Wednesday, September 10, 2008

বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষক

০৯.০৯.০৮
।। ডেসটিনি ।। নিতুশর্মা

বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। দেশের শতকরা ৮০ ভাগ লোক প্রত্যক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এ দেশের অধিকাংশ লোকের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উপায় হচ্ছে কৃষি। আমাদের জাতীয় আয়ের শতকরা ৪৮ ভাগ আসে কৃষি থেকে। তাই আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতির একমাত্র সোপান হচ্ছে কৃষি। কারণ কৃষক ও কৃষির উন্নতির ওপর দেশের উন্নতি নির্ভর করে।
কৃষি ও কৃষক বাংলাদেশের প্রাণ। পলি মাটি সমৃদ্ধ বাংলার মাঠে ময়দানে যে বিপুল ফসলের সম্ভার উৎপাদন করে তারাই কৃষক নামে পরিচিত। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। বাংলাদেশ মানেই গ্রাম বাংলা পল্লী বাংলা মাটি ও মানুষের বাংলা। এক কথায় গোটা বাংলাই কৃষিক্ষেত্র। সুতরাং কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষই কৃষিজীবী এবং সমাজে তারা খেটে খাওয়া কৃষক হিসেবে পরিচিত।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নতি ও অগ্রগতিতে কৃষি ও কৃষক কেবল গুরুত্বপূর্ণই নয়, অপরিহার্য। এখানে কৃষি উৎপাদন ভালো হলে জাতীয় অর্থনীতি হয়ে ওঠে সবল ও সমৃদ্ধ। কিন্তু কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে দেশে নেমে আসে অভাব ও দুর্যোগ। বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষক কেবল খাদ্য উৎপাদনই নয়, পুষ্টি সমস্যা সমাধানে শিল্পায়ন রফতানি আয় বৃদ্ধিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এবং সর্বোপরি জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের দেশে উৎপাদিত পণ্যের অধিকাংশই আসে কৃষি থেকে, যা খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে শুরু করে শিল্পের।
বাংলাদেশের কৃষকরা এক সময় গৌরবময় জীবনযাপন করত। ‘গোলা ভরা ধান আর গোয়াল ভরা গরু ছিল’ প্রত্যেক কৃষকের বাড়িতে। পুকুরে ছিল মাছ। মোটা ভাত, মোটা কাপড়ের অভাব হয়নি কোনোদিন বাংলার কৃষকের। অবশ্য এর পেছনে কারণ ছিল। তখন দেশের লোকসংখ্যা ছিল কম, জমি ছিল পর্যাপ্ত কৃষকদের মহাজনের ঋণের বোঝা বইতে হতো না। তখনকার দিনে কৃষকের স্বাস্থ্য ছিল সবল। মনোবল ছিল অটুটু। তাদের সমাজ জীবনে বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠান ছিল। মোট কথা কৃষকের হাতে গড়া সোনার বাংলা ধনৈশ্বর্যে ভরপুর ছিল। বাংলার কৃষক সুখে দিনযাপন করত।
বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষকের কথা মনে পড়লে আমাদের সামনে ভেসে উঠে এক রোগ-জীর্ণ, অস্থি কঙ্কালসার দৈন্যের চরম প্রতিমূর্তি। পরণে বস্ত্র নেই মুখে চরম হতাশাও নৈরাজ্যের ছাপ, দারিদ্র্য, ব্যাধি, কুসংস্কার, অশিক্ষা, তাকে ঘিরে রাজত্ব করছে। এ হতভাগ্য কৃষকের কথা স্মরণ করেই রবীন্দ্রনাথ বলেছেনÑ
‘ওই যে দাঁড়ায়ে নত শিরে
মূক সবে ম্লান মুখে লেখা শত শতাব্দীর বেদনার করুণÑ কাহিনী,
স্কন্ধে যত চাপে ভার বহি চলে মন্দ গতি যতক্ষণ থাকে প্রাণ তার।’
এই হচ্ছে এদেশের অর্থনীতির নিয়ন্তা কৃষকের বর্তমান অবস্থা বাংলাদেশের কৃষকের এ করুণ অবস্থার পেছনে বহুবিধ কারণ রয়েছে। আমাদের কৃষিতে এখনো পুরোপুরিভাবে বিজ্ঞানের ছোঁয়া লাগেনি। এদেশের কৃষকরা এখনো মান্ধাতার আমলের পদ্ধতিতে জমি চাষাবাদ করে থাকে। ফলে উৎপাদন হয় অনেক কম। কৃষকের দূরবস্থার কারণ বলছি।
