Wednesday, September 3, 2008

রৌমারীতে ২০ বছর ধরে জলাবদ্ধতা ৪ হাজার একরে আমন আবাদ বন্ধ

০২.০৯.০৮
।। ডেসটিনি ।। রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
‘জমি আছে কিন্তু আবাদ হয় না। মেম্বারের কাছে গেলে রিলিফ দেয় না। জমি আছে বলি মানুষ কামলাও নেয় না। পেটও চলে না। হয় আমাগোরে কিছু খাবার ব্যবস্থা করি দ্যাও, না হয় তোমরা আমাগোরে জমিগুলো ভালা করি দ্যাও’Ñ অনেক কষ্টে কথাগুলো বললেন রৌমারী গ্রামের আবদুস সাত্তার।
জলাবদ্ধতার কারণে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ৩টি স্থানে প্রায় ৪ হাজার একর জমিতে আমন আবাদ হচ্ছে না। সঠিক পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্তহীনতার অভাবে এসব এলাকায় বছরের ৯ মাস ধরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে থাকে। এলাকাগুলো হচ্ছে রৌমারী সদরের জহনী কুড়া, সুতির পাড় ও পূর্ব ইছাকুড়ির নিম্নাঞ্চল। এই ৪ হাজার একর জমিতে শুষ্ক মৌসুমে সেচের মাধ্যমে ইরি আবাদ হলেও বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা থাকায় আমন চাষ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রতি বছর একটি মোটা অঙ্কের খাদ্য সংকটে পড়ে এখানকার মানুষ। পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্রিজ, কালভার্ট কিংবা অল্প খরচে ক্যানেলের ব্যবস্থা করলে এসব জমিতে আমন আবাদ হতো এবং খাদ্য সংকটের হাত থেকে বেঁচে যেত প্রায় দেড় হাজার পরিবার।
গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেছে, এর আগে ওই জায়গাগুলোতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় ব্রিজ ও কালভার্টগুলো ভেঙে গেলে অপরিকল্পিতভাবে মাটি দিয়ে তা ভরাট করে দেয়া হয়। রৌমারী গ্রামের কৃষক আবদুল্লাহ বলেন, ২০ বছর ধরে এসব অঞ্চলে আর আমন আবাদ হচ্ছে না। যখন পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল তখন খুব ভালো আমন আবাদ হতো। ম-লপাড়া গ্রামের খয়রুজ্জামান বলেন, আমার সব আবাদি জমি জহনী কুড়াতে। বোরো মৌসুমে যে ধান পাই তা দিয়ে পুরো বছর চলে না। তাই প্রায় প্রতি বছর আমাকে জমি বিক্রি করে সংসার চালাতে হয়। একই কথা বললেন, সুতির পাড় গ্রামের আবদুর রাজ্জাক। তিনি জানান, এ জমিগুলোতে প্রচুর আমন ধান হতো। কালভার্টের মুখ বন্ধ থাকার কারণে আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। পানি শুকাতে শুকাতে আমনের সময় থাকে না। ইছাকুড়ি গ্রামের গোলাম মওলা জানান, এ মাঠে প্রচুর আমন ধান হয়। বিডিআর ক্যাম্পের দক্ষিণে একটা কালভার্ট ছিল। ’৮৮ সালের বন্যায় কালভার্টটি উল্টে গেলে সেখানে মাটি ভরাট করা হয়। সেই থেকে আর আমন ধানের মুখ দেখি না। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অনেক আবেদন করেছি। তিনি ব্যবস্থা নিতেও চেয়েছেন, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। জানা গেছে, জহনী কুড়াতে একটি ক্যানেল, পূর্ব ইচ্ছাকুড়িতে একটি কালভার্ট ও সুতির পাড়ে একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণ হলে বছরের ৯ মাস ধরে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকবে না। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, উল্লিখিত স্থানে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে নির্বাহী কর্মকর্তা হানিফ উদ্দিন জানান, এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছি এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছি।

No comments:

About Me

My photo
প্রতিদিন বিভিন্ন সংবাদপত্র কৃষি বিষয়ে নানান সংবাদ প্রকাশ করে থাকে। এ সকল তথ্য কাজের জন্য খুবই সহায়ক। কিন্তু একজনের পক্ষে প্রতিদিন সবগুলো সংবাদপত্র পড়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। অথচ এ সকল বিষয়গুলো আমাদের সবার জন্য কম-বেশি দরকারি। এ চিন্তা থেকে আমরা বিভিন্ন সংবাদপত্র নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও কৃষি বিষয়ক সংবাদসমূহ তথ্যায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছ্।ি আশা করছি সংবাদ তথ্যায়নের এ প্রকিৃয়াটি আমাদের কাজের জন্য সহায়ক হবে। পার্টিসিপেটরি রিসার্চ এন্ড অ্যাকশান নেটওয়ার্ক- প্রান এ কাজটি সঞ্চালনের কাজ করছে।

Krishi Khobor