও ফসলের ধরন অনুযায়ী কতটকু পানির প্রয়োজন তা পরিমাপ করা ৫. পর্যায়ক্রমিক সেচ ৬. সেচ বিতরণ ৭. সেচ ব্যবস্থায় ভোক্তার ভূমিকা।

এসব বিষয়ে বি¯-ারিত সমীক্ষার পর বাংলাদেশে জাতীয় সেচ নীতি ও সেচ প্রকল্পের সেচ কর ধার্য ও আদায় সংক্রাš- নীতিমালা প্রণয়নে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক সমীক্ষা ও চলমান গবেষণা অব্যাহত থাকা জরুরি।

বর্তমানে দেশে বিএডিসি সারাদেশে ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়নে গ্রাউন্ড ওয়াটার জোনিং ম্যাপ করছে শুধুমাত্র সেচ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য। তবে গ্রামীণ পর্যায়ে অপরিকল্পিত লো-লিফট পাম্প ব্যবহার করার জন্য পানির স্বাভাবিক তল এখন নিুগামী। বর্তমান সরকার সেচের ডিজেল ক্রয়ে চাষীদের ভর্তুকির ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। টেকসই ও বা¯-বধর্মী সেচ নীতি সময়ের নিরিখে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য কমান্ড এরিয়া উন্নয়ন, সেচ প্রকল্পের স¤প্রসারণ, দল গঠন ও জাতীয় পর্যায়ে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রয়োজন।

চলছে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষের মৌসুম

২৮.০৯.০৮
ইত্তেফাক ।। সাহারা তুষার
বাংলাদেশে প্রায় এক’শ রকমের ফসল জন্মে। এর মধ্যে সবজি জাতীয় ফসলই বেশি। সবজি ফসলের মধ্যে বেগুন, আলু, টমেটো, শিম, বরবটি, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, চিচিঙ্গা, করলা, ঝিঙ্গা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ঢেঁড়শ, মূলা, ইত্যাদি। এর ভেতরে কিছু সবজি ফসল আছে যা সারা বছরই জন্মে। যেমন বেগুন। আবার কিছু মৌসুমী সবজি আছে যা জন্মে গ্রীষ্মকালে এবং শীতকালে। এখন গ্রীষ্মকালীন সবজির ফলন প্রায় শেষ। চারিদিকে চলছে শীতকালীন সবজি চাষের তোড়জোর। শীতকালীন সবজির মধ্যে রয়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, মটরশুটি, পালন শাক, শিম, ডাটা শাক, মূলা ইত্যাদি। আজকের প্রতিবেদন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ নিয়ে।

ফুলকপি
ফুলকপি একটি পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও আমাদের দেশে জনপ্রিয় সবজি। বাংলাদেশে ১৯৯৬-৯৭ সালে মোট ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষাবাদ হয় এবং উৎপাদন হয় প্রায় ৭৬ হাজার টন। আমাদের দেশে চাষকৃত ফুলকপি অধিকাংশই সংকর জাতের এবং বিদেশ থেকে আমদানিকৃত যা স্থানীয় আবহাওয়ায় বীজ উৎপাদন করে না। ঠাণ্ডা ও আর্দ্র জলবায়ুতে ফুলকপির ভাল ফলন পাওয়া যায়। সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা আছে এমন ধরনের সব মাটিতে ফুলকপির চাষ ভাল হয়। আমাদের দেশে মাঘী, অগ্রহায়ণী, পৌষালী, বারি ফুলকপি-১, ২ ইত্যাদি বিভিন্ন জাতের ফুলকপি পাওয়া যায়। ফুলকপি বপনের উপযুক্ত সময় হল আগষ্ট ও সেপ্টেম্বর। প্রতি শতকে বীজের পরিমাণ দুই গ্রাম। বীজতলার জন্য ৩ ী ১ মিটার মাপের ১৫ সে.মি. উঁচু বেড তৈরি করলে ভাল হয়। বীজতলার উপরের ¯-রে ১:১ অনুপাতে পচা গোবর/আবর্জনা সার এবং দো-আঁশ মাটির মিশ্রণ ছড়িয়ে দিতে হবে। এরপর তিন-চার সপ্তাহ পলিথিন দিয়ে মাটি ঢেকে রেখে শোধনের পর পাঁচ সে. মি. দূরে দূরে লাইনে ছিটিয়ে ১০ গ্রাম বীজ বুনতে হবে। অতিবৃষ্টি ও রোদের ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য উপরে পলিথিন বা চাটাইয়ের আচ্ছাদন দিতে হবে। ১০ দিন পর দ্বিতীয় বীজতলায় পাঁচ সে.মি. পর পর সারি করে দুই সে.মি. দূরে দূরে শেষ বিকেলে স্থানাš-র করতে হবে। দ্বিতীয় বীজতলায় চারা স্থানাš-রের পাঁচ দিন পর বীজতলার চারায় প্রতি ১০ লিটার পানির সাথে ৩০ গ্রাম সোহাগা মিশিয়ে ¯েপ্র করা অত্যাবশ্যক।

সার ব্যবহারÑ
পচা গোবর জমি তৈরির সময় ৫০ কেজি দিতে হবে। প্রতি শতকে ইউরিয়া শেষ চাষের সময় ২৫০ গ্রাম, তার ২০ দিন পর ৫০০ গ্রাম এবং ৩৫ দিন পর ২৫০ গ্রাম। টিএসপি শেষ চাষের সময় ৭০০ গ্রাম দিতে হবে। এমপি শেষ চাষের সময় ২০০ গ্রাম, ২০ দিনপর ৩০০ গ্রাম এবং ৩৫ দিন পর ২০০ গ্রাম। জিপসাম জমি তৈরির সময় ৪০০ গ্রাম দিতে হবে। জিংক সালফেট শেষ চাষের পর ৪০ গ্রাম এবং সোহাগা শেষ চাষের সময় ৪০ গ্রাম।

২৫ থেকে ৩০ দিন বয়সের চারা সারি থেকে সারি ৫০ সে.মি. (২০ ইঞ্চি) এবং চারা থেকে চারা ৪০ সে.মি. (১৬ ইঞ্চি) দূরত্ব বজায় রেখে রোপণ করতে হবে। প্রথম ও দ্বিতীয়বার সার উপরি প্রয়োগের পর পরই সারির দু’পাশের মাটি আলগা করে গাছের গোড়ায় তুলে দিতে হবে। এতে সেচ ও নিষ্কাশন উভয় কাজে সুবিধা হবে। চারা রোপণের ৪৫ দিন পর কপি সংগ্রহ করতে হয়। শতকে ৬০-৮০ কেজি আর একরে ৬ থেকে ৮ টন ফুলকপি জন্মে।

আবশ্যকীয় কার্যাবলী
১. পানি নিষ্কাশন সুবিধাযুক্ত উঁচু জমিতে চাষ করতে হবে। ২. আগাছা দমন করতে হবে। ৩. সেচ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ৪. রোগ-বালাই দমনে উপযুক্ত ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। ৫. অবশ্যই সোহাগা ব্যবহার করতে হবে। ৬. সঠিক বয়সের সুস্থ ও সবল চারা স্থানাš-র, পরিমিত সার, সেচ ও অন্যান্য অšর্-বর্তীকালীন পরিচর্যা সঠিক সময় ও নিয়ম অবশ্যই সম্পাদন করতে হবে।

বাঁধাকপি
বাঁধাকপি আমাদের দেশে একটি বহুল ব্যবহৃত শীতকালীন সবজি। বাংলাদেশে ১৯৯৬-৯৭ সালে মোট প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বাঁধাকপির চাষ করা হয় এবং মোট এক লক্ষ সাত হাজার টন বাঁধাকপি উৎপাদিত হয়। বাঁধাকপির অধিকাংশ জাতই সংকর এবং এর বীজ প্রতিবছর আমদানি করতে হয়। আমাদের স্থানীয় আবহাওয়া বাঁধাকপির বীজ উৎপাদনের উপযোগী নয়। তবে কোন কোন জাত অপেক্ষাকৃত কম ঠাণ্ডা অঞ্চলেও বীজ উৎপাদন করতে পারে। মূলত ঠাণ্ডা ও আর্দ্র জলবায়ুতে বাঁধাকপি ভাল হয়। আগষ্ট মাস থেকে চাষ শুরু হয় এবং অত্যধিক বেলে মাটি ছাড়া যে কোন মাটিতেই ভাল জন্মে। আমাদের উৎপাদিত বাঁধাকপি সাধারণত আগাম, মাঝারি ও নাবি (দেরীতে জন্মানো) জাতের।

বীজতলা তৈরিÑ বাঁধাকপির জমি গভীর চাষ দিয়ে, ঢেলা ভেঙ্গে, আগাছা পরিষ্কার করে আগষ্ট থেকে মধ্য অক্টোবর মাসের যে কোন সময় বীজ বপন করতে হয়। বীজতলা তৈরি করার জন্য বীজতলার মাটির সমপরিমাণ বালি, মাটি ও কম্পোষ্ট সার মিশিয়ে ঝুরঝুরে করতে হয়। বীজতলার মাটি প্রতি একভাগ ফরমালডিহাইডের সাথে ৫০ ভাগ পানি মিশিয়ে শোধন করে নিলে ভাল হয়। প্রথমে বীজতলাতে ঘন করে বীজ ফেললেও ১০ থেকে ১২ দিন পর দ্বিতীয় বীজতলায় চারা স্থানাš-র করতে হয়। বীজতলার মাপ ৩ ী ১ মিটার হওয়া দরকার। প্রতি হেক্টর জমির চারা উৎপাদন করতে এ রকম ২০টি বীজতলার প্রয়োজন। ৩৫০ থেকে ৪০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয় প্রতি হেক্টর জমিতে।

বীজ বপনের ৩০-৩৫ দিন পর সমতল জমিতে ১৫ সে. মিটার উঁচু বেড তৈরি করে চারা রোপণ করলে ভাল হয়। পাশাপাশি দু’টি বেডের মাঝখানে ৩০ সে. মি. প্রশ¯- নালা রেখে বেডের উপর ৬০ সে. মি. দূরত্বে দু’টি সারি করে


সারিতে ৪৫ সে. মি. দূরে দূরে চারা লাগাতে হয়।
সারের ব্যবহারÑ শেষ চাষের সময় গোবর দিতে হবে প্রতি হেক্টরে ১০ টন । হেক্টর প্রতি চারা রোপণ করার ১০ দিন পর ১০০ কেজি, ২৫ দিন পর ১০০ কেজি এবং মাথা বাঁধার সময় ১০০ কেজি ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে। টিএসপি শেষ চাষের সময় ২২৫ কেজি দিতে হবে। এমওপি শেষ চাষের সময় ১০০ কেজি, চারা রোপণের ১০ দিন পর ৫০ কেজি, ২৫ দিন পর ৫০ কেজি এবং মাথা বাঁধার সময় ৫০ কেজি দিতে হবে। জিপসাম শেষ চাষের সময় ১৪৪ কেজি দিতে হবে।

বাঁধাকপিতে ঘন ঘন সেচ দিয়ে মাটি ভিজিয়ে রাখতে হবে। পাশাপাশি আগাছামুক্ত রাখতে হবে।

পোকামাকড় দমন- কাটাই পোকা, মাথায় লেদা পোকা বা ডায়মন্ড ব্যাক মথ এবং ওয়েবওয়ার্ম পোকা বাঁধাকপির ক্ষতি করে থাকে। লেদা পোকার আক্রমণ দেখা দিলে ম্যালথিয়ন ৫০ ইসি বা রপকর্ড ২ মি. লি./ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। বাঁধাকপির অন্যতম প্রধান রোগ চারা ধবসা রোগ। এ রোগে চারা আক্রাš- হলে চারার রঙ ফ্যাকাসে সবুজ হয়ে যায় এবং চারার গোড়া পচে চারা মারা যায়। এ রোগের জন্য ব্যাভিস্টিন ৫০ ডবি¬উ পি ৫০০ গ্রাম/ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।

Wednesday, September 24, 2008

চুয়াডাঙ্গার কৃষকদের চাষাবাদ অনিশ্চিত

২৫.০৯.০৮
ডেসটিনি ।। চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা বিএডিসির কাছে পাওনা প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এসব টাকা ঈদের আগে না পাওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। টাকার অভাবে এসব কৃষকের চাষাবাদ বিঘিœত হচ্ছে। একই কারণে তাদের ঈদের আনন্দও মাটি হতে বসেছে। কৃষকদের অভিযোগে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা বিএডিসির কন্ট্রাক্ট গ্রোয়ার্স ও বিএডিসির অধিক বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের তালিকাভুক্ত কৃষকের সংখ্যা ১ হাজার ১৯২ জন। চলতি মৌসুমে কন্ট্রাক্ট গ্রোয়ার্স ও অধিক বীজ উৎপাদন কেন্দ্র কৃষকদের কাছ থেকে মোট ৪ হাজার ৯৫৮ মেট্রিক টন বীজ কেনে। যার মূল্য প্রায় ১৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে মাত্র ৬ কোটি টাকা কৃষকদের পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি আছে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা। অপর দিকে কন্ট্রাক্ট গ্রোয়ার্স অফিস সূত্র জানায়, তাদের মোট চুক্তিবদ্ধ চাষীর সংখ্যা ৬২৫ জন। চুক্তিবদ্ধ এসব কৃষকদের কাছ থেকে কন্ট্রাক্ট গ্রোয়ার্স গত জুলাই পর্যন্ত ৩ হাজার ১০৮ মেট্রিক টন বোরো ধানবীজ কিনেছে। যার মূল্য ৮ কোটি ৩৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭৬২ টাকা। এর মধ্যে এ পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে ৩ কোটি ৯২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। কৃষকদের এখনো পাওনা আছে ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৫২ হাজার ৭৬২ টাকা। এদিকে অধিক বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের চুক্তিবদ্ধ কৃষকের সংখ্যা ৫৬৭ জন। চুক্তিবদ্ধ এসব কৃষকদের কাছ থেকে ১ হাজার ৮৫০ মেট্রিক টন বোরো ধানবীজ কেনা হয়। যার মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি টাকা পরিশোধ করা হলেও এখনো কৃষকদের পাওনা আছে প্রায় ৩ কোটি টাকা।
কৃষকরা জানান, মে মাস থেকে তারা সরকারি এ দু’টি প্রতিষ্ঠানে বীজ সরবরাহ করছেন। প্রতি বছর আগস্ট মাসের মধ্যে তাদের সমুদয় পাওনা পরিশোধ করা হলেও এ বছর সময়মতো টাকা না পাওয়ায় কৃষকেরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আলমডাঙ্গা চিৎলা এলাকার কৃষক মুকুল জানান, তার এলাকার প্রায় ৫০ জন কৃষকের প্রায় ১৫ লাখ টাকা পাওনা আছে। এখন মাঠে আছে আমন ধান। ধানের জন্য সার, সেচ ও পরিচর্যা দরকার। এ ছাড়া পাট কাটা ও ধোয়াবাবদ শ্রমিক খরচের জন্য টাকার দরকার। টাকার অভাবে কৃষকেরা তাদের ফসলের যতœ নিতে পারছেন না। ফলে চলতি আমন মৌসুমে আমন ধানবীজের সংকট ও গুণগত মান কম হবে বলে তিনি জানান। একই অভিযোগ করেছেন তালিকাভুক্ত অনেক কৃষক। কন্ট্রাক্ট গ্রোয়ার্সের উপ-পরিচালক আবদুল মালেক বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে টাকা না আসার কারণে বকেয়া পরিশোধ করা যাচ্ছে না। তবে ঈদের আগেই টাকা পরিশোধের চেষ্টা চলছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় সারের দাবিতে কৃষক বিক্ষোভ

২৫.০৯.০৮
যায়যায়দিন ।। ফখরে আলম যশোর

আমনের ভরা মৌসুমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় ইউরিয়া সার নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সারের দাবিতে কৃষকরা বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ, কৃষি কর্মকর্তাদের অফিস ঘেরাও করছে। দ্বিগুণ দাম দিয়েও ইউরিয়া সার কিনতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কৃষকরা।
কৃষকদের আশঙ্কা টিএসপি এওপি সারের আকাশছোঁয়া দাম আর ইউরিয়া সারের সঙ্কটের কারণে এবার আমন উৎপাদন ব্যাহত হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এবার ৭ লাখ ৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন চাল। কিন্তু প্রতি বিঘা জমিতে ২৫ কেজি ইউরিয়ার প্রয়োজন হলেও কৃষকদের দেয়া হচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ১০ কেজি।
অন্যদিকে দ্বিগুণ দাম দিয়েও কৃষকরা সার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সার সঙ্কট নিরসনের দাবিতে ২১ সেপ্টেম্বর কৃষকরা ৫ ঘণ্টা নড়াইল-মাগুরা সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় গত মঙ্গলবার তুলারামপুরে যশোর-নড়াইল সড়ক অবরোধ করে কৃষকরা বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা কৃষি কর্মকর্তাদের ঘেরাও করে রাখে। ২১ সেপ্টেম্বর কেশবপুরের কৃষকরা সারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে এবং বিক্ষোভ করেছে। একইদিন ঝিকরগাছা এলাকার ফুলচাষীরা স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাকে স্মারকলিপি দিয়েছে। চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহসহ আরো কয়েকটি জেলায় ইউরিয়ার জন্য কৃষকরা উপজেলা ও সারের ডিলারদের কাছে ধরণা দিয়েছে।

ব্যাংককে বাধ্যতামূলক আবর্তক শস্য ঋণ দিতে হবে

২৫.০৯.০৮
যাযাদি ডেস্ক

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক কৃষকদের তিন বছরের আবর্তক শস্য ঋণ দিতে হবে সিডিউল ব্যাংককে। ওই সময়ের মধ্যে ব্যাংক ঋণ পেতে কৃষকদের যাতে আর হয়রানির শিকার হতে না হয় সেজন্য এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার আজ অথবা আগামী সপ্তাহে জারি করবে।
নির্দিষ্ট জমিতে শস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৃষক কোনো ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ বা সমম্বয় করে তিন বছর পর্যন্ত ওই ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবে। নতুন করে তাকে আর আবেদন করতে হবে না বা এজন্য আর কোনো কাগজপত্র দিতে হবে না।
কৃষকরা শস্য উৎপাদনের জন্য মূলত মেয়াদি ঋণ নিয়ে থাকে। শস্য উৎপাদনের পর আগের ঋণ পরিশোধ করে নতুন ঋণ পেতে আবেদন করতে হয়, এতে করে তারা নানা ঝামেলায় পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ফসলের সময় চলে যায় কিন্তু ঋণ পায় না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাঠ পর্যায়ে জরিপ চালিয়ে কৃষকদের মাঝে আইডি কার্ড দিয়েছে। এতে কৃষকের অবস্থা, জমির পরিমাণ, জমিতে সারাবছর কী কী ফসল উৎপাদন হয় তা লিপিবদ্ধ আছে। এ কার্ডের ওপর ভিত্তি করে এখন থেকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করা হবে।
চলতি অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর জন্য ৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত অর্থবছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। এবার বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কৃষি ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৫৫ শতাংশ। তবে কোনো ব্যাংকের জন্য আলাদা লক্ষ্যমাত্রা বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
১৯৯০ সালে আর্থিক খাতে সংস্কার কর্মসূচির আওতায় ডিরেকটেড লেন্ডিং প্রথা বিলোপ হওয়ার পর কৃষিখাতে ঋণ দেয়া ব্যাংকগুলোর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এ খাতে ঋণ দেয়া ব্যাংকগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক তা তদারকি করবে।
সূত্র জানায়, গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। এ কারণে একই পণ্য চাষে গত বছরের চেয়ে চলতি বছর ব্যাংকগুলো আরো ২০ শতাংশ বেশি ঋণ দিতে পারবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে ২০০৭ সালে রোপা আমন চাষে একরপ্রতি ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ হাজার ২৬৭ টাকা। চলতি বছর ৯ হাজার ২৬৭ টাকা থেকে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি ঋণ পাবে কৃষকরা। ব্যাংক চাইলে আরো ১০ শতাংশ বেশি ঋণ দিতে পারবে।

পাবনায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাশরুম চাষ শুরু

২৫.০৯.০৮
সমকাল ।। পাবনা অফিস
পাবনায় বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষ হচ্ছে। ঔষধি গুণস¤ক্সল্পু এবং স¤ক্সহৃর্ণ হালাল এই সবজি চাষে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন ইউনিভার্সাল গ্র“প।
পাবনার দিলালপুরে ইউনিভার্সাল গ্র“পের প্রধান কার্যালয়ের পাশে নিজস্ট^ জায়গায় এই মাশরুম চাষ করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৫ কেজি মাশরুম সবজি এই বাগান থেকে উত্তোলন করা হয়। খুব তাড়াতাড়ি এই মাশরুম বাজারজাত করা হবে।
সরেজমিনে মাশরুম বাগানে গিয়ে দেখা যায়, দোচালা ছনের ঘরে যার বেড়া দেওয়া হয়েছে পাটখড়ি দিয়ে। মেঝে পাকা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে স¤ক্সহৃর্ণ পরিষ্ফ‹ার-পরিচ্ছল্পু একটি ঘর। ঘরের ভেতরে কাঠ দিয়ে তৈরি ৫ থাক বিশি¯দ্ব র‌্যাকের ওপর এই মাশরুম সবজি চাষ করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় ৫ শ’ টবের ওপর মাশরুম রয়েছে।
ইউনিভার্সাল গ্র“পের ব্যবস্ট’াপনা পরিচালক সোহানী হোসেন সমকালকে জানান, প্রত্যেক দিন প্রতিটি বীজ থেকে ৮-১০টি করে মাশরুমের অগ্ধকুর বের হয়। মজার বিষয়, এক রাতের মধ্যেই এই মাশরুম খাবার উপযোগী হয়ে যায়।
তিনি বলেন, মাশরুম বিজ্ঞানস¤ক্সল্পু উপায়ে চাষ করা সুস্ট^াদু পু®িদ্বকর এবং ঔষধিগুণ স¤ক্সল্পু হালাল সবজি। মাশরুমের সবজি খেলে রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগ কমে আসে। শিগগির এটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাজারজাত করা হবে।

আলুর বাজারে ধস : জয়পুরহাটে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত হিমাগারে এখনো মজুদ ৭০ হাজার টন

২৫.০৯.০৮
সমকাল ।। আলমগীর চৌধুরী, ক্ষেতলাল

বাজার দিন দিন নিল্ফুমুখী হওয়ায় জয়পুরহাটের কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীদের দিন কাটছে এখন দুশ্চিšøা আর দুর্ভাবনায়। প্রতি বস্টøা (৮৪ কেজি) হিমায়িত আলু বর্তমানে প্রকারভেদে বিত্রিক্র হচ্ছে ৭ শ’ থেকে ৯ শ’ টাকায়। অথচ হিমাগারে মজুদের সময় এসব আলুর বস্টøাপ্রতি খরচই হয়েছে ১২ শ’ থেকে ১২ শ’ ৫০ টাকা। অর্থাৎ বর্তমানে বস্টøাপ্রতি মজুদকারি কৃষক ও ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে ৩ শ’ থেকে ৫ শ’ টাকা। আলু বিত্রিক্রর মৌসুম শেষ হতে মাত্র ২ মাস বাকি থাকলেও জেলার ১৩টি হিমাগারে এখনো মজুদ রয়েছে ৭০ হাজার মেট্রিক টন আলু। বাজারের এ মন্দাবস্ট’া আসল্পু মৌসুমে আলু উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে কৃষি বিভাগ মনে করছে।
খাদ্যে উ™^ৃত্ত জয়পুরহাট জেলায় গত মৌসুমে ৩৯ হাজার হেক্টর জমিতে রেকর্ড পরিমাণ আলু চাষ হয়। ফলে অধিক মুনাফার আশায় জেলার লক্ষাধিক কৃষক ও ব্যবসায়ী ১৩টি হিমাগারে ৮১ হাজার ৪৯৯ মেট্রিক টন আলু মজুদ করে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৮৪ কেজির প্রতি বস্টøা আলু হিমাগারে মজুদ করতে তাদের ব্যয় হয়েছে ১২ শ’ থেকে সাড়ে ১২ শ’ ৫০ টাকা। এর মধ্যে আলুর দাম ৯৫০ টাকা, খালি বস্টøা ৪০ টাকা, লেবার ১০ টাকা, পরিবহন বাবদে ২০ টাকা, হিমাগার ভাড়া ১৭০ টাকা ও অন্যান্য খরচ পড়েছে ১০ টাকা। কিন্তু পাইকারি বাজারে ওই আলু এখন তাদের বিত্রিক্র করতে হচ্ছে ৭ শ’ থেকে সর্বোচ্চ ৯ শ’ টাকায়। কালাই উপজেলার করিমপুর গ্রামের আলু ব্যবসায়ী শেখ মজিবর রহমান বাবু জানান, ১০ থেকে ১৫ বিঘায় আলু চাষের পাশাপাশি তিনি প্রতি বছর ৫ শ’ থেকে ১ হাজার বস্টøা আলু হিমাগারে নিয়মিত মজুদ রেখে আসছেন। এতে বস্টøাপ্রতি তার ১ থেকে ২ শ’ টাকা লাভ আসে। এ বছর তার মজুদের পরিমাণ ৮ শ’ বস্টøা। কিন্তু বাজারের যে অবস্ট’’া তাতে এবার তার কমপক্ষে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা লোকসান হবে। আলু নিয়ে আশাভঙ্গের এ ঘটনায় বাবুর মতো জয়পুরহাটের কমবেশি সব আলু ব্যবসায়ী আর কৃষকেরই এখন মাথায় হাত উঠে গেছে।
এলাকার বেশ কয়েকটি হিমাগার ঘুরে দেখা গেছে শতকরা আশিভাগ আলুই এখনো মজুদ রয়েছে। আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর হিমাগারের সবচেয়ে বড় আলু ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান জানান, মোকামে আলু পাঠিয়ে প্রতি ট্রাকে তাকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ পর্যšø তার ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। অথচ গত বছরে তার ট্রাকপ্রতি লাভ হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা।
একই অভিযোগ করলেন ক্ষেতলালের মোল্কèা হিমাগারে আলু কিনতে আসা ব্যবসায়ী আজিজুল হক। তবে তিনি এ প্রতিনিধিকে আলুর মহৃল্য কমে যাওয়ার বিষয় নিয়ে লেখালেখির চেয়ে আলু বিদেশে পাঠানোর গুরুÍ^ তুলে ধরে পত্রিকায় রিপোর্ট করার পরামর্শ দিয়ে জানালেন, এ অবস্ট’া চলতে থাকলে আগামীতে কৃষকরা আর আলু চাষ করবে না।
মোলামগাড়ী নর্থপোল কোল্ড ¯েদ্বারেজের ব্যবস্ট’াপক মনোয়ার হোসেন বলেন, এ বছর তাদের হিমাগারে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ১ লাখ ৩৫ হাজার বস্টøা আলু মজুদ করেছিল। তবে গত বছর এর পরিমাণ ছিল মাত্র ৯০ হাজার বস্টøা। তিনি বলেন, আলু বিত্রিক্রর মৌসুম শেষ হতে আর মাত্র ২ মাস বাকি অথচ এ পর্যšø মাত্র ৩৭ হাজার বস্টøা আলু হিমাগার থেকে বের হয়েছে। এখনো ৯৮ হাজার বস্টøা মজুদ আছে বলে তিনি জানান।
এদিকে ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, জয়পুরহাটে ক্ষেতলাল এবং কালাই উপজেলার কৃষকরা সবচেয়ে বেশি আলু চাষ করে। তিনি বলেন, মহৃল্য পতনের ফলে আগামী মৌসুমে ক্ষেতলালে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ ভাগ কৃষক আলু চাষ থেকে বিরত থাকতে পারেন। এতে উৎপাদন হ্রাস পাবে আশাতীত হারে। ফলে আগামী মৌসুমের শুরু থেকেই আলুর মহৃল্য বেশি হতে পারে।
জেলা কৃষি স¤প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মহসিন আলী বলেন, গত মৌসুমে আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ার পাশাপাশি চলতি মৌসুমে সুষম বৃ®িদ্বপাতের কারণে জেলায় শাকসবজি ব্যাপকহারে উৎপাদন হয়েছে। বাজারে ওইসব শাক-সবজির পর্যাপ্টø সরবরাহের কারণে আলুর চাহিদা কিছুটা কমে গেছে। আর তাই জেলার ১৩টি হিমাগারে ৮১ হাজার ৪৯৯ টন আলু মজুদ থাকলেও এ পর্যšø মাত্র সাড়ে ১১ হাজার টন আলু হিমাগার থেকে বিত্রিক্র হয়েছে। এ অবস্ট’ায় আগামীতে বিদেশে রফতানির পাশাপাশি আলুর বহুবিধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে কৃষকরা আলু উৎপাদনে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে বলে তিনি মšøব্য করেন।

নড়াইলে সারের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

২৫.০৯.০৮
ইত্তেফাক ।। নড়াইল সংবাদদাতা ।।

মঙ্গলবার সদর উপজেলার তুলারামপুর বাজারের কাছে সারের দাবিতে কৃষকরা নড়াইল-যশোর সড়ক দেড় ঘন্টা অবরোধ করে রাখে। এ সময় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা রাস্তার উপর শুয়ে, বসে এবং কাঁচি ও বস্তা উঁচু করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সাহা ও স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব রহমানের অপসারণের দাবিতে তারা শ্লোগান দেয়।

বাজারে আসছে হাইব্রিডের নতুনজাত এসএল ৮ ।। ফলন হেক্টর প্রতি ১০ টন

২৫.০৯.০৮
।। ইত্তেফাক রিপোর্ট ।।

ফিলিপাইন থেকে মাতৃগাছ এনে হাইব্রিড ধানের বীজ উৎপাদন করেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। এর নাম দেয়া হয়েছে এসএল-৮। আগামী মওসুমে এ বীজ বাজারে বিক্রির অনুমতি পেয়েছে। বিএডিসি মাতৃগাছ থেকে বীজ উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষামূলক আবাদ করে। দেশের আবহাওয়া ও জমি উপযোগী হওয়ায় সরকারের এ প্রতিষ্ঠানটি বীজ বাজারজাতকরণের অনুমতি পায়।

দেশে স্থানীয় জাত বা বেশিরভাগ উচ্চ ফলনশীল জাতের হেক্টর প্রতি ফলন ৪ থেকে ৫ টন । কিন্তু এসএল-৮-এর হেক্টর প্রতি ফলন ১০ টন। আগামী মওসুমে ৫শ টন বীজ বাজারজাত করা হবে। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রতি কেজি এসএল-৮-এর দাম নির্ধারণ হতে পারে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। যা বেসরকারিভাবে আমদানিকৃত হাইব্রিড জাতের চেয়ে কম।

অবশেষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকই নির্মাণ করলেন কালভার্ট

২৪.০৯.০৮
সমকাল ।। মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

অবশেষে নিজ উদ্যোগেই কালভার্ট নির্মাণ করলেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আলকাছ আলী। ফলে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পেল সঞ্জবপুর গ্রামের বসতভিটেসহ ৩৫ একর ধানি জমি। মঙ্গলবার প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ করে ৪টি রিং বসিয়ে কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। এ সময় মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহাদাৎ হোসেন উপস্থি’ত ছিলেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষার দাবিতে একাধিবার জেলা প্রশাসক, কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে বারবার লিখিতভাবে আবেদন জানান। গত বৃহ¯ক্সতিবার কৃষক আলকাছ আলীকে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানাতে গিয়ে সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে হেনস্থ’া হতে হয়েছে। এ ব্যাপারে গত রোববার সমকালে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়।

এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা মঠবাড়িয়ায় জোয়ারের পানিতে আমন ক্ষেতের গুঁড়ি ও মাজরা পোকা দমন

২৪.০৯.০৮
সমকাল ।। মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় অস্থ^াভাবিক জোয়ারের পানিতে রোপা আমন ক্ষেতের গুঁড়ি পোকা (সাদা পিঠফড়িং) এবং মাজরা পোকার (মাজরার মথ) ভেসে যাওয়ায় আমান চাষে এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। তবে প্রবল জোয়ারের প্রভাবে উপজেলার ৪০ একর জমির রবিশস্য ও শীতকালীন সবজির বীজতলা নষ্ট হয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ এবং কৃষকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সিডরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আগেভাগে কৃষকরা মাঠে নেমে পড়েন। এ বছর মঠবাড়িয়ায় ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন এবং ৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে উফশী ধানের আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু ফসলের মাঠে রোপিত বীজতলায় মাজরা ও গুঁড়ি পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। এদিকে, বাজারে সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাষীরা অনেকটা বিপাকে পড়েন। পরিস্থি’তি মোকাবেলায় কৃষি বিভাগ চাষীদের পরামর্শ দিলেও পোকা দমনে চাষীরা ব্যর্থ হন। সমুদ্রের লঘুচাপ ও পূর্ণিমার প্রভাবে বলেশ^র নদীর পানিতে নিম্নাঞ্চল ঈ­াবিত হওয়ায় তা ফসলের ক্ষেতে প্রবেশ করে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, জোয়ারের পানিতে ফসলি জমি ঈ­াবিত হলে প্রাথমিকভাবে ফসল হানির আশংকা করা হয়েছিল। কিন্তু এতে আমন ক্ষেতের মাজরা ও গুঁড়ি পোকা দমন হয়েছে। পাশাপাশি পানি দ্র“ত নেমে যাওয়ায় আমন ধানের কোনো ক্ষতি হয়নি। এ উপজেলায় এবার আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
এ ব্যাপারে গুলিসালী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হরষিত চন্দ্র কীর্তনিয়া জানান, আমন ক্ষেতের অবস্থ’া অত্যন্ত ভালো। তবে চাষীদের অন্যান্য পোকা দমনে আলোর ফাঁদ এবং মাঠে গাছের ডাল পুঁতে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরও দুটি সারকারখানা হচ্ছে দেশে

২৪.০৯.০৮
ডেসটিনি ।। হাসান আজাদ

দেশে নতুন দুটি সারকারখানা স্থাপন করা হচ্ছে। একটি সিরাজগজ্ঞে নর্থওয়েস্ট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (এনডব্লিউএফসি) নামে। আরেকটি সিলেটে, যার নাম শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (এসএফসিএল)। এই দুটি কারখানা নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরই মধ্যে কমিটি প্রকল্পের প্রাক সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষাও সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি কমিটির দেয়া সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকল্প দুটির জন্য খসড়া প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, সিরাজগজ্ঞের সয়দাবাদে নর্থওয়েস্ট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড স্থাপনে চীন সরকারের এক্সিম ব্যাংক অর্থায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। অর্থায়ন নিয়ে আলোচনার জন্য এক্সিম ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঢাকায় আসেন। সার কারখানায় অর্থায়নের বিষয় নিয়ে তারা ইআরডি, শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিসিআইসির সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
অন্যদিকে সিলেটের ফেঞ্চুগজ্ঞের শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড স্থাপনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সম্ভাব্যতা জরিপ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। এই প্রকল্পেরও চীন সরকারের এক্সিম ব্যাংক থেকে অর্থায়নের বিষয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় গ্যাস ও অন্য সুবিধাগুলো পাওয়ার বিষয়ে এবং সার উৎপাদনের কাঁচামাল, প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রাপ্যতা ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পেট্রোবাংলার সঙ্গে বেশ কয়েকবার আলোচনায় বসেছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এ দুটি সার কারখানা স্থাপন করা হলে বছরে প্রতিটিতে ৫ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন করে দুটিতে ১১ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এর ফলে দেশে বর্তমানে আমদানিকৃত ১৩ লাখ মেট্রিক টন সারের মধ্যে সবোর্চ্চ দেড় লাখ টন সার আমদানি করতে হবে। বিদেশ থেকে বর্তমানে প্রতি টন ইউরিয়া আমদানিতে সরকারের খরচ হয় ৫৮ হাজার টাকা। আর প্রতিটন সার ভর্তুকি দিয়ে সরকারকে বিসিআইসির মাধ্যমে বিক্রি করতে হয় ১০ হাজার টাকায়। ফলে বর্তমানে প্রতিটনে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ৪৮ হাজার টাকা।
মন্ত্রণালয়ের সূত্র আরও জানায়, বিগত ১১ বছরে ইউরিয়া সার আমদানিতে সরকার ভর্তুকি দিয়েছে ৬ হাজার ৫২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। প্রস্তাবিত এ দুটি সারকারখানা স্থাপিত হলে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকায় নেমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সূত্র জানায়, আমদানি করা ছাড়াও দেশের ৬টি ইউরিয়া সারকারখানায় উৎপাদিত সার উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে বিক্রি করার কারণে বিসিআইসি আরও প্রায় ১ হাজার ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর ফরে দেশীয় সার কারখানাগুলো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে মোট ৬টি ইউরিয়া সারকারখানা রয়েছে। এগুলো হচ্ছেÑ চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, ঘোড়াশাল ইউরিয়া সারকারখানা লিমিটেড, পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড ও ফেঞ্চুগঞ্জ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড। এ ছটি কারখানায় বর্তমানে মোট ১৫ লাখ মেট্রিক টন সার উৎপাদিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশে গড়ে ইউরিয়ার চাহিদা রয়েছে ২৮ লাখ মেট্রিক টন।

কালীগঞ্জের পোল্ট্রি শিল্পে চলছে ক্রান্তিকাল

২৪.০৯.০৮
ডেসটিনি ।। কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি

লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় দেশের বৃহত্তম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী পোল্ট্র্রি শিল্পে বর্তমান ভয়াবহ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। ২০০৪ সালের পূর্ব এশিয়ায় বার্ড ফ্লু রোগের প্রাদুর্ভাবের পর বর্তমান সময় পর্যন্ত পোল্ট্রি শিল্পে জড়িত বেকারদের ব্যবসায়ে আর্থিক সংকট, প্রশিক্ষণের অভাব, ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তিতে জটিলতা সবমিলিয়ে পোল্ট্রি খামারগুলো বিভিন্ন সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছে না।
জানা গেছে এর আগে উপজেলার যেসব খামারি নিজস্ব স্বল্প পুঁজি ও আড়তদারের বাকির ওপর ব্যবসা শুরু করেছিলেন তাদের অনেকেই প্রথমত লোকসান হওয়ার পর তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারেননি। সরকারি উদ্যোগে আর্থিক সুবিধা প্রদান না করায় প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বড় আকারের ব্রয়লার, লেয়ার খামার গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে উপজেলায় পোল্ট্রি জাত মাংস ও ডিমের চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না।
সরজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ খামারি ভাড়া ঘরে অথবা নিজের বসত ঘরের পাশে ক্ষুদ্র আকারে শেড স্থাপন করে মুরগি পালন করলেও সম্প্রতি মুরগির বাচ্চা, খাদ্য, ওষুধের মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে খামারিরা বর্তমান প্রতিযোগিতার বাজারে ব্যবসায় টিকতে না পেরে অনেকেই পোল্ট্রি ব্যবসা ত্যাগ করেছেন। দেশের আর্থ-সামাজিক বিবেচনায় উপজেলার চাকুরির সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষিত বেকার যুবক শ্রেণী অভিভাবকের সহযোগিতায় আবার খামার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হতে চাইলেও সম্প্রতিক এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদুর্ভাবে সরকারি উদ্যোগে আক্রান্ত মুরগি নিধন খামার ব্যবসায়ীদের যথেষ্ট নিরুৎসাহিত করছে।
উপজেলার ক্ষুদ্র খামার ব্যবসায়ীদের মতে, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ সুবিধার নিশ্চয়তা সরকারি উদ্যোগ যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদান, শিল্প রফতানিমুখী পোল্ট্রি নীতিমালা প্রণয়ন, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানে উপজেলার শত শত বেকার যুবক আবার পোল্ট্র্রি শিল্পে নিয়োজিত করে বেকারত্ব দূরীকরণে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।

বকশীগঞ্জে ৫ টন ভেজাল সার আটক

২৪.০৯.০৮
ডেসটিনি ।।

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
বকশীগঞ্জে পুলিশ ৫ টন ভেজাল টিএসপি সার আটক করলেও রহস্যজনক কারণে আটকের ৩ দিন পরও কোনো মামলা হয়নি।
জানা গেছে, বকশীগঞ্জ থানাপুলিশ গত বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নিশাক্ষিয়া ইউনিয়নের মাঞ্জালিয়া গ্রামের মনির হোসেনের বাড়ি থেকে ৫ টন ভেজাল টিএসপি সার আটক করে। আটকের ৩ দিন পরও কেন মামলা হয়নি এ ব্যাপারে আটককারী এসআই হযরত আলী জানান, কৃষি অফিসকে বিষয়টি অবিহত করেছি; কিন্তু কৃষি অফিস থেকে কোনো প্রকার মতামত না দেয়ায় কোনো মামলা হয়নি। তবে থানায় একটি জিডি হয়েছে।

কলার চারা রোপণের সেরা সময় আশ্বিন মাস

২৪.০৯.০৮
ডেসটিনি ।। কৃষিবিদ খোন্দকার মো. মেসবাহুল ইসলাম


কলা বাংলাদেশের জনপ্রিয় এবং সারা বছর পাওয়া যায় এমন একটি ফল যা পুষ্টিকর এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় সব ধরনের পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ এই ফলটি বাংলাদেশের মোট ফল উৎপাদনের প্রায় ৪২ ভাগ ও জমির ব্যবহারের দিক দিয়ে মোট ফলের জমির প্রায় ২১ ভাগ। এবং সুস্বাদু ও মিষ্ট গন্ধযুক্ত কলার গড় ফলন হেক্টর প্রতি প্রায় ১৬ টন। বাংলাদেশের বরিশাল, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর, নরসিংদী, ঢাকা, ফরিদপুর, বগুড়া, পাবনা, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, যশোর, ঝিনাইদহ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ব্যাপক হারে কলার চাষ হয়। তবে অন্যান্য অঞ্চলেও কিছু না কিছু কলার চাষ হয়ে থাকে। পৃথিবীর ১২০টি দেশে কলা উৎপাদন হলেও ভারতেই সবচেয়ে বেশি কলা (প্রায় ১৪ হাজার টন) উৎপাদন হয়। অন্যান্য অন্যতম কলা উৎপাদনকারী দেশ হচ্ছে চীন, ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, কোস্টারিকা, পানামা, ফিজি, পেরু, হাওয়াই, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া।
বর্ষায় পানি জমে না এবং ভালো পানি নিকাশযুক্ত উর্বর দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ জমি কলা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। অন্য ধরনের মাটিতে কলার শিকড় ভালোভাবে বাড়তে পারে না অথবা কলা গাছের জন্য খাদ্য উপাদান প্রাপ্তি সহজলভ্য হয় না। এ ক্ষেত্রে মাটির পিএইচ বা অম্ল ৬.০ থেকে ৭.৫ থাকলে সবচেয়ে ভালো হয়। বাংলাদেশে প্রায় সারা বছরই কলার চারা রোপণ করা গেলেও অতিরিক্ত বর্ষা বা অতিরিক্ত শীতের সময় কলার চারা রোপণ না করাই ভালো। কারণ এ সময়ে রোপণ করা কলার চারা বেশি রসের বা বেশি শীতের জন্য ঠিকভাবে বাড়তে পারে না। শিকড়ের বিস্তার ভালোভাবে না হওয়ার কারণে অনেক চারা মারাও যেতে পারে। সে জন্য বর্ষার শেষে এবং শীতের আগে আশ্বিন মাসই কলার চারা রোপণের উপযুক্ত সময় বলে কৃষি বিজ্ঞানীরা মত প্রকাশ করেছেন। আশ্বিন মাসে মাটিতে যথেষ্ট রস থাকে, ফলে সেচের প্রয়োজন প্রায় হয়ই না। চারা খুব সহজেই মাটিতে খাপ খাইয়ে নেয় এবং শীতের আগেই চারার কিছুটা বাড়-বাড়তি হয়ে যায়। চারা রোপণের মাস দেড়-দুইয়ের মধ্যেই শীত শুরু হওয়ায় ওই সময়ে গাছের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু শীতের শেষে গরম পড়া শুরু হলে উপরি সার ব্যবহার করে সেচ প্রদান করলেই রোপণ করা কলা গাছের বৃদ্ধি আবার দ্রুত হয়। এই সময়ে রোপণ করা চারা থেকে ১১ থেকে ১৩ মাসের মধ্যেই কলা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। কলার চারা রোপণের জন্য অসি তেউর সবচেয়ে উত্তম। এ চারা মাটিতে লেগে যেতে খুবই কম সময় নেয়। এর কারণ এ চারার গোড়ায় ভবিষ্যতের জন্য খাদ্য মজুদ থাকে। ফলে মাতৃগাছ থেকে আলাদা করার পরও এ চারার খাদ্যের অভাব হয় না এবং রোপণের পর প্রয়োগকৃত সার থেকে খাদ্য গ্রহণের আগে নিজের মজুদ করা খাদ্য থেকেই কাজ চালিয়ে যায়। অন্যদিকে পানি তেউড়ের চারা মাটিতে প্রতিষ্ঠিত হতে বেশ সময় লাগে এবং কখনো কখনো বেশ কিছু চারা মারাও যায়। তবে এই ২ প্রকারের চারাই মাটিতে লেগে গেলে ৩-৪ মাস পরে আর এদের আলাদাই করা যায় না। যে ধরনের চারাই রোপণ করা হোক না কেন চারার বয়স প্রায় ৩ মাস এবং চারা সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত বাগান থেকে সেগুলো সংগ্রহ করতে হয়। রোপণের আগে চারার মোথার পুরনো শিকড় ও গোড়ার শুকনো পাতা ফেলতে হয়।
চারা রোপণের আগে ৪-৫ বার আড়াআড়িভাবে জমি চাষ ও মই দিয়ে সমান করে নিতে হয়। এর পর কলা গাছের জাত (দৈহিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য) অনুযায়ী সাগর কলার ক্ষেত্রে ২ মিটার এবং সবরি কলার ক্ষেত্রে ২.৫ মিটার দূরত্বে ৬০ সেমি (২ ফুট) ব্যাসার্ধের গর্ত খনন করতে হয়। এই হিসাবে একর প্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২৫০টি কলার চারা রোপণ করা যায়। গর্তটি খনন করার পর গর্তের মাটির সঙ্গে জৈব সার মিশিয়ে কমপক্ষে ৫-৭ দিন রেখে দিতে হয়। চারা রোপণের আগে গর্ত ভরাট করার পর গর্তের মাঝখানে চারার গোড়া অনুযায়ী মাটি সরিয়ে চারাটি সোজাভাবে স্থাপন করে চারদিকে কিছু আলগা মাটি দিয়ে চেপে দিতে হয়। রোপণ কাজ শেষ হলে গোড়ার মাটি পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিতে হয়। কলা গাছ দ্রুত বর্ধনশীল হলেও আশ্বিন মাসে রোপণ করা চারা শীতের কারণে দ্রুত বাড়তে পারে না। তাই শীতের শেষে সার উপরি প্রয়োগ করতে হয়। আশ্বিন মাসে চারা রোপণের আগে গর্তে সার দিতে হয়। গর্তে এবং উপরি হিসেবে নিম্নরূপ পরিমাণে সার প্রয়োগ করতে হয়।
সারের নাম প্রতি গাছে প্রয়োগের পরিমাণ (গ্রাম)
জৈব সার ১০,০০০
ইউরিয়া ৩০০
টিএসপি ১৫০
এমওপি ২৫০
জিপসাম ২০০
জিংক অক্সাইড ১.৫
বোরন সার ২.০
কলার চারা রোপণের পর গর্তে উল্লিখিত পরিমাণের সম্পূর্ণ জৈব সার, টিএসপি, বোরিক সার ও জিংক অক্সাইড এবং অর্ধেক এমওপি এবং অর্ধেক জিপসাম সার দিতে হয়। রোপণের ৩ মাস পর এক-তৃতীয়াংশ ইউরিয়া এবং ৫-৬ মাস পর বাকি দুই-তৃতীয়াংশ ইউরিয়া, বাকি অর্ধেক এমওপি ও জিপসাম সার গাছের চারপাশে ছিটিয়ে দিয়ে হালকা করে কুপিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হয়। মাটি কোপানোর সময় এমনভাবে কোপাতে হবে যেন শিকড় কেটে না যায়। জমির রস বুঝে সার দেয়ার পর সেচ দিতে হয়। তবে ফল বের হওয়ার পর সার প্রয়োগ করা উচিত নয়। কলার চারা রোপণের পর মাটির আর্দ্রতা বা রসের অবস্থা বুঝে সেচের ব্যবস্থা করতে হয়। আবার বর্ষায় অতিরিক্ত পানি যাতে সহজেই বের হয়ে যায় সে জন্য নিকাশের ব্যবস্থাও করতে হয়। অধিক ফলন ও ভালোমানের কলা পেতে হলে রোপণের ৪-৫ মাস পর থেকে কলা গাছের গোড়া থেকে বের হওয়া চারাগুলো কেটে ফেলতে হয়। একটি কলা গাছে ২০টি পর্যন্ত চারা বের হতে পারে। ফুল বের হওয়ার পর মুড়ি ফসলের জন্য ১টি এবং বিক্রির জন্য ১টি চারা রেখে বাকিগুলো কেটে ফেলা উচিত। কলা বাগানে কোনো আগাছা জন্মাতে দেয়া ঠিক না। এতে কলার ফলন ৫০-৭০ ভাগ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। গাছের অপ্রয়োজনীয় পাতা বা নিচের দিকের হলুদ হয়ে যাওয়া বা শুকনো পাতা কেটে ফেলতে হয়। বর্ষায় গোড়ার মাটি সরে গেলে শিকড় বেরিয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে সারির দুপাশ থেকে অগভীর নালা করে নালার মাটি দিয়ে শিকড় ঢেকে দিতে হয়। কখনোই গোড়া ঢেকে মাটি দেয়া উচিত নয়। মোচা থেকে কলা বের হওয়ার পর শেষোক্ত ফানার ৫-৭ সেমি নিচে থেকে মোচা কেটে দিতে হয়। ঝড়ো বাতাসের থেকে কলার গাছকে রক্ষা করতে অনেক সময় বাঁশের খুঁটি দিয়ে গাছকে ঠেকা দিতে হয়, এতে কলার কাঁদির ভারে গাছ ভেঙে পড়ে না। বিটল পোকা থেকে কলাকে রক্ষা করতে স্বচ্ছ বা নীল পলিথিন ব্যাগ দিয়ে কলার কাঁদি ঢেকে দেয়া যেতে পারে। এতে কলার কাঁদি ধুলাবালি থেকেও রক্ষা পেতে পারে। জাত ভেদে ও পরিচর্যার উপর ভিত্তি করে কলার ফলন বিভিন্ন হতে পারে। যেমন একর প্রতি গড়ে অমৃত সাগর ১০ টন, সবরি, চাঁপা ও কাঁচা কলা ৬ টন, বারি কলা-১ ১৪ টন এবং বারি কলা-২ ৮ টন হয়।
-