(১) অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কৃষি কাজ
(২) উৎপাদিত ফসলের কম মূল্য
(৩) নিজস্ব জমির অভাব
(৪) সেচ ব্যবস্থার অভাব
(৫) প্রাকৃতিক দুর্যোগ
(৬) সার ও কীটনাশকের অভাব
এ ছাড়াও জমির খ-বিখ-তা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, কৃষিখাতে ভর্তুকির অভাব, অজ্ঞতার অভাব ইত্যাদি কারণে কৃষকের ভাগ্যের উন্নতি ঘটছে না।
কৃষি ও কৃষকের অবস্থার উন্নতির জন্য আমাদের বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে
প্রথমত, কৃষকের নিজস্ব জমির ব্যবস্থা করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, প্রয়োজনের কম দামে কৃষকদের সার ও কীটনাশক সরবরাহ করতে হবে।
তৃতীয়ত, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য দিতে হবে।
চতুর্থত, প্রয়োজনের সময় কৃষকদের কৃষি ঋণ দিতে হবে।
পঞ্চমত, পচনশীল ফসল সংরক্ষণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ষষ্ঠত, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ তথা কলের লাঙল দ্বারা জমি চাষের সুযোগ করে দিতে হবে।
সপ্তমত, কৃষকেরা যাতে কম মূল্যে সেচযন্ত্র ও অন্যান্য কৃষি যন্ত্রপাতি পায় তার ব্যবস্থা করতে হবে।
অষ্টমত, আধুনিক চাষ পদ্ধতি সম্বন্ধে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
তাছাড়া কৃষকদের মধ্যে শিক্ষার বিস্তার ঘটিয়ে খামার পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে কৃষিখাতে অধিক হারে ভর্তুকি দিয়ে কৃষকদের অসুবিধাগুলো অনেকাংশ লাঘব করা যায়।
বাংলাদেশে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। দেশে যে বছর কৃষি উৎপাদন ভালো হয়, সে বছর কোনো অভাব থাকে না। উৎপাদন খারাপ হলে দেশে চরম অভাব বিরাজ করে। তাই কৃষিনির্ভর এদেশে কৃষিকে বাদ দিয়ে উন্নতির কথা ভাবাই যায় না।
কৃষি প্রধান বাংলাদেশের কৃষির উন্নতির জন্য প্রথমে কৃষকদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধানে সচেষ্ট হতে হবে। কারণ কৃষক ও কৃষির উন্নতির মধ্যেই আমাদের কল্যাণ নিহিত রয়েছে। মাথা ছাড়া যেমন মানবদেহ ভাবা যায় না কৃষির উন্নতি ছাড়াও আমাদের অর্থনীতির উন্নতির কথা ভাবা যায় না। তাই বৈজ্ঞানিক চাষ পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষির উন্নতি ঘটাতে পারলেই আমাদের অর্থনীতির মরা গাঙ্গে জোয়ার আসবে। তখন সোনার বাংলা ভরে উঠবে ধনে ধান্যে পুষ্প পল্লবে।
ড. আতাউর রহমান বলেন, ড়ঁৎ সধরহ ভড়পঁং ংযড়ঁষফ নব ঃড় ফবাবষড়ঢ় ঃযব ঢ়ড়ড়ৎ পড়হফরঃরড়হ ড়ভ ঃযব ঢ়বধংধহঃৎু, যিরপয পড়ঁষফ যবষঢ় ঁং ঃড় ৎবধপঃ ঃযব যরমযবংঃ ঢ়রহহধপষব ড়ভ ংঁপপবংং.

No comments:

About Me

My photo
প্রতিদিন বিভিন্ন সংবাদপত্র কৃষি বিষয়ে নানান সংবাদ প্রকাশ করে থাকে। এ সকল তথ্য কাজের জন্য খুবই সহায়ক। কিন্তু একজনের পক্ষে প্রতিদিন সবগুলো সংবাদপত্র পড়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। অথচ এ সকল বিষয়গুলো আমাদের সবার জন্য কম-বেশি দরকারি। এ চিন্তা থেকে আমরা বিভিন্ন সংবাদপত্র নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও কৃষি বিষয়ক সংবাদসমূহ তথ্যায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছ্।ি আশা করছি সংবাদ তথ্যায়নের এ প্রকিৃয়াটি আমাদের কাজের জন্য সহায়ক হবে। পার্টিসিপেটরি রিসার্চ এন্ড অ্যাকশান নেটওয়ার্ক- প্রান এ কাজটি সঞ্চালনের কাজ করছে।

Krishi Khobor