ইত্তেফাক ।। মোঃ সিরাজ সিকদার
কৃষির উন্নতি হয়েছে। কৃষকের আজ অবধি কোন উন্নতি হয়নি। আদিকাল থেকে কৃষক যেখানে ছিল সেখানেই আছে। কৃষক পরিবার রোগে চিকিৎসা পাচ্ছে না। ঠিকমত কাপড় পাচ্ছে না। ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পারছে না। কৃষকের মাথার উপর চালা নেই। চব্বিশ ঘন্টা তারা রোদে পোড়ে, বৃষ্টিতে ভেজে। ভাবতে অবাক লাগে, যে কৃষক এত কষ্ট করে ফসল উৎপাদন করে সে কৃষকই ক্ষুধায় অন্ন পায় না, উপোস থাকে ছেলেমেয়ে নিয়ে। কিন্তু কেন?
আমরা প্রথম থেকে দেখে আসছিÑ কৃষক নানাভাবে শোষিত হচ্ছে নানা দিক দিয়ে। কখনও সার পাচ্ছে না, কখনও বীজ পাচ্ছে না, কখনও বালাইনাশক পাচ্ছে না। ঠিক সময় পানি পাচ্ছে না।
আমাদের দেশের অধিকাংশ কৃষক ভূমিহীন। তারা অপরের জমি চাষ করে। ভূ-মালিকরা নানাভাবে তাদের শোষন করে। ফলে তারা তাদের অধিকার থেকেও বঞ্চিত।
ইদানিং আরও একটা বিষয় কৃষককে ভাবিয়ে তুলেছে। সেটি হলÑ কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য। কৃষক যে খরচে ফসল উৎপাদন করছে তার চেয়ে কম দামে তাকে বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ধান। একমণ ধান উৎপাদন খরচ যদি ৫০০ টাকা হয় তাহলে তা ৪০০ টাকা বিক্রি করলে কৃষক অন্য দিকে ঝুঁকবে। কদিন আগে দেখতে পেলামÑ কুষ্টিয়ায় ধানী জমিতে ব্যাপকভাবে হচ্ছে তামাকের চাষ। হৃদয়ে মাটি ও মানুষের মাধ্যমে দেখেছিলামÑ মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা আলুচাষ বাদ দিয়ে তামাক চাষের দিকে এগোচ্ছে। অমারা খবরের কাগজে দেখতে পাচ্ছিÑ এদেশেরই কৃষক অধিক মূল্য পেতে পপি চাষ করছে।
এসব কিসের আলামত?
আমাদের দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। আমরা সাধারণত বাইরে থেকে ঘাটতি থাকা খাদ্য আমদানি করি। কিন্তু ফসলের দাম এভাবে কমতে থাকলে কৃষক তার ধানী জমিতে বাধ্য হয়ে অন্য ফসল চাষ করবে। এর ফলে খাদ্য সংকট আরও দেখা দেবে। শুধু নির্দিষ্ট কোন জেলা নয়। সব জেলাতেই একই অবস্থা। বাংলাদেশের সব কৃষকই নানাভাবে একই অভিযোগ করে আসছে। আমি একজন সচেতন কৃষক হিসেবে বলছিÑ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সারের দাম, শ্রমিকের মজুরী, বীজ, সেচ সবকিছু দিয়ে কৃষকের যে টাকা খরচ হয় তাও উঠে আসে না বর্তমান ধার্যকৃত মূল্যে। একই জমিতে কৃষক ধান আবাদ করে ৫০০ টাকা পেলে তামাক আবাদ করে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পাবে। তাহলে কৃষক কি করবে? অবশ্যই তামাক চাষ বা অন্যকিছু চাষের দিকে ঝুঁকবে।
এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে আমাদের দেশে খাদ্য উৎপাদন আরও কমে যাবে। তামাক বা এই জাতীয় ফসল উৎপাদনের ফলে জমির উর্বরা শক্তি কমে যাবে। এক সময় দেখা যাবে উৎপাদনমুখী ওই জমি একদিন পতিত জমিতে পরিণত হবে।
আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে দিন দিন কৃষির উন্নতি হয়েছে। সাধারণ ধান থেকে হাইব্রিড ধান এসেছে। উৎপাদন বেড়েছে। তবে বীজগুলোর সত্ত্ব এখনও কৃষকের হাতে দেয়া হয়নি। কৃষকের হাতে হাইব্রিড ধানের সত্ত্ব ছেড়ে দিলে আমাদের দেশে আরও বেশি ফসল উৎপাদন হবে বলে আশা করছি। কৃষি উপরকরণসহ কৃষকের নানাবিধ সমস্যায় সরকার এগিয়ে আসলে অদূর ভবিষ্যতে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে এ আশা অলিক কল্পনা নয়।
-মোঃ সিরাজ সিকদার
কৃষক ও কৃষক সংগঠক, বাগেরহাট
Thursday, March 5, 2009
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
About Me

- Participatory Research & Action Network- PRAN
- প্রতিদিন বিভিন্ন সংবাদপত্র কৃষি বিষয়ে নানান সংবাদ প্রকাশ করে থাকে। এ সকল তথ্য কাজের জন্য খুবই সহায়ক। কিন্তু একজনের পক্ষে প্রতিদিন সবগুলো সংবাদপত্র পড়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। অথচ এ সকল বিষয়গুলো আমাদের সবার জন্য কম-বেশি দরকারি। এ চিন্তা থেকে আমরা বিভিন্ন সংবাদপত্র নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও কৃষি বিষয়ক সংবাদসমূহ তথ্যায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছ্।ি আশা করছি সংবাদ তথ্যায়নের এ প্রকিৃয়াটি আমাদের কাজের জন্য সহায়ক হবে। পার্টিসিপেটরি রিসার্চ এন্ড অ্যাকশান নেটওয়ার্ক- প্রান এ কাজটি সঞ্চালনের কাজ করছে।
Krishi Khobor
-
▼
2009
(122)
-
▼
March
(9)
- জলবায়ু পরির্বতনের কুফল রোধে কৃষি ও বনায়ন!
- কমছে আবাদি জমি বাড়ছে খাদ্য সংকট
- কম দাম পেলে উৎপাদন ব্যাহত হবে
- ঠাকুরগাঁওয়ে চিকন ও সুগন্ধি ধানের আবাদ বাড়ছে
- বিভিন্ন স্থানে বোরো চাষ ব্যাহত হওয়ার আশংকা লোডশেডিং
- বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং ইরি-বোরো আবাদ হুমকির মুখে
- কৃষকের দিন বদলই হলো আসল চ্যালেঞ্জ
- লোডশেডিংয়ে দিশেহারা সাটুরিয়ার কৃষক
- গলাচিপায় কম দামে ধান বিক্রি করছে কৃষক
-
▼
March
(9)
No comments:
Post a Comment