মরিচের সঙ্গে ভুট্টার আবাদ

২৪.০৯.০৮
ডেসটিনি ।। কৃষিবিদ বকুল হাসান খান

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশে ভুট্টার উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে মরিচের সঙ্গে আন্তঃফসল হিসেবে ভুট্টা চাষের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এই প্রযুক্তিতে দেশের বহুল প্রচলিত এবং গুরুত্বপূর্ণ ফসল হিসেবে মরিচকে প্রাধান্য দিয়ে এর সঙ্গে কিছু পরিমাণে ভুট্টা আবাদ করা হয়। এমনভাবে চাষাবাদ করা হয় যাতে মরিচ উৎপাদনে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে এবং চাষি তার মরিচ প্রধান শস্য হিসেবে পেয়ে থাকে। সুবিধা হচ্ছে বাড়তি ভুট্টার উৎপাদনের জন্য কৃষককে জমিতে অতিরিক্ত কোনো সার দিতে হয় না।
স্থান নির্বাচন ও চাষের মৌসুম : মরিচ ও ভুট্টা উভয়ের জন্য উঁচু, উন্মুক্ত ও আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে এমন জমি নির্বাচন করতে হবে। মাটি সাধারণ দোআঁশ, এঁটেল-দোআঁশ, পলি-দোআঁশ কিংবা বেলে-দোআঁশ হলে সবচেয়ে ভালো হয়। লক্ষ রাখতে হবে জমিতে যাতে পানি না জমে। সাধারণত কার্তিক থেকে মধ্য পৌষ পর্যন্ত সময়কালে মরিচের চারা রোপণ ও ভুট্টা বীজ বোনার উত্তম সময়। অবশ্য এরপরও এই ফসলের চাষ করা যেতে পারে। বাংলাদেশে মোট উৎপাদিত মরিচের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগই হয় রবি মৌসুমে। বাকি অন্য সময়েও হয়ে থাকে।
জাত ও মরিচের চারা : মরিচের যে কোনো স্থানীয় বাণিজ্যিক জাত হলেও চলে। তবে শুকনো মরিচ হিসেবে বিক্রি করা যায় এমন জাতের মরিচের জাত নির্বাচন করা প্রয়োজন।
ভুট্টার জাত যেমন: খই ভুট্টা, মোহর বর্ণালি, শুভ্রা, সাভার-১, বারি-৫, ৬, বারি হাইব্রিড-১ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
মরিচের বীজ সরাসরি মাঠে বোনা যায়, আবার বীজতলায় চারা তৈরি করে তা মাঠে রোপণ করা যায়। চারা রোপণ করাই উত্তম। তাতে মাঠে চারা রোপণের আগ পর্যন্ত সময়টা পূর্ববর্তী ফসল উৎপাদনের জন্য পাওয়া যায়। ভুট্টার বীজ সরাসরি বপন করতে হবে।
মরিচ ও ভুট্টার রোপণ : মরিচের চারা রোপণের জন্য সারি থেকে সারির দূরত্ব ৫০ সেন্টিমিটার (প্রায় ২০ ইঞ্চি) বা এবং সারিতে এক চারা থেকে আরেক চারার দূরত্ব হবে ৩০ সেন্টিমিটার (১২ ইঞ্চি বা ১ ফুট)।
ভুট্টা রোপণের দূরত্ব : শতকরা ১০ ভাগ। ভুট্টার একক আবাদের গাছের সংখ্যার ১০ ভাগ ধরলে, প্রতি দুই সারি মরিচের পর পরবর্তী দুই সারির মাঝখান দিয়ে এক সারি ভুট্টার গাছ ১.৮ মিটার দূরে দূরে বপন করতে হবে।
সারের পরিমাণ : মরিচ ও ভুট্টার জন্য সারের পরিমাণ প্রায় একক।
পরিচর্যা : চারা রোপণ ও বীজ বপনের পরের কাজগুলো হচ্ছেÑ
১. পানি সেচ : মাটিতে যদি রস থাকে তাহলে রোপণের প্রায় এক মাস পর ভালোভাবে পানি সেচ দিতে হবে। এরপর ১৫ দিন অন্তর অন্তর দুই বা তিনবার সেচের প্রয়োজন হতে পারে।
২. আগাছা দমন ও মালচিং : চারা রোপণ ও বীজ বপনের পরবর্তী দেড় মাস আগাছা দমন একান্ত দরকার। এ জন্য প্রয়োজনে এক থেকে তিনবার পর্যন্ত নিড়ানি কিংবা কোপানোর দরকার। তাতে অবশ্য মালচিংয়েরও কাজ হয়ে যায়।
পোকামাকড় রোগবালাই : মরিচের রোগের মধ্যে ডাই ব্যাক উল্লেখযোগ্য। এই রোগের শুরুতে শাখার আগা মরে যায়। পরে সেটা নিচের দিকে নামতে থাকে। শেষে গাছ মরে যায়। ফাঙ্গাস বা ছত্রাকজনিত এই রোগে বোর্দোমিকচার বা অন্য কোনো ছত্রাক দমনকারী ওষুধ ছিটাতে হবে। এ ছাড়া নরম পচা রোগও গাছের ক্ষতি করে। এ জন্যও উপরোক্ত ওষুধ ছিটাতে হবে। মরিচের বিভিন্ন ক্ষতিকারক পোকার মধ্যে কাটওয়ার্ম বা কাটুই পোকা অন্যতম, এটি চারা অবস্থায় গাছ কেটে ফেলে। এর প্রতি কৃষককে কড়া নজর দিতে হবে।
ভুট্টা : ভুট্টার রোগ বালাইয়ের মধ্যে বীজ পচা, চারা ঝলসানো, গোড়া ও শিকড় পচা রোগ বিশেষ উল্লেখযোগ্য। সুস্থ্য-সবল বীজ ব্যবহার করতে হবে। চারা ঝলসানো রোগের জন্য টিল্ট ২৫০ ইসি স্প্রে করতে হবে। আর ভুট্টার কীটশত্রুর মধ্যে মাজরা পোকা উল্লেখযোগ্য। এই পোকা গাছের কচি পাতার ভেতরে প্রবেশ করে খেতে থাকে। অনুমোদিত কীটনাশক ওষুধ ছিটিয়ে এই পোকা দমন করা যেতে পারে।
ফসল সংগ্রহ : মরিচ কাঁচা-পাকা দ্’ুভাবেই গাছ থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে। কাঁচা মরিচ তুলতে হবে পরিমান মতো বাত্তি হয়েছে এমন অবস্থায়। পাকা মরিচের বেলায় তোলা হয় লালচে হয়েছে এমন মরিচ। সাধারণত মাঠ থেকে হেক্টরপ্রতি মোট ৪ থেকে ৬ টন পাকা মরিচ সংগ্রহ করা যায়। পরে এই মরিচ রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়।
ভুট্টা সংগ্রহ : ভুট্টা কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থায় সংগ্রহ করা যায়। সাধারণত কাঁচা অবস্থায় তোলা হয় সিদ্ধ করে বা পুড়িয়ে খাওয়ার জন্য। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভুট্টা পাকার পরই ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করা ভালো। মাড়াই যন্ত্রের সাহায্যে মাড়াই করে ভালোভাবে শুকিয়ে টিনের পাত্রে, মাটির পাত্রে বা পলিথিনসহ পাটের ব্যাগে সংরক্ষণ করতে হবে।

কৃষির ওপর নির্ভর করে মঙ্গা মোকাবিলার চেষ্টা

২৪.০৯.০৮
ডেসটিনি ।। আফরোজা নাজনীন
প্রতি বছর উত্তরবঙ্গে ‘কমন’ দুর্যোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে মঙ্গা। অনাকাক্সিক্ষত এ মঙ্গার চরম খাদ্য সংকট এখানকার বাসিন্দাদের ওপর বয়ে আনে স্থায়ী দুর্ভোগ। যার ফল ভোগ করতে হয় সারাবছর।
বৃহত্তর রংপুরে বাংলা মাসের আশ্বিন কার্তিকে মঙ্গা দেখা দেয়। ইংরেজি মাসের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত। সরেজমিনে দেখা গেছে, আমন চাষের পর মঙ্গাকবলিত এলাকায় কাজের অভাব দেখা দেয়। এর প্রভাব পড়ে সাধারণ হতদরিদ্র মানুষের ওপর। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) এক জরিপে বলা হয়, মঙ্গাপীড়িত অঞ্চলে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ কৃষিক্ষেত্রে শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু এ সময় তাদের শ্রম বিক্রির কোনো সুযোগ থাকে না। তখন কাজ থাকে না, থাকে না তাদের হাতে টাকা। মঙ্গার কারণে দারিদ্র্যের স্ফীতি ঘটে। খাদ্য ঘাটতি হয়, মানুষ অনাহারে থাকে, স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। নারী ও শিশুর মৌলিক চাহিদা ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও সামাজিক নিরাপত্তা বিঘিœত হয়। মঙ্গা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর নারী ও শিশু স্বাস্থ্যের। শিশুরা দীর্ঘমেয়াদি পুষ্টিহীনতার শিকার হয়। রংপুর সিভিল সার্জন দফতর সূত্রে শুধু মিঠাপুকুর উপজেলায় অপুষ্টির বর্তমান পরিস্থিতির কিছু পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। সূত্র মতে, এখানে দু’বছরের নিচের বয়সের শিশু হালকা অপুষ্টিতে ভুগছে ৩ হাজার ৪৭৭ ছেলে, ৩ হাজার ৪৮৫ মেয়ে। মাঝারি অপুষ্টিতে ভুগছে ২ হাজার ৩০০ ছেলে এবং ১ হাজার ৯৭৭ মেয়ে। চরম অপুষ্টিতে ভুগছে ৯৮২ ছেলে ও ৯৫৬ মেয়ে। অপুষ্টিতে ভোগা গর্ভবতী নারীর সংখ্যা ৩ হাজার ৩৫০ জন। সূত্র আরও জানায়, বৃহত্তর রংপুরে রাতকানা রোগে ভুগছে শতকরা ০.২৫ ভাগ।
রংপুর ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ২০০৬ সালে মঙ্গা এলাকায় মারাত্মক অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর হার ছিল শতকরা ৭০.৯২ জন। জন্মকালীন কম ওজন শিশুর শতকরা হার ৭০.৫৭। শতকরা ৩৯ ভাগ গর্ভবতী নারী রক্তস্বল্পতায় ভুগছে।
এদিকে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চেলের গ্রামগুলোতে অপুষ্টিতে আক্রান্ত ৩০ লাখ নারী, পুরুষ ও শিশু দৃষ্টিস্বল্পতায় ভুগছে। প্রতি বছর ৪০ হাজার বিকলাঙ্গ, হাবাগোবা শিশু জন্মগ্রহণ করছে। এসব অঞ্চলের মানুষ বেশিরভাগই ভূমিহীন, চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। কামলা খেটে জীবন চালায়। কাজ না পেলে অনাহারে থাকে। অপুষ্টি থেকে রক্ষায় ও মঙ্গা মোকাবিলায় এখানে প্রতি বছরই নতুন নতুন উৎস উদ্ভাাবিত হচ্ছে। প্রধানত কৃষির ওপর নির্ভর করেই এখানকার না খাওয়া মানুষগুলো মঙ্গা মোকাবিলার চেষ্টা করছে। সূর্যের হাসির মতো অতটা উজ্জ্বল না হলেও চাঁদের একফালি আলোর মতো সাফল্য গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বালুচরে দেখা দিয়েছে। বালু মাটিতে এখন লাখ টাকার ফসল ফলছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, তিস্তা ও ঘাঘট নদীর মোহনার চরে এখন ফসলের বাগান। এখানকার মাটি বালুজাতীয়। ফসল ফলানো কষ্টকর। এ মাটিতে কষ্ট করেই ফলানো হচ্ছে মিষ্টি কুমড়া। প্র্যাকটিকেল অ্যাকশন বাংলাদেশ ও একতা নামের দুটি এনজিও ৯০ সালে থেকে এখানে মিষ্টি কুমড়া চাষে চরবাসীকে সহায়তা করছে। গাইবান্ধার চারটি উপজেলার নয়টি চরে মিষ্টি কুমড়া চাষ হচ্ছে। এখানকার মোট ১৭৭টি গৃহহীন পরিবার মিষ্টি কুমড়া চাষ করে বেঁচে আছে। গত দুবছরে ওরা ৬৭ হাজার মিষ্টি কুমড়া পেয়েছে। যার বাজার মূল্য ২০ লাখ টাকা। গত বছর ৪৬০টি গৃহহীন পরিবারকে ৫ লাখ মেট্রিক টন কুমড়া দেয়া হবে। যার দাম তিন কোটি টাকা। চরে মিষ্টি কুমড়া চাষে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক দেয়ার দরকার হয় না বলে এটি পুরোপুরি অর্গানিক সবজি। এদিকে এখানকার স্বাস্থ্য কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ভিটামিন খাওয়ানোর হার শতকরা ৯৫ ভাগ। ৮৮ সালের বন্যার পর তিস্তা অববাহিকায় জেগে ওঠে নতুন চর। নদীভাঙা মানুষ এসে এখানে গড়ে তোলে বসতি। জীবন বাঁচাতে শুরু করে বাদামের চাষ। সেই থেকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া এলাকার বালুর চর বাদামের চর নামে পরিচিত। লোকসংখ্যা দুহাজারের একটু বেশি। এ চরে নারী-পুরুষ চাষ করেন বাদাম, মুসুর, কালাই, চীনা জোয়ার, খেসারি, কালাই, ভুট্টা, গম, পটল, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, মরিচ, কুশিয়ার ও বেগুন। বাদামের চরে শুধু আমন মৌসুমে ধান ফলে। নদীর কাছের জমিনে বোরো ধান হয়। আগের দিনে এই তিস্তা পাড়ের প্রধান ফসল ছিল আউশ ধান। এখন আউশ ধান হয় না। ৫-৬ বছর হলো আমনের জাতগুলো কমে গিয়ে এ চরভূমিতে উফশি ধানের চাষই হচ্ছে বেশি। ব্রি-ধান ২৮ এখানে বেশি আবাদ হয়। বিভিন্ন ফসল ও সবজির আবাদে এখানকার হতদরিদ্ররাও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে। আখতারজান (২৯) বলেন, ‘মঙ্গা আইলে শহরের মানুষ কতা কয় বেশি। সাহায্য পাই কম। খাওন নাই। কিন্তু এহন এইহানে কাম পাইছি। এহন থিকা আর খাওনের কষ্ট হইবো না।’ এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায়, কুড়িগ্রামের অধিকাংশ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অসম জমি বণ্টন, কৃষি কাজের নিম্নমুখিতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এখানকার বাসিন্দারা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার চরাঞ্চলের কৃষকরা মঙ্গাকে জয় করতে বালুচরে ভুট্টাচাষ শুরু করেছে। জানা যায়, হাতীবান্ধায় গত বছর ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে ভুট্টার আবাদ করা হয়। চরে সিন্দুনার চাষি ইসমাইল আলী জানান, ধানচাষে যে খরচ হয় ভুট্টায় তার চেয়ে কম। ফলনও দ্বিগুণ। এদিকে সরেজমিনে রংপুর ঘুরে দেখা গেছে, শুধু লালমনিরহাট নয়, বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে ভুট্টা চাষে নীরব বিপ্লব ঘটে যাওয়ায় পাল্টে গেছে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা। সব ধরনের পতিত জমিতে চলছে ভুট্টা চাষ। জানা গেছে, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা জেলায় মোট ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হচ্ছে। চাষিরা জানিয়েছেন, উৎপাদন ব্যয় বাদ দিয়ে লাভ থাকে দ্বিগুণেরও বেশি। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কাঞ্চিপাড়া ইউনিয়নে বেসরকারি সংস্থা একতা চালু করছে মহিলা সমবায় সমিতি। একতার সমন্বয়কারী আসিফ ইকবাল জানান, স্থায়ীভাবে মঙ্গা মোকাবিলায় ১৬০ জনের একটি দল গঠন করা হয়েছে। দলের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫শ টাকা নিয়ে জমি বন্ধক ও ক্রয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জমিতে চাষ করেই মঙ্গা মোকাবিলার প্রচেষ্টা নেয়া হয়।

About Me

My photo
প্রতিদিন বিভিন্ন সংবাদপত্র কৃষি বিষয়ে নানান সংবাদ প্রকাশ করে থাকে। এ সকল তথ্য কাজের জন্য খুবই সহায়ক। কিন্তু একজনের পক্ষে প্রতিদিন সবগুলো সংবাদপত্র পড়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। অথচ এ সকল বিষয়গুলো আমাদের সবার জন্য কম-বেশি দরকারি। এ চিন্তা থেকে আমরা বিভিন্ন সংবাদপত্র নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও কৃষি বিষয়ক সংবাদসমূহ তথ্যায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছ্।ি আশা করছি সংবাদ তথ্যায়নের এ প্রকিৃয়াটি আমাদের কাজের জন্য সহায়ক হবে। পার্টিসিপেটরি রিসার্চ এন্ড অ্যাকশান নেটওয়ার্ক- প্রান এ কাজটি সঞ্চালনের কাজ করছে